‘জিন বাহিনী’র অত্যাচারে বাড়িছাড়া এক পরিবারের সবাই
jugantor
‘জিন বাহিনী’র অত্যাচারে বাড়িছাড়া এক পরিবারের সবাই

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৫২:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগমারায় উত্থান ঘটেছে ‘জিন বাহিনীর'। বিল দখল, জমি দখল, বাড়ি দখলসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। বাহিনীর প্রধান হিসেবে আছেন বড়বিহানিলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা।

এ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আপেল মামুদ রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। জিন বাহিনী আর পুলিশের একজন দারোগার সহায়তায় বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ায় ২৫ দিন ধরে আপেল মামুদের পরিবার বাড়িছাড়া। একটি মামলাও হয়েছে আপেলের নামে। আরও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জিন বাহিনীর প্রধান রেজাউল করিমের পরামর্শে প্রতিবেশী আবদুল আজিজ গত জুলাইয়ে আপেল মামুদের বসতভিটার একটা অংশ দখলে নিতে শুরু করে। আপেল বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন। তারপর গ্রাম্যসালিশ হয় কিন্তু লাভ হয়নি। তাই আপেল আদালতে মামলা করেন।

কিন্তু এরই মধ্যে রেজাউল করিম ও বাগমারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন গিয়ে আজিজকে দিয়ে আপেলের বসতভিটা দখল করান। তখন এসআই আলতাফ তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নইলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো হবে বলে হুমকি দেন বলেও আপেলের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা খাসজমির বিলসুতি বিলের চারপাশে ২০-২৫ হাজার পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু জিন বাহিনীর প্রধান রেজাউল করিম ২০০-২৫০ বিঘা বিল অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। কয়া মৌজায় অধিকাংশ লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের। রেজাউল তাদের ভয়-ভীতি দেখান এবং তাদের ধান কেটে নিয়ে আসেন। সিন্দুর লং মৌজায় ১০০-১৫০ বিঘা সরকারি খাসজমি জোরপূর্বক দখল করেছে জিন বাহিনী।

সম্প্রতি এ বাহিনী ইয়ারব নামের এক ব্যক্তির দীঘির মাছ ধরে নিয়েছে। সম্প্রতি বোড়াবাড়ী গ্রামের জিন বাহিনীর সদস্যরা মাছ লুট করতে যায়। এলাকাবাসী তিনজনকে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। ইটাবাড়ি ভিটা এলাকায় ২০-২৫টি পরিবার এখন প্রকাশ্যে গাঁজা ও মদের ব্যবসা করে রেজাউল করিমের মদদে। রেজাউল ও রানা নামের এক ব্যক্তি এই গ্রাম থেকে টাকা তুলে এসআই আলতাফকে দেন।

আপেল মামুদ জানান, বড়বিহানিলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হককে নির্যাতন করেছে জিন বাহিনী। বাবু, আব্দুর রশিদ, ইব্রাহিম, ছয়ফল আলী এরশাদ, রুবেশ, আরিফ, আব্দুল হান্নান, আব্দুল আজিজসহ ১০-১৫ জনকে নিয়ে এই বাহিনী চালান রেজাউল। বাহিনীর সদস্যরা রাস্তার কাজ করার সময় ঠিকাদার নাজমুল হোসেনের দুই শ্রমিককে গাছে টাঙ্গিয়ে পিটিয়ে চাঁদা নিয়েছে।

রেজাউল চাকরি দেওয়ার নামে বাগমারার উত্তর মাঝগ্রামের সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, বাগান্না গ্রামের মাহবুব রহমানের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং পুকুর লিজ নিয়ে দেওয়ার নামে আম-বজরুক পাহাড়পুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাটকয়া গ্রামের আব্দুল মতিন, গোয়াবাড়ির সুবাস চন্দ্র, বড়য়ার কল্পনা রানী, বড়কথার কার্তিক, অজিত কুমার দাস, বড়কয়ার বিদ্যুৎ, অচিন্ত এবং মোয়াজ্জেনসহ শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন রেজাউল করিম।

আপেল বলেন, জিন বাহিনীর অত্যাচারে আমি এখন সপরিবারের বাড়িছাড়া। এসআই আলতাফ এ কাজে সহায়তা করেছেন। আমি চাই প্রশাসন তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, যিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি আগে সর্বহারা করতেন। আমাদের কাছে প্রশ্রয় না পেয়ে উল্টাপাল্টা বকছেন।

জিন বাহিনীর অস্তিত্ব নিয়ে জানতে চাইলে তার জবাব, আমি নেতা মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করে একবার হেরেছি। সামনে আবার ভোট করব। আমার পেছনে মানুষ থাকে। এখন এটাকে যদি কেউ বাহিনী বলে তাহলে তাই।

অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে এসআই আলতাফ হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ দাবি করেছেন, বাগমারায় ‘জিন বাহিনী’ নামে কোনো বাহিনীর অস্তিত্ব নেই। আর আপেল মামুদের বাড়ি দখল হয়ে যাওয়া কিংবা এসআই আলতাফের হুমকি দেওয়ার কথাও সত্য নয়।

‘জিন বাহিনী’র অত্যাচারে বাড়িছাড়া এক পরিবারের সবাই

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগমারায় উত্থান ঘটেছে ‘জিন বাহিনীর'। বিল দখল, জমি দখল, বাড়ি দখলসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। বাহিনীর প্রধান হিসেবে আছেন বড়বিহানিলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা।

এ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আপেল মামুদ রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। জিন বাহিনী আর পুলিশের একজন দারোগার সহায়তায় বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ায় ২৫ দিন ধরে আপেল মামুদের পরিবার বাড়িছাড়া। একটি মামলাও হয়েছে আপেলের নামে। আরও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জিন বাহিনীর প্রধান রেজাউল করিমের পরামর্শে প্রতিবেশী আবদুল আজিজ গত জুলাইয়ে আপেল মামুদের বসতভিটার একটা অংশ দখলে নিতে শুরু করে। আপেল বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন। তারপর গ্রাম্যসালিশ হয় কিন্তু লাভ হয়নি। তাই আপেল আদালতে মামলা করেন।

কিন্তু এরই মধ্যে রেজাউল করিম ও বাগমারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন গিয়ে আজিজকে দিয়ে আপেলের বসতভিটা দখল করান। তখন এসআই আলতাফ তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নইলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো হবে বলে হুমকি দেন বলেও আপেলের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা খাসজমির বিলসুতি বিলের চারপাশে ২০-২৫ হাজার পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু জিন বাহিনীর প্রধান রেজাউল করিম ২০০-২৫০ বিঘা বিল অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। কয়া মৌজায় অধিকাংশ লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের। রেজাউল তাদের ভয়-ভীতি দেখান এবং তাদের ধান কেটে নিয়ে আসেন। সিন্দুর লং মৌজায় ১০০-১৫০ বিঘা সরকারি খাসজমি জোরপূর্বক দখল করেছে জিন বাহিনী।

সম্প্রতি এ বাহিনী ইয়ারব নামের এক ব্যক্তির দীঘির মাছ ধরে নিয়েছে। সম্প্রতি বোড়াবাড়ী গ্রামের জিন বাহিনীর সদস্যরা মাছ লুট করতে যায়। এলাকাবাসী তিনজনকে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। ইটাবাড়ি ভিটা এলাকায় ২০-২৫টি পরিবার এখন প্রকাশ্যে গাঁজা ও মদের ব্যবসা করে রেজাউল করিমের মদদে। রেজাউল ও রানা নামের এক ব্যক্তি এই গ্রাম থেকে টাকা তুলে এসআই আলতাফকে দেন।

আপেল মামুদ জানান, বড়বিহানিলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হককে নির্যাতন করেছে জিন বাহিনী। বাবু, আব্দুর রশিদ, ইব্রাহিম, ছয়ফল আলী এরশাদ, রুবেশ, আরিফ, আব্দুল হান্নান, আব্দুল আজিজসহ ১০-১৫ জনকে নিয়ে এই বাহিনী চালান রেজাউল। বাহিনীর সদস্যরা রাস্তার কাজ করার সময় ঠিকাদার নাজমুল হোসেনের দুই শ্রমিককে গাছে টাঙ্গিয়ে পিটিয়ে চাঁদা নিয়েছে।

রেজাউল চাকরি দেওয়ার নামে বাগমারার উত্তর মাঝগ্রামের সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, বাগান্না গ্রামের মাহবুব রহমানের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং পুকুর লিজ নিয়ে দেওয়ার নামে আম-বজরুক পাহাড়পুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাটকয়া গ্রামের আব্দুল মতিন, গোয়াবাড়ির সুবাস চন্দ্র, বড়য়ার কল্পনা রানী, বড়কথার কার্তিক, অজিত কুমার দাস, বড়কয়ার বিদ্যুৎ, অচিন্ত এবং মোয়াজ্জেনসহ শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন রেজাউল করিম।

আপেল বলেন, জিন বাহিনীর অত্যাচারে আমি এখন সপরিবারের বাড়িছাড়া। এসআই আলতাফ এ কাজে সহায়তা করেছেন। আমি চাই প্রশাসন তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, যিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি আগে সর্বহারা করতেন। আমাদের কাছে প্রশ্রয় না পেয়ে উল্টাপাল্টা বকছেন।

জিন বাহিনীর অস্তিত্ব নিয়ে জানতে চাইলে তার জবাব, আমি নেতা মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করে একবার হেরেছি। সামনে আবার ভোট করব। আমার পেছনে মানুষ থাকে। এখন এটাকে যদি কেউ বাহিনী বলে তাহলে তাই।

অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে এসআই আলতাফ হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ দাবি করেছেন, বাগমারায় ‘জিন বাহিনী’ নামে কোনো বাহিনীর অস্তিত্ব নেই। আর আপেল মামুদের বাড়ি দখল হয়ে যাওয়া কিংবা এসআই আলতাফের হুমকি দেওয়ার কথাও সত্য নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন