ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা প্রচারণা, ১০৭ নারকেল গাছ কাটলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক
jugantor
ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা প্রচারণা, ১০৭ নারকেল গাছ কাটলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক

  নাটোর প্রতিনিধি  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:২৪:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের কিছু নার্সারি মালিক সাধারণ কৃষকদের নানা মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে বিদেশি ফলের গাছ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নাটোরে ১০৭টি ভিয়েতনামী ও ক্যারালা হাইব্রিড জাতের নারকেল গাছ কেটে ফেলেছেন এক কৃষক।

গাছগুলো ২৪ মাসের মধ্যে ফলন ধরার কথা থাকলেও সাত বছরেও ফলন না ধরায় গাছ গুলো কাটেন দেশের প্রধান পেয়ারা চাষী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক নাটোরের সেলিম রেজা।

নিজে প্রতারিত হয়ে এবং দেশের সাধারণ কৃষকদের প্রতারণা থেকে বাঁচানোর জন্য বৃহস্পতিবার সারাদিন ৮ জন শ্রমিক দিয়ে তিনি তার খামারের এসব বিদেশি নারকেল গাছ কেটে ফেলেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক সেলিম রেজা বলেন, কিছু সরকারি দপ্তরের মোসাহেবি কর্মকর্তার কারণে দেশের লাখো নতুন কৃষি উদ্যোক্তা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হচ্ছেন। হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা মুখরোচক বিজ্ঞাপন দেখে দেশের মানুষ পাগলের মতো বিদেশী ফলের চারা কিনে প্রতারিত হচ্ছে। তিনি নিজেও এমন চারা কিনে প্রতারিত হয়েছেন। এসব চারা নিয়ে দেশে কোন গবেষণা নেই।

তিনি জানান, দেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তাও কারো জানা নেই। কোনো কিছু না জেনেই পাম, কাটিমন, মিয়াজাকি আম, সৌদি খেজুর, আনার, আঙ্গুর, পার্সিমন, রামবুটান, আপেল, কমলা, কুল, লংগান, চাইনিস কমলা, মাল্টার বিভিন্ন জাত, খাটো জাতের নারিকেল এবং একই ফলের বিভিন্ন নাম দিয়ে আকৃষ্ট করে কৃষকদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের পুঁজি শেষ করে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব বিদেশি ফলের গাছ জমিতে রোপণের পর বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও চাষী কোনো ফল পাচ্ছে না।

সাধারণ চাষীরা বলছেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সফলতা প্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব চারা বিক্রি করা দরকার। তাছাড়া কোনো নীতিমালা না থাকায় কোনো প্রতিকারও হয় না। ফলে নার্সারিসহ অনলাইনে চারা বিক্রেতারা লাভের টাকা হাতিয়ে নিলেও ধ্বংস হচ্ছে দেশের কৃষি খাতের একটা বড় অংশ। দেশে সম্ভাবনাময় অনেক লাভজনক পরীক্ষিত দেশি-বিদেশি জাত রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে সরকারি ভাবে কৃষকদের সচেতন করা দরকার। কেউ যেন ইচ্ছে মতো ফেসবুক ইউটিউবে যে কোনো বিদেশি চারার বিজ্ঞাপন দিতে না পারে সেই আইনও থাকা দরকার মনে করেন এসব চাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেছেন, তিনি মাত্র তিন কর্মদিবস আগে এখানে যোগদান করায় বিষয় গুলো ভাবে জানেন না। বিষয়টি জেনে এ সমস্যা থেকে চাষীরা কিভাবে রক্ষা পাবেন না চাষীদের জানাতে চেষ্টা করবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টার নাটোরের উপ পরিচালক মো. মাহমুদুল ফারুক বলেছেন, রোপণের সময় থেকে ২৪ মাস ঠিক মতো পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করলে এই ভিয়েতনামী নারকেল গাছে ২৪ মাসেই ফলন ধরে। বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর প্রমাণ রয়েছে। আমাদের দেশের পোল্ট্রি শিল্পের মতো এসব গাছে সর্বদা পরিচর্যা করতে হয়। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে ফলন আসে না।

ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা প্রচারণা, ১০৭ নারকেল গাছ কাটলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক

 নাটোর প্রতিনিধি 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের কিছু নার্সারি মালিক সাধারণ কৃষকদের নানা মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে বিদেশি ফলের গাছ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নাটোরে ১০৭টি ভিয়েতনামী ও ক্যারালা হাইব্রিড জাতের নারকেল গাছ কেটে ফেলেছেন এক কৃষক।

গাছগুলো ২৪ মাসের মধ্যে ফলন ধরার কথা থাকলেও সাত বছরেও ফলন না ধরায় গাছ গুলো কাটেন দেশের প্রধান পেয়ারা চাষী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক নাটোরের সেলিম রেজা।

নিজে প্রতারিত হয়ে এবং দেশের সাধারণ কৃষকদের প্রতারণা থেকে বাঁচানোর জন্য বৃহস্পতিবার সারাদিন ৮ জন শ্রমিক দিয়ে তিনি তার খামারের এসব বিদেশি নারকেল গাছ কেটে ফেলেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক সেলিম রেজা বলেন, কিছু সরকারি দপ্তরের মোসাহেবি কর্মকর্তার কারণে দেশের লাখো নতুন কৃষি উদ্যোক্তা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হচ্ছেন। হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ফেসবুক ইউটিউবে মিথ্যা মুখরোচক বিজ্ঞাপন দেখে দেশের মানুষ পাগলের মতো বিদেশী ফলের চারা কিনে প্রতারিত হচ্ছে। তিনি নিজেও এমন চারা কিনে প্রতারিত হয়েছেন। এসব চারা নিয়ে দেশে কোন গবেষণা নেই।

তিনি জানান, দেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তাও কারো জানা নেই। কোনো কিছু না জেনেই পাম, কাটিমন, মিয়াজাকি আম, সৌদি খেজুর, আনার, আঙ্গুর, পার্সিমন, রামবুটান, আপেল, কমলা, কুল, লংগান, চাইনিস কমলা, মাল্টার বিভিন্ন জাত, খাটো জাতের নারিকেল এবং একই ফলের বিভিন্ন নাম দিয়ে আকৃষ্ট করে কৃষকদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের পুঁজি শেষ করে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব বিদেশি ফলের গাছ জমিতে রোপণের পর বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও চাষী কোনো ফল পাচ্ছে না।

সাধারণ চাষীরা বলছেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সফলতা প্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব চারা বিক্রি করা দরকার। তাছাড়া কোনো নীতিমালা না থাকায় কোনো প্রতিকারও হয় না। ফলে নার্সারিসহ অনলাইনে চারা বিক্রেতারা লাভের টাকা হাতিয়ে নিলেও ধ্বংস হচ্ছে দেশের কৃষি খাতের একটা বড় অংশ। দেশে সম্ভাবনাময় অনেক লাভজনক পরীক্ষিত দেশি-বিদেশি জাত রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে সরকারি ভাবে কৃষকদের সচেতন করা দরকার। কেউ যেন ইচ্ছে মতো ফেসবুক ইউটিউবে যে কোনো বিদেশি চারার বিজ্ঞাপন দিতে না পারে সেই আইনও থাকা দরকার মনে করেন এসব চাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেছেন, তিনি মাত্র তিন কর্মদিবস আগে এখানে যোগদান করায় বিষয় গুলো ভাবে জানেন না। বিষয়টি জেনে এ সমস্যা থেকে চাষীরা কিভাবে রক্ষা পাবেন না চাষীদের জানাতে চেষ্টা করবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টার নাটোরের উপ পরিচালক মো. মাহমুদুল ফারুক বলেছেন, রোপণের সময় থেকে ২৪ মাস ঠিক মতো পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করলে এই ভিয়েতনামী নারকেল গাছে ২৪ মাসেই ফলন ধরে। বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর প্রমাণ রয়েছে। আমাদের দেশের পোল্ট্রি শিল্পের মতো এসব গাছে সর্বদা পরিচর্যা করতে হয়। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে ফলন আসে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন