অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ
jugantor
অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০২:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ

বালুদস্যুদের হাত থেকে পদ্মা নদীকে বাঁচানোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা। সোমবার নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় করা এ সমাবেশে পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানান তারা।

সমাবেশে তাদের স্লোগান ছিল— ‘নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও, পদ্মা বাঁচাও রাজশাহী বাঁচাও’।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদীর প্রতি অবহেলার জন্য অনেক সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে। নদী মানেই জীবন। পদ্মা নদীকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করছে একশ্রেণির বালুদস্যু। তারা অপরিকল্পিতভাবে পদ্মার বুক থেকে বালু ও মাটি কেটে নিচ্ছে। এর ফলে পদ্মার গতিপথে বছর বছর পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়ছে নদীভাঙন ও পরিবেশ দূষণ। পদ্মার বুকে চলা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। পদ্মার বিপর্যয়ের কারণে রাজশাহীর প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পদ্মাপাড়ের লাখো মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, বছরের আট মাসই পদ্মা নদী মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকে। রাজশাহীর মানুষ অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পদ্মার পানিপ্রবাহকে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। কিন্তু অরিপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উজান থেকে ভাটি পর্যন্ত পদ্মার ২২৫ কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড় ভাঙছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এক বছরে প্রকল্পগ্রহণ করে তিন বছরেও শেষ করে না। ফলে ভাঙনরোধে দেওয়া টাকা কোনো কাজেই আসছে না।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু সমাবেশে জানান, ইজারাদাররা বালু উত্তোলনের কোনো নীতিমালা মানছেন না। আবার রাজশাহীর জেলা প্রশাসন থেকে ইজারাদাতা সংস্থার বিষয়ে কোনো তদারকিও নেই। পদ্মার মধ্যপ্রান্ত থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের শর্ত থাকলেও ইজারাদাররা নদীপাড়ের নিচ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বালুমাটি কেটে তুলছে। ফলে পদ্মার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এসব বালুমাটি দিনেরবেলায় নগরীর ভেতর দিয়ে ভারি যানবাহনে পরিবহণ করা হচ্ছে। বালুদস্যুদের এই অরাজকতা ঠেকাতে না পারলে পদ্মার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে হওয়া সমাবেশ ও মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সেখানে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন, রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা প্রমুখ।

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ
ফাইল ছবি

বালুদস্যুদের হাত থেকে পদ্মা নদীকে বাঁচানোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা। সোমবার নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় করা এ সমাবেশে পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানান তারা।

সমাবেশে তাদের স্লোগান ছিল— ‘নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও, পদ্মা বাঁচাও রাজশাহী বাঁচাও’।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদীর প্রতি অবহেলার জন্য অনেক সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে। নদী মানেই জীবন। পদ্মা নদীকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করছে একশ্রেণির বালুদস্যু। তারা অপরিকল্পিতভাবে পদ্মার বুক থেকে বালু ও মাটি কেটে নিচ্ছে। এর ফলে পদ্মার গতিপথে বছর বছর পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়ছে নদীভাঙন ও পরিবেশ দূষণ। পদ্মার বুকে চলা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। পদ্মার বিপর্যয়ের কারণে রাজশাহীর প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পদ্মাপাড়ের লাখো মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, বছরের আট মাসই পদ্মা নদী মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকে। রাজশাহীর মানুষ অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পদ্মার পানিপ্রবাহকে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। কিন্তু অরিপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উজান থেকে ভাটি পর্যন্ত পদ্মার ২২৫ কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড় ভাঙছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এক বছরে প্রকল্পগ্রহণ করে তিন বছরেও শেষ করে না। ফলে ভাঙনরোধে দেওয়া টাকা কোনো কাজেই আসছে না।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু সমাবেশে জানান, ইজারাদাররা বালু উত্তোলনের কোনো নীতিমালা মানছেন না। আবার রাজশাহীর জেলা প্রশাসন থেকে ইজারাদাতা সংস্থার বিষয়ে কোনো তদারকিও নেই। পদ্মার মধ্যপ্রান্ত থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের শর্ত থাকলেও ইজারাদাররা নদীপাড়ের নিচ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বালুমাটি কেটে তুলছে। ফলে পদ্মার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এসব বালুমাটি দিনেরবেলায় নগরীর ভেতর দিয়ে ভারি যানবাহনে পরিবহণ করা হচ্ছে। বালুদস্যুদের এই অরাজকতা ঠেকাতে না পারলে পদ্মার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে হওয়া সমাবেশ ও মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সেখানে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন, রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন