‘ভুল চিকিৎসায়’ মায়ের মৃত্যু, বিচার চাইতে গিয়ে মামলার শিকার
jugantor
‘ভুল চিকিৎসায়’ মায়ের মৃত্যু, বিচার চাইতে গিয়ে মামলার শিকার

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৭:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

ভুল চিকিৎসায় মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে কেরানীগঞ্জের একটি ক্লিনিকের ডাক্তার, ব্যবস্থাপক ও মালিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত শেফালীর মেয়ে খাদিজা আক্তার পিংকি।

মায়ের মৃত্যুর বিচার চাইতে গিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েছেন নিহত শেফালীর তিন সন্তান খাদিজা আক্তার পিংকি, সুরুজ শিকদার ও চান মিয়া। তিন সন্তানের বিরুদ্ধে ক্লিনিক ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুস ছালাম, পরিদর্শক (তদন্ত) রমজানুল হক ও এসআই জিয়াউদ্দিন।

সোমবার বিকালে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন নিহত শেফালীর তিন সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়ে খাদিজা আক্তার পিংকি বলেন, বাম হাতের কনুইয়ের উপরে থাকা একটি টিউমারের চিকিৎসার জন্য গত ৩ জুলাই কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে অবস্থিত আল বারাকা মডেল হাসপাতালে যান তার মা শেফালী বেগম। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক গীরিশ চন্দ্র বিশ্বাস রোগী দেখার পর দ্রুত অপারেশন করতে বলেন। অন্যথায় রোগীর অবস্থা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান। ওই দিন সন্ধ্যায় মাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এ সময় তার হাত অবশ না করে তাকে পুরো অজ্ঞান করে অপারেশন শুরু করেন ডা. গিরীশ।

কিছুক্ষণ পর ডা. গিরীশ জানান, অপারেশন সাকসেসফুল। কিছুক্ষণ পর রোগীকে ওটি থেকে জেনারেল বেডে ট্রান্সফার করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় রোগীকে ওটি থেকে বের না করলে আমরা হাসপাতালের ইনফরমেশন ডেস্কে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে আমাদের বলা হয়, রোগীর জ্ঞান ফিরছে না। জ্ঞান না ফেরার কারণে রোগীকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমাদের অগোচরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই মাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করে রেখে আসে। খবর পেয়ে দ্রুত আমরা মিটফোর্ড হাসপাতালে গেলেও আইসিইউতে ভর্তির কারণে মাকে দেখতে পাইনি। এমন অবস্থার মধ্যে ১১ জুলাই সকালে মা মারা গেছেন বলে জানান তারা।

খাদিজা আক্তার আরও বলেন, এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় জিডি ও মামলা করতে গেলে ক্লিনিকের মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে থানা কর্তৃপক্ষ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। এরপর আমি বাদী হয়ে গত ১৮ জুলাই আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করি। মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।

তিনি বলেন, ক্লিনিকের ম্যানেজার আবুল কাশেম বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট ঘটনার ৪৬ দিন পর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসির সহযোগিতায় আমাদের তিনি ভাইবোনের বিরুদ্ধে উল্টো ক্লিনিক ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গত শুক্রবার রাতে সুরুজ শিকদারকে থানায় ডেকে নেন এসআই জিয়াউদ্দিন ও পরিদর্শক (তদন্ত) রমজানুল হক। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয় পুলিশ। পরে বিজ্ঞ আদালত ওই দিনই তাদের জামিন মঞ্জুর করলে তিনি মুক্ত হন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তিন ভাইবোন পুলিশি হয়রানি ও ক্লিনিকের মালিক রোহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান জামানের হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, ভুল চিকিৎসায় মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে নিহতের সন্তানরা ক্লিনিক ভাংচুর করেছিল মর্মে থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় নিহতের ছেলে সুরুজ শিকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখানে পুলিশের হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ঘটনার ৪৬ দিন পর কেন মামলা হলো- এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

ওসি আরও বলেন, যদি কোনো কর্মকর্তা নিহতের স্বজনদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে থাকে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল বারাকা মডেল হাসপাতালের মালিক ও রোহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান জামানের বক্তব্য জানতে ক্লিনিকে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

‘ভুল চিকিৎসায়’ মায়ের মৃত্যু, বিচার চাইতে গিয়ে মামলার শিকার

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভুল চিকিৎসায় মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে কেরানীগঞ্জের একটি ক্লিনিকের ডাক্তার, ব্যবস্থাপক ও মালিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত শেফালীর মেয়ে খাদিজা আক্তার পিংকি। 

মায়ের মৃত্যুর বিচার চাইতে গিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েছেন নিহত শেফালীর তিন সন্তান খাদিজা আক্তার পিংকি, সুরুজ শিকদার ও চান মিয়া। তিন সন্তানের বিরুদ্ধে ক্লিনিক ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুস ছালাম, পরিদর্শক (তদন্ত) রমজানুল হক ও এসআই জিয়াউদ্দিন। 

সোমবার বিকালে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন নিহত শেফালীর তিন সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়ে খাদিজা আক্তার পিংকি বলেন, বাম হাতের কনুইয়ের উপরে থাকা একটি টিউমারের চিকিৎসার জন্য গত ৩ জুলাই কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে অবস্থিত আল বারাকা মডেল হাসপাতালে যান তার মা শেফালী বেগম। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক গীরিশ চন্দ্র বিশ্বাস রোগী দেখার পর দ্রুত অপারেশন করতে বলেন। অন্যথায় রোগীর অবস্থা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান।  ওই দিন সন্ধ্যায় মাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এ সময় তার হাত অবশ না করে তাকে পুরো অজ্ঞান করে অপারেশন শুরু করেন ডা. গিরীশ। 

কিছুক্ষণ পর ডা. গিরীশ জানান, অপারেশন সাকসেসফুল। কিছুক্ষণ পর রোগীকে ওটি থেকে জেনারেল বেডে ট্রান্সফার করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় রোগীকে ওটি থেকে বের না করলে আমরা হাসপাতালের ইনফরমেশন ডেস্কে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে আমাদের বলা হয়, রোগীর জ্ঞান ফিরছে না। জ্ঞান না ফেরার কারণে রোগীকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

আমাদের অগোচরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই মাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করে রেখে আসে। খবর পেয়ে দ্রুত আমরা মিটফোর্ড হাসপাতালে গেলেও আইসিইউতে ভর্তির কারণে মাকে দেখতে পাইনি। এমন অবস্থার মধ্যে ১১ জুলাই সকালে মা মারা গেছেন বলে জানান তারা। 

খাদিজা আক্তার আরও বলেন, এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় জিডি ও মামলা করতে গেলে ক্লিনিকের মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে থানা কর্তৃপক্ষ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। এরপর আমি বাদী হয়ে গত ১৮ জুলাই আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করি। মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।

তিনি বলেন, ক্লিনিকের ম্যানেজার আবুল কাশেম বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট ঘটনার ৪৬ দিন পর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসির সহযোগিতায় আমাদের তিনি ভাইবোনের বিরুদ্ধে উল্টো ক্লিনিক ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

গত শুক্রবার রাতে সুরুজ শিকদারকে থানায় ডেকে নেন এসআই জিয়াউদ্দিন ও পরিদর্শক (তদন্ত) রমজানুল হক। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয় পুলিশ। পরে বিজ্ঞ আদালত ওই দিনই তাদের জামিন মঞ্জুর করলে তিনি মুক্ত হন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তিন ভাইবোন পুলিশি হয়রানি ও ক্লিনিকের মালিক রোহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান জামানের হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, ভুল চিকিৎসায় মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে নিহতের সন্তানরা ক্লিনিক ভাংচুর করেছিল মর্মে থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় নিহতের ছেলে সুরুজ শিকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখানে পুলিশের হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ঘটনার ৪৬ দিন পর কেন মামলা হলো- এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। 

ওসি আরও বলেন, যদি কোনো কর্মকর্তা নিহতের স্বজনদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে থাকে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল বারাকা মডেল হাসপাতালের মালিক ও রোহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান জামানের বক্তব্য জানতে ক্লিনিকে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন