কৃত্রিম চুল কারখানায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত নিয়ে রহস্য
jugantor
কৃত্রিম চুল কারখানায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত নিয়ে রহস্য

  জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৬:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি কৃত্রিম চুল কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৭ জনকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র মাথাভাঙ্গা এলাকায় টিনশেড ভাড়াবাসায় সম্প্রতি মিলিয়ন গোল্ড লিমিটেড ইউনিট-১ নামে একটি কৃত্রিম চুল কারখানা চালু করা হয়। সাইনবোর্ডবিহীন কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকরা নারী ও শিশু। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে পঞ্চম হতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকাসহ নানাবিধ অসঙ্গতির মাঝে চালু করা কারখানায় কাজ করছে প্রায় ছয় শতাধিক নারী ও শিশু শ্রমিক।

এলাকাবাসী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় কারখানাটিতে আকস্মিক চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে দেখা যায়, সেখানে কর্মরত মেয়ে শিশু শ্রমিকরা চিৎকার করে চারিদিকে ছোটাছুটি করছেন। একপর্যায় বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কয়েকজন পড়ে থাকায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কারখানায় কর্মরত শিশু শ্রমিক জেরিন, সোহাগী, নুরনাহারসহ অনেকেই জানান, কেউ বলছে কারখানার দেয়াল ভেঙে পড়ছে, কেউ বলছে কারখানায় আগুন লেগেছে, কেউবা বলছে একজনের চুল ফ্যানের সঙ্গে আটকে গিয়ে একটি মেয়ে মারা যাচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। নিজের জীবন বাচাতে গিয়ে দ্রুত কারখানা হতে বের হতে চেষ্টা করি। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে পায়ের নিচে পড়ে অনেকেই আহত হন।

ফ্যানের সঙ্গে মাথার চুল আটকে যাওয়া আহত শিশু শ্রমিক মিতালী মোবাইল ফোনে জানায়, আমি গাবরোল তহশীলদারপাড়া স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। শনিবার ফ্যানের সঙ্গে আমার চুল আটকে গেলে আহত হই। চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসি। আমি অসুস্থ তাই কাজে যেতে পারি নাই।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত কারখানার ভিতরে শ্রমিকদের ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে কারখানাটির অ্যাডমিন নিয়ামুল ইসলাম, এইচআর সফিকুল ইসলাম, মোস্তাকুর রহমান, আব্দুস ছালাম জানান, কারখানা কিংবা আমাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে চাইলে আমাদের জিএম স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। তবে জিএমের নম্বরে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসনাত বলেন, আমি ডিউটিতে আসার আগে রোগীগুলো ভর্তি হয়েছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা শারমীন নামে এক রোগীর জ্ঞান না ফিরলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান শিশু শ্রমিক দিয়ে কেউ যদি কোনো কারখানা পরিচালনা করে সেটি বেআইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃত্রিম চুল কারখানায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত নিয়ে রহস্য

 জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি কৃত্রিম চুল কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৭ জনকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র মাথাভাঙ্গা এলাকায় টিনশেড ভাড়াবাসায় সম্প্রতি মিলিয়ন গোল্ড লিমিটেড ইউনিট-১ নামে একটি কৃত্রিম চুল কারখানা চালু করা হয়। সাইনবোর্ডবিহীন কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকরা নারী ও শিশু। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে পঞ্চম হতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকাসহ নানাবিধ অসঙ্গতির মাঝে চালু করা কারখানায় কাজ করছে প্রায় ছয় শতাধিক নারী ও শিশু শ্রমিক।

এলাকাবাসী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় কারখানাটিতে আকস্মিক চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে দেখা যায়, সেখানে কর্মরত মেয়ে শিশু শ্রমিকরা চিৎকার করে চারিদিকে ছোটাছুটি করছেন। একপর্যায় বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কয়েকজন পড়ে থাকায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কারখানায় কর্মরত শিশু শ্রমিক জেরিন, সোহাগী, নুরনাহারসহ অনেকেই জানান, কেউ বলছে কারখানার দেয়াল ভেঙে পড়ছে, কেউ বলছে কারখানায় আগুন লেগেছে, কেউবা বলছে একজনের চুল ফ্যানের সঙ্গে আটকে গিয়ে একটি মেয়ে মারা যাচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। নিজের জীবন বাচাতে গিয়ে দ্রুত কারখানা হতে বের হতে চেষ্টা করি। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে পায়ের নিচে পড়ে অনেকেই আহত হন।

ফ্যানের সঙ্গে মাথার চুল আটকে যাওয়া আহত শিশু শ্রমিক মিতালী মোবাইল ফোনে জানায়, আমি গাবরোল তহশীলদারপাড়া স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। শনিবার ফ্যানের সঙ্গে আমার চুল আটকে গেলে আহত হই। চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসি। আমি অসুস্থ তাই কাজে যেতে পারি নাই।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত কারখানার ভিতরে শ্রমিকদের ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে কারখানাটির অ্যাডমিন নিয়ামুল ইসলাম, এইচআর সফিকুল ইসলাম, মোস্তাকুর রহমান, আব্দুস ছালাম জানান, কারখানা কিংবা আমাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে চাইলে আমাদের জিএম স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। তবে জিএমের নম্বরে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসনাত বলেন, আমি ডিউটিতে আসার আগে রোগীগুলো ভর্তি হয়েছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা শারমীন নামে এক রোগীর জ্ঞান না ফিরলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান শিশু শ্রমিক দিয়ে কেউ যদি কোনো কারখানা পরিচালনা করে সেটি বেআইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন