এমপির সংবর্ধনায় নেতাদের গণপকেটমার!
jugantor
এমপির সংবর্ধনায় নেতাদের গণপকেটমার!

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০২ অক্টোবর ২০২১, ২০:৪৩:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের জন্য আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গণপকেটমারের ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করলে ধামরাইবাসী সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের জন্য শনিবার দুপুরে পৌর শহরের সরকারী হার্ডিঞ্জ সাকুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পকেটমার চলাকালে কয়েকজন পকেটমার জনতার হাতে আটক হলে তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে অনুষ্ঠান শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-২০, ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রেী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যান। সফর শেষে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করলে তার সম্মানে ধামরাইবাসী শনিবার দুপুরে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পৌর শহরের সরকারী হার্ডিঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা ব্যাপক জনবল নিয়ে নির্বাচনী শোডাউন প্রদর্শন করে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এমপিকে সংবর্ধনা জানাতে বিশাল শোডাউন করে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সংঘবদ্ধ পকেটমারচক্রের সক্রিয় সদস্যরা। নিমিষে শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির পকেট খালি হয়ে যায়। এ সময় জনতার হাতে কয়েকজন পকেটমার আটক হলেও তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে অনুষ্ঠান শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, পকেটমাররা ভিড়ের সুযোগে আমার প্যান্টের পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি এন্ড্রয়েড ফোন নিয়ে যায়।

গাংগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, আমার পায়জামার পকেট থেকে ২০ হাজার ও একটি এন্ড্রয়েড ফোন নিয়েছে।

আমতা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. আলী হোসেনের প্যান্টের পকেট থেকে ৪০ হাজার ও ২টি এন্ড্রয়েড ফোন, আমতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন আহাম্মেদের প্যান্টের পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা ও দুটি এন্ড্রয়েড ফোন নিয়েছে পকেটমাররা।

এরূপ শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন পকেটমাররা নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এসময় ধামরাই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আমিনুল হাসান গার্নেলের নেতৃত্বে কয়েকজন পকেটমারকে ধরে ফেলেন জনতা। পরে তাদেরকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এমপির সংবর্ধনায় নেতাদের গণপকেটমার!

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০২ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের জন্য আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গণপকেটমারের ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করলে ধামরাইবাসী সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের জন্য শনিবার দুপুরে পৌর শহরের সরকারী হার্ডিঞ্জ সাকুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

পকেটমার চলাকালে কয়েকজন পকেটমার জনতার হাতে আটক হলে তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে অনুষ্ঠান শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-২০, ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রেী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যান। সফর শেষে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করলে তার সম্মানে ধামরাইবাসী শনিবার দুপুরে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পৌর শহরের সরকারী হার্ডিঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সম্ভাব্য  চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা ব্যাপক জনবল নিয়ে নির্বাচনী শোডাউন প্রদর্শন করে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এমপিকে সংবর্ধনা জানাতে বিশাল শোডাউন করে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। 

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সংঘবদ্ধ পকেটমারচক্রের সক্রিয় সদস্যরা। নিমিষে শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির পকেট খালি হয়ে যায়। এ সময় জনতার হাতে কয়েকজন পকেটমার আটক হলেও তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে অনুষ্ঠান শেষে  ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, পকেটমাররা ভিড়ের সুযোগে আমার প্যান্টের পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি এন্ড্রয়েড ফোন নিয়ে যায়। 

গাংগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল  কাদের মোল্লা বলেন, আমার পায়জামার পকেট থেকে ২০ হাজার ও একটি এন্ড্রয়েড ফোন নিয়েছে। 

আমতা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. আলী হোসেনের প্যান্টের পকেট থেকে ৪০ হাজার ও ২টি এন্ড্রয়েড ফোন, আমতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন আহাম্মেদের প্যান্টের পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা ও দুটি এন্ড্রয়েড ফোন নিয়েছে পকেটমাররা। 

এরূপ শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন পকেটমাররা নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

এসময় ধামরাই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আমিনুল হাসান গার্নেলের নেতৃত্বে কয়েকজন পকেটমারকে ধরে ফেলেন জনতা। পরে তাদেরকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন