অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বিটিভির শিল্পী
jugantor
অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বিটিভির শিল্পী

  কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৬:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী মোস্তফা বয়াতি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পল্লীগানের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, হবিগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় বাউল শিল্পীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি আর গান গাইতে পারছেন না। অর্থের অভাবে চিকিৎসাও বন্ধ।

গানই ছিল তার একমাত্র উপার্জনের পথ। বর্তমানে গান গাইতে না পেরে পরিবার ও ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না।

জানা যায়, ওস্তাদ লাল মিয়া বয়াতির আশ্রয়ে থেকে গানের প্রথম তালিম নিয়ে কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সর্বত্র বাউল ও পালা গানের জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গান করেছিলেন। তার গাওয়া ৩৫টি ক্যাসেট বাজারে বের হয়েছে।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গীত শিল্পী চূড়ান্ত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে পল্লীগানের নিয়মিত শিল্পী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তিনি কর্নেল (অব.) জিহাদ খানের কাছে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জোরে কথা বলা ও গান গাওয়া নিষেধ। প্রতি মাসে তার ৩ হাজার টাকার ওষুধ লাগে।

ভিটেবাড়ি ছাড়া তার কোনো ফসলি জমি নেই। গান গেয়ে জমানো কিছু টাকা ও সামান্য ফসলি জমি বিক্রি করে চিকিৎসার পিছনে ব্যয় করে ফেলেছেন। বর্তমানে চিকিৎসা, সংসার চালানো ও ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বয়াতির পিতা মেনু মিয়া ও মাতা সুফিয়া খাতুন জানান, আমাদের ছেলে মোস্তফা ছোটবেলা থেকে বাউল গানের প্রতি নেশা। ওস্তাদ লাল মিয়ার বয়াতির হাত ধরে বাউল শিল্পী হয়েছেন। এখন ছেলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর গান গাইতে পারে না। আমাদেরও বয়স হয়ে গেছে। কাজ-কামও করতে পারি না। চোখের সামনে ছেলের কষ্ট সহ্য করেতে পারছি না। মোস্তফা বাড়িতে কয়েকজন ছেলে মেয়েকে গান শেখায়, এ সামান্য টাকা দিয়ে কোনো রকম দিন পার করছি।

হৃদরোগে আক্রান্ত বাউল শিল্পী মোস্তফা বয়াতি জানান, ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আমি আর গান গাইতে পারি না। গানই আমার একমাত্র সম্পদ ছিল। আমার সামান্য যা ছিল সব আমার চিকিৎসার পেছনে খরচ করে ফেলেছি। এখন আমার মা, বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি। আমার চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চাই।

অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বিটিভির শিল্পী

 কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী মোস্তফা বয়াতি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পল্লীগানের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, হবিগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় বাউল শিল্পীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি আর গান গাইতে পারছেন না।  অর্থের অভাবে চিকিৎসাও বন্ধ।

গানই ছিল তার একমাত্র উপার্জনের পথ। বর্তমানে গান গাইতে না পেরে পরিবার ও ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না।  

জানা যায়, ওস্তাদ লাল মিয়া বয়াতির আশ্রয়ে থেকে গানের প্রথম তালিম নিয়ে কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সর্বত্র বাউল ও পালা গানের জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গান করেছিলেন। তার গাওয়া ৩৫টি  ক্যাসেট বাজারে বের হয়েছে।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গীত শিল্পী চূড়ান্ত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে পল্লীগানের নিয়মিত শিল্পী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তিনি কর্নেল (অব.) জিহাদ খানের কাছে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জোরে কথা বলা ও গান গাওয়া নিষেধ। প্রতি মাসে তার ৩ হাজার টাকার ওষুধ লাগে।

ভিটেবাড়ি ছাড়া তার কোনো ফসলি জমি নেই। গান গেয়ে জমানো কিছু টাকা ও সামান্য ফসলি জমি বিক্রি করে চিকিৎসার পিছনে ব্যয় করে ফেলেছেন। বর্তমানে চিকিৎসা, সংসার চালানো ও ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।  তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বয়াতির পিতা মেনু মিয়া ও মাতা সুফিয়া খাতুন জানান, আমাদের ছেলে মোস্তফা ছোটবেলা থেকে বাউল গানের প্রতি নেশা। ওস্তাদ লাল মিয়ার বয়াতির হাত ধরে বাউল শিল্পী হয়েছেন। এখন ছেলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর গান গাইতে পারে না। আমাদেরও বয়স হয়ে গেছে। কাজ-কামও করতে পারি না। চোখের সামনে ছেলের কষ্ট সহ্য করেতে পারছি না। মোস্তফা বাড়িতে কয়েকজন ছেলে মেয়েকে গান শেখায়, এ সামান্য টাকা দিয়ে কোনো রকম দিন পার করছি।

হৃদরোগে আক্রান্ত বাউল শিল্পী মোস্তফা বয়াতি জানান, ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আমি আর গান গাইতে পারি না। গানই আমার একমাত্র সম্পদ ছিল। আমার সামান্য যা ছিল সব আমার চিকিৎসার পেছনে খরচ করে ফেলেছি। এখন আমার মা, বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি। আমার চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন