‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেই কক্সবাজারকে সাজানো হচ্ছে’
jugantor
‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেই কক্সবাজারকে সাজানো হচ্ছে’

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫৭:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায় বলেছেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কক্সবাজারে তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে রেললাইন, তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে ২৫টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চেহারা। আর পর্যটন খাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুয়ার যেমন খুলবে, তেমনি কক্সবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হবে বিদেশি পর্যটক।

সোমবার আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলেক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত র‌্যালি পরবর্তী এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ সময় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় তিনি পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এর আগে র‌্যালিটি সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে লাবনী পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউস, ট্যুর অপারেটরস্ অ্যাসোসিয়েশন, কিটকট মালিক সমিতি, ঝিনুক, হকার ব্যবসায়ীসহ পর্যটনসেবী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রধান একেএম তারিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবুল কাশেম সিকদার, পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এমএ হাসিব বাদল ও সভাপতি আনোয়ার কামাল।

অনুষ্ঠান শেষে সৈকতে আগত পর্যটকদের ফুল দিয়ে ‘পর্যটন দিবসের’ শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে আলোক প্রজ্জ্বলন, ফানুস উড়ানো ও আতশবাজি করা হয়।

এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আবাসিক হোটেলগুলো সাজিয়ে নিয়েছেন হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস মালিকরা। রুম বুকিংয়ে দেয়া হয়েছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘হোয়াইট অর্কিড’ নামে হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রিয়াদ ইফতেখার জানান, কক্সবাজারে প্রতিদিন লাখো মানুষের আবাসনের সুযোগ রয়েছে। শুধু দেশের যেকোনো শহর নয়, বিশ্বের নানান পর্যটন নগরীর চেয়ে এখানে আবাসন খরচ তুলনামূলক কম বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক রেস্তোঁরা কয়েকশ কনফেকশনারি পর্যটকদের খাবারের সেবা দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা যেকোন পর্যটক হাত বাড়ালেই পান পছন্দের খাবার।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের পাশাপাশি নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মনিটর করা হচ্ছে অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনূর রশীদ জানান, বিশেষ ছুটি ছাড়াও সপ্তাহিক ছুটির দিনে লাখো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। পর্যটকরা যাতে ছিনতাই, ইভটিজিং, হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা খাবার নিয়ে প্রতারণার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পর্যটন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত টহলে থাকেন। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের একটি নাম্বার পর্যটন এলাকার তথ্য সেবা কেন্দ্রে দেয়া রয়েছে। যেকোনো বিপদ বা প্রয়োজনে সেই নাম্বারে যোগাযোগ করলে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’ এ স্লোগানে এবার পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের।

‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেই কক্সবাজারকে সাজানো হচ্ছে’

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায় বলেছেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কক্সবাজারে তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে রেললাইন, তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে ২৫টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চেহারা। আর পর্যটন খাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুয়ার যেমন খুলবে, তেমনি কক্সবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হবে বিদেশি পর্যটক।

সোমবার আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলেক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত র‌্যালি পরবর্তী এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ সময় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় তিনি পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এর আগে র‌্যালিটি সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে লাবনী পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউস, ট্যুর অপারেটরস্ অ্যাসোসিয়েশন, কিটকট মালিক সমিতি, ঝিনুক, হকার ব্যবসায়ীসহ পর্যটনসেবী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রধান একেএম তারিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবুল কাশেম সিকদার, পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এমএ হাসিব বাদল ও সভাপতি আনোয়ার কামাল।

অনুষ্ঠান শেষে সৈকতে আগত পর্যটকদের ফুল দিয়ে ‘পর্যটন দিবসের’ শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে আলোক প্রজ্জ্বলন, ফানুস উড়ানো ও আতশবাজি করা হয়।

এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আবাসিক হোটেলগুলো সাজিয়ে নিয়েছেন হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস মালিকরা। রুম বুকিংয়ে দেয়া হয়েছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘হোয়াইট অর্কিড’ নামে হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রিয়াদ ইফতেখার জানান, কক্সবাজারে প্রতিদিন লাখো মানুষের আবাসনের সুযোগ রয়েছে। শুধু দেশের যেকোনো শহর নয়, বিশ্বের নানান পর্যটন নগরীর চেয়ে এখানে আবাসন খরচ তুলনামূলক কম বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক রেস্তোঁরা কয়েকশ কনফেকশনারি পর্যটকদের খাবারের সেবা দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা যেকোন পর্যটক হাত বাড়ালেই পান পছন্দের খাবার।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের পাশাপাশি নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মনিটর করা হচ্ছে অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনূর রশীদ জানান, বিশেষ ছুটি ছাড়াও সপ্তাহিক ছুটির দিনে লাখো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। পর্যটকরা যাতে ছিনতাই, ইভটিজিং, হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা খাবার নিয়ে প্রতারণার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পর্যটন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত টহলে থাকেন। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের একটি নাম্বার পর্যটন এলাকার তথ্য সেবা কেন্দ্রে দেয়া রয়েছে। যেকোনো বিপদ বা প্রয়োজনে সেই নাম্বারে যোগাযোগ করলে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’ এ স্লোগানে এবার পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন