আতঙ্কে কুশিয়ারা নদীর তীরে রাত জেগে পাহারা
jugantor
আতঙ্কে কুশিয়ারা নদীর তীরে রাত জেগে পাহারা

  সিলেট ব্যুরো ও ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৭:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীপাড়ের অর্ধশতাধিক পরিবারের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আতঙ্ক রাক্ষুসে এ নদী যে কোনো সময় গিলে ফেলতে পারে ঘরবাড়ি ও বসতভিটা। নদীভাঙনের ভয়ে অনেকেই রাতে ঘুমাচ্ছেন না। চলছে রাত জেগে পাহারা।

উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে ৬টি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার। এ জনপদের বিশাল অংশজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতঘরও।

উপজেলার মোমিনপুর, মইনপুর, চানপুর, নারায়ণপুর, শাহাদতপুর, উত্তর ইসলামপুর ও বারোহাল গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজনের মধ্যে বাড়িঘর হারানোর এক অজানা আতঙ্ক।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষে গ্রামগুলো অবস্থিত। এসব গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে মুমিনপুর গ্রামের প্রধান রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তা না থাকায় তারেক মিয়ার বাড়ির ওপর দিয়ে কোনোমতে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত বছর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ভাঙন রোধে রাস্তায় মাটি ফেলে মেরামত করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এটিও নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।

জানা গেছে, মোমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর বসতভিটা সবই চলে গেছে নদীগর্ভে। তিনি সহায়সম্বল হারিয়ে দিশেহারা। তার দুটি ঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে নতুন করে বসতঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানেও দেখা দিয়েছে ভাঙন।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ১১ লাখ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে দুটি ঘর নির্মাণ করেছিলাম, সবই চলে গেছে প্রমত্তা কুশিয়ারা নদীর পেটে। রাতে ঘুম নেই। জেগে থাকতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা তারেক আহমদের ঘরের অর্ধেক অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তারেক মিয়া বলেন, আমি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। গত বছর ৭ শতক জমি সর্বনাশা এই নদী গিলে খেয়েছে। নদী ভাঙনের কবল থেকে এই এলাকাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রশাসনের কাছে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বারবার আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উত্তর ইসলামপুর গ্রামের ইসলাম মিয়ার বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি বলেন, আমার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমি অন্যেরে বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমি দিনমজুর, কোনমতে রোজগার করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চলছে। পরিবারের খরচ বহন করে ভাড়া বাসায় থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাইজগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছুফিয়ানুল করিম চৌধুরী বলেন, বারোহাল, মঈনপুর ও মোমিনপুরে প্রায় ১৫টি পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে আছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কতটি- এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাখী আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমি এইমাত্র জানলাম। স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বিষয়টি জানাননি। নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমি অবহিত করব।

আতঙ্কে কুশিয়ারা নদীর তীরে রাত জেগে পাহারা

 সিলেট ব্যুরো ও ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীপাড়ের অর্ধশতাধিক পরিবারের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আতঙ্ক রাক্ষুসে এ নদী যে কোনো সময় গিলে ফেলতে পারে ঘরবাড়ি ও বসতভিটা। নদীভাঙনের ভয়ে অনেকেই রাতে ঘুমাচ্ছেন না। চলছে রাত জেগে পাহারা।

উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে ৬টি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার। এ জনপদের বিশাল অংশজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতঘরও।

উপজেলার মোমিনপুর, মইনপুর, চানপুর, নারায়ণপুর, শাহাদতপুর, উত্তর ইসলামপুর ও বারোহাল গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজনের মধ্যে বাড়িঘর হারানোর এক অজানা আতঙ্ক।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষে গ্রামগুলো অবস্থিত। এসব গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে মুমিনপুর গ্রামের প্রধান রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তা না থাকায় তারেক মিয়ার বাড়ির ওপর দিয়ে কোনোমতে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত বছর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ভাঙন রোধে রাস্তায় মাটি ফেলে মেরামত করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এটিও নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।

জানা গেছে, মোমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর বসতভিটা সবই চলে গেছে নদীগর্ভে। তিনি সহায়সম্বল হারিয়ে দিশেহারা। তার দুটি ঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে নতুন করে বসতঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানেও দেখা দিয়েছে ভাঙন।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ১১ লাখ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে দুটি ঘর নির্মাণ করেছিলাম, সবই চলে গেছে প্রমত্তা কুশিয়ারা নদীর পেটে। রাতে ঘুম নেই। জেগে থাকতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা তারেক আহমদের ঘরের অর্ধেক অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তারেক মিয়া বলেন, আমি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। গত বছর ৭ শতক জমি সর্বনাশা এই নদী গিলে খেয়েছে। নদী ভাঙনের কবল থেকে এই এলাকাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রশাসনের কাছে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বারবার আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উত্তর ইসলামপুর গ্রামের ইসলাম মিয়ার বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি বলেন, আমার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমি অন্যেরে বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমি দিনমজুর, কোনমতে রোজগার করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চলছে। পরিবারের খরচ বহন করে ভাড়া বাসায় থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাইজগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছুফিয়ানুল করিম চৌধুরী বলেন, বারোহাল, মঈনপুর ও মোমিনপুরে প্রায় ১৫টি পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে আছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কতটি- এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাখী আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমি এইমাত্র জানলাম। স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বিষয়টি জানাননি। নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমি অবহিত করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন