হালদা নদীতে অতিবিপন্ন প্রজাতির ৩১ ডলফিনের মৃত্যু
jugantor
হালদা নদীতে অতিবিপন্ন প্রজাতির ৩১ ডলফিনের মৃত্যু

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৬:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা অতিবিপন্ন প্রজাতির মিঠাপানির একটি ডলফিন গত চার দিনের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আবারো মরে ভেসে উঠেছে।

সোমবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার ১০নং উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের হালদা নদী থেকে এই ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হালদায় এ পর্যন্ত গত চার বছরে দূষণমুক্ত পরিষ্কার পানিতে বিচরণ করা ৩১টি ডলফিনের মৃত্যু নিয়ে বেশ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৃত ডলফিন উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিদুল আলম জানান, স্থানীয় লোকজন রামদাস মুন্সীর হাট এলাকায় নদীতে একটি মৃত ডলফিন ভাসতে দেখে জনৈক খোরশেদ আলম উপজেলা প্রশাসন এবং নৌপুলিশকে খবর দেন। পরে হালদা অস্থায়ী নৌপুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) মো. আশরাফুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় নদীর পাড়ে মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়কারী হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা নদীর নদীতে রামদাস মুন্সীর হাট এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত মৃত ডলফিনটিতে পচন ধরেছে। এটি ছিল হালদা নদী থেকে উদ্ধারকৃত ৩১তম মৃত ডলফিন। ডলফিনটির দেহে পচন ধরার কারণে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা তা শনাক্ত করা সম্ভব যায়নি। তবে ডলফিনটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা প্রয়োজনে দুই মাস পর মাটিচাপা দেয়া ডলফিনের কঙ্কাল (অস্থি বা হাড়) তুলে ময়নাতদন্ত (পরীক্ষা) করবেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, প্রায় সাড়ে ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং প্রায় ৬০-৭০ কেজি ওজনের মৃত ডলফিনটি আইইউসিএনের লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এমনটা দাবি করে ওই হালদা গবেষক বলেন, ডলফিনের এ প্রজাতিটিকে অতি বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হালদায় যে ডলফিন দেখা যায়; তা স্থানীয়ভাবে উতোম বা শুশুক নামে পরিচিত। মিঠাপানির স্তন্যপায়ী এই প্রাণী গেঞ্জেস বা গাঙ্গেয় ডলফিন। সাধারণত পরিবেশ নিদের্শক এসব ডলফিন দূষণমুক্ত পরিষ্কার পানিতে বিচরণ করে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শার বড়ুয়াপাড়া এলাকায় মাছের জন্য পাতানো ঘেরা জালে আটকে ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ কেজি ওজনের একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়।

গবেষকদের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে এই অতি বিপন্ন প্রজাতির আর মাত্র ১২০০ থেকে ১৮০০টি ডলফিন অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে রয়েছে ২০০-২৫০টি ডলফিন। এগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৬ মাসে হালদা নদীতে ১৮টি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়; যা নিয়ে বেশ এত বেশিসংখ্যক ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে চবির হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে সেটা ঠেকাতে সরকারের কাছে কয়েক দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধ এবং নদীতে ড্রেজার চলাচল নিষিদ্ধ করা। কারণ অধিকাংশ ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে- তাদের অনুসন্ধানে এমনটাই উঠে আসে।

হালদা নদীতে অতিবিপন্ন প্রজাতির ৩১ ডলফিনের মৃত্যু

 হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা অতিবিপন্ন প্রজাতির মিঠাপানির একটি ডলফিন গত চার দিনের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আবারো মরে ভেসে উঠেছে।

সোমবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার ১০নং উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের হালদা নদী থেকে এই ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হালদায় এ পর্যন্ত গত চার বছরে দূষণমুক্ত পরিষ্কার পানিতে বিচরণ করা ৩১টি ডলফিনের মৃত্যু নিয়ে বেশ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৃত ডলফিন উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিদুল আলম জানান, স্থানীয় লোকজন রামদাস মুন্সীর হাট এলাকায় নদীতে একটি মৃত ডলফিন ভাসতে দেখে জনৈক খোরশেদ আলম উপজেলা প্রশাসন এবং নৌপুলিশকে খবর দেন। পরে হালদা অস্থায়ী নৌপুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) মো. আশরাফুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় নদীর পাড়ে মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়কারী হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা নদীর নদীতে রামদাস মুন্সীর হাট এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত মৃত ডলফিনটিতে পচন ধরেছে। এটি ছিল হালদা নদী থেকে উদ্ধারকৃত ৩১তম মৃত ডলফিন। ডলফিনটির দেহে পচন ধরার কারণে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা তা শনাক্ত করা সম্ভব যায়নি। তবে ডলফিনটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা প্রয়োজনে দুই মাস পর মাটিচাপা দেয়া ডলফিনের কঙ্কাল (অস্থি বা হাড়) তুলে ময়নাতদন্ত (পরীক্ষা) করবেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, প্রায় সাড়ে ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং প্রায় ৬০-৭০ কেজি ওজনের মৃত ডলফিনটি আইইউসিএনের লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এমনটা দাবি করে ওই হালদা গবেষক বলেন, ডলফিনের এ প্রজাতিটিকে অতি বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হালদায় যে ডলফিন দেখা যায়; তা স্থানীয়ভাবে উতোম বা শুশুক নামে পরিচিত। মিঠাপানির স্তন্যপায়ী এই প্রাণী গেঞ্জেস বা গাঙ্গেয় ডলফিন। সাধারণত পরিবেশ নিদের্শক এসব ডলফিন দূষণমুক্ত পরিষ্কার পানিতে বিচরণ করে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শার বড়ুয়াপাড়া এলাকায় মাছের জন্য পাতানো ঘেরা জালে আটকে ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ কেজি ওজনের একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়।

গবেষকদের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে এই অতি বিপন্ন প্রজাতির আর মাত্র ১২০০ থেকে ১৮০০টি ডলফিন অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে রয়েছে ২০০-২৫০টি ডলফিন। এগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৬ মাসে হালদা নদীতে ১৮টি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়; যা নিয়ে বেশ এত বেশিসংখ্যক ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে চবির হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে সেটা ঠেকাতে সরকারের কাছে কয়েক দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধ এবং নদীতে ড্রেজার চলাচল নিষিদ্ধ করা। কারণ অধিকাংশ ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে- তাদের অনুসন্ধানে এমনটাই উঠে আসে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন