‘আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়’
jugantor
‘আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়’

  জোবদুল হক, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫২:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে এক নারী পটলের বস্তার ওপর ভাসতে সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বলতে থাকেন- আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়।

ডুবে যাওয়া ওই নৌকার এক যাত্রী বেগুন ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বোগলাউড়ি থেকে বিশরশিয়ার দিকে যাচ্ছিল। লক্ষ্মীপুর চরের সামনে পৌঁছালে তীব্র স্রোত আর ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি। তখন তারা ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, এর একটুপরই আরও একটি ঢেউ এসে আমাদের নৌকা উল্টে যায়। এ সময় আমি চোখ খুলেই দেখি চারদিকে মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কাকে ধরবো, কাকে বাঁচাবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এমন সময় দেখি দেড় বছরের একটা বাচ্চা পটলের বস্তার ওপর অঝোরে কাঁদছে। তাড়াতাড়ি গিয়ে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করে নৌকায় পৌঁছে দেই।

তিনি আরও বলেন, তারপর পেছনে ঘুরেই ওই বাচ্চার মাকে দেখতে পাই। তিনি ভয়ে বারবার বলছেন- আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়। এরপরই দেখি একজন আমাদের নৌকায় উঠতে বলছেন। আমরা নৌকায় উঠলাম কিন্তু অন্য সবাই কোথায় এ কথা যেন মনেই ছিল না। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে গেছিলাম।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে শিবগঞ্জের বোগলাউড়ি ঘাট থেকে একটি যাত্রীবোঝায় নৌকা পাঁকা ইউনিয়নের বিশ রশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় নৌকাটি লক্ষ্মীপুর চরের সামনে পৌঁছালে বাতাসের কবলে পরে ডুবে যায়।

মৃতরা হলেন- পাঁকা ইউনিয়নের বিশ রশিয়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের স্ত্রী নিলুফা বেগম (৫০) ও সদর উপজেলার নারায়ণপুরের বাবু আলীর মেয়ে মাইশা খাতুন (৫), সদর উপজেলার নারায়ণপুরের ফিটুর ছেলে আসমাউল (৫) ও মেয়ে আয়েশা (৩)। এর মধ্যে নিলুফা ও মাইশা সম্পর্কে নানী-নাতনি এবং আসমাউল-আয়েশা সম্পর্কে ভাইবোন।

নিখোঁজরা হলেন- দশরোশিয়া এলাকার সাজ্জাদ আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম (৫০), একই এলাকার বাবু ইসলামর ছেলে আসমাউল হক (১২), নারায়ণপুর এলাকার হারুন আলীর স্ত্রী ডেইজি বেগম (২৭) ও তার মেয়ে বৃষ্টি খাতুন (৭), জংলা পাড়া এলাকার আমিন আলীর মেয়ে আমেনা খতুন (১২), ও তার ছেলে মাসুম আলী (৯)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ পরিচালক সাবের আলী প্রামাণিক। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিকাল পর্যন্ত নতুন করে কারও সন্ধান মেলেনি।

‘আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়’

 জোবদুল হক, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে এক নারী পটলের বস্তার ওপর ভাসতে সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বলতে থাকেন- আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়।

ডুবে যাওয়া ওই নৌকার এক যাত্রী বেগুন ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বোগলাউড়ি থেকে বিশরশিয়ার দিকে যাচ্ছিল। লক্ষ্মীপুর চরের সামনে পৌঁছালে তীব্র স্রোত আর ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি। তখন তারা ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, এর একটুপরই আরও একটি ঢেউ এসে আমাদের নৌকা উল্টে যায়। এ সময় আমি চোখ খুলেই দেখি চারদিকে মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কাকে ধরবো, কাকে বাঁচাবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এমন সময় দেখি দেড় বছরের একটা বাচ্চা পটলের বস্তার ওপর অঝোরে কাঁদছে। তাড়াতাড়ি গিয়ে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করে নৌকায় পৌঁছে দেই।

তিনি আরও বলেন, তারপর পেছনে ঘুরেই ওই বাচ্চার মাকে দেখতে পাই। তিনি ভয়ে বারবার বলছেন- আমি মরে গেলেও যেন বাচ্চাটা বেঁচে যায়। এরপরই দেখি একজন আমাদের নৌকায় উঠতে বলছেন। আমরা নৌকায় উঠলাম কিন্তু অন্য সবাই কোথায় এ কথা যেন মনেই ছিল না। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে গেছিলাম।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে শিবগঞ্জের বোগলাউড়ি ঘাট থেকে একটি যাত্রীবোঝায় নৌকা পাঁকা ইউনিয়নের বিশ রশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় নৌকাটি লক্ষ্মীপুর চরের সামনে পৌঁছালে বাতাসের কবলে পরে ডুবে যায়।

মৃতরা হলেন- পাঁকা ইউনিয়নের বিশ রশিয়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের স্ত্রী নিলুফা বেগম (৫০) ও সদর উপজেলার নারায়ণপুরের বাবু আলীর মেয়ে মাইশা খাতুন (৫), সদর উপজেলার নারায়ণপুরের ফিটুর ছেলে আসমাউল (৫) ও মেয়ে আয়েশা (৩)। এর মধ্যে নিলুফা ও মাইশা সম্পর্কে নানী-নাতনি এবং আসমাউল-আয়েশা সম্পর্কে ভাইবোন।

নিখোঁজরা হলেন- দশরোশিয়া এলাকার সাজ্জাদ আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম (৫০), একই এলাকার বাবু ইসলামর ছেলে আসমাউল হক (১২), নারায়ণপুর এলাকার হারুন আলীর স্ত্রী ডেইজি বেগম (২৭) ও তার মেয়ে বৃষ্টি খাতুন (৭), জংলা পাড়া এলাকার আমিন আলীর মেয়ে আমেনা খতুন (১২), ও তার ছেলে মাসুম আলী (৯)। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ পরিচালক সাবের আলী প্রামাণিক। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিকাল পর্যন্ত নতুন করে কারও সন্ধান মেলেনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন