রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
jugantor
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  সিলেট ব্যুরো  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪২:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার আন্দোলন করতে গিয়েই রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ খুন হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ছেলেটা মারা গেছে সে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছিল। সে রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিল, এখানে নয়, তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিজ দেশেই। তাই তাদের রাখাইনে ফিরে যেতে হবে। এ আন্দোলন করতে গিয়েই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ রোহিঙ্গা এসেছিল। আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরিয়ে নেয়। ১৯৯২ সালে এসেছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার। এর মধ্যে ফিরে গেছে ২ লাখ ৩৬ হাজার। বাকিদের আশ্রয় দেয় ইউএনএইচসিআর। এবারের সংখ্যা অনেক বেশি। ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিতে কাজ করছি আমরা। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন এজেন্সি এদের এখানে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, চার বছর ধরে রাখাইনে কোনো মারামারি নেই। শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। কিন্তু ওরা রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার কথা বলে না। উল্টো এখানে তাদের কীভাবে ভালো রাখা যায়, তাদের হিউম্যান রাইটস- এসব অবান্তর কথা বলছে। তারা বলছে- রোহিঙ্গাদের জমির অধিকার দিতে, চাকরিতে বৈষম্য না করতে। তারা আমাদের শর্ত দিতে চায়। আসল কথা হচ্ছে, রোহিঙ্গারা এখানে দীর্ঘদিন থাকলে তাদের চাকরিও দীর্ঘায়িত হবে। এদের জন্য অনেকে অর্থ বরাদ্দ দেন, কিন্তু সে টাকা কীভাবে খরচ হয় সেটাও জানি না আমরা।

এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিলেটের উন্নয়ন কাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিলেটে বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতাল ২০০ বেডে উন্নীত না করে শতকোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ২০০ বেডের বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতাল করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য ১১০ কোটি টাকাও বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু শামসুদ্দিন হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নীত করা হয়নি। ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নিত করা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, ২০০ শয্যার হাসপাতাল না করে ১০০ শয্যা সংস্কার করে বরাদ্দ থেকে ব্যয় করা হয় ১০ কোটি টাকা। কাজ না করে ফেরত দেয়া হয় ১০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা নষ্ট করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ করে বলেন, ২০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের জন্য ডিজাইন রেডি ছিল, অর্থ বরাদ্দও ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। কষ্ট করে টাকা আনার পর কাজ না হওয়া খুব দুঃখজনক। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা দিচ্ছেন। কোনো প্রকল্প নিয়ে সমস্যা থাকলে আমার সিলেট ও ঢাকার অফিস উন্মুক্ত। সমস্যা জানাতে পারেন। সমস্যা জানলে সমাধান করতে পারব কিন্তু কোনো অজুহাতে যেন উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত বা আটকে না যায়।

মঙ্গলবার সকালে একদিনের সফরে সিলেট আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাকালে ভারত সরকারের উপহার ২টি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাই স্বামীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে দুটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 সিলেট ব্যুরো 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার আন্দোলন করতে গিয়েই রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ খুন হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ছেলেটা মারা গেছে সে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছিল। সে রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিল, এখানে নয়, তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিজ দেশেই। তাই তাদের রাখাইনে ফিরে যেতে হবে। এ আন্দোলন করতে গিয়েই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ রোহিঙ্গা এসেছিল। আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরিয়ে নেয়। ১৯৯২ সালে এসেছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার। এর মধ্যে ফিরে গেছে ২ লাখ ৩৬ হাজার। বাকিদের আশ্রয় দেয় ইউএনএইচসিআর। এবারের সংখ্যা অনেক বেশি। ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিতে কাজ করছি আমরা। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন এজেন্সি এদের এখানে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, চার বছর ধরে রাখাইনে কোনো মারামারি নেই। শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। কিন্তু ওরা রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার কথা বলে না। উল্টো এখানে তাদের কীভাবে ভালো রাখা যায়, তাদের হিউম্যান রাইটস- এসব অবান্তর কথা বলছে। তারা বলছে- রোহিঙ্গাদের জমির অধিকার দিতে, চাকরিতে বৈষম্য না করতে। তারা আমাদের শর্ত দিতে চায়। আসল কথা হচ্ছে, রোহিঙ্গারা এখানে দীর্ঘদিন থাকলে তাদের চাকরিও দীর্ঘায়িত হবে। এদের জন্য অনেকে অর্থ বরাদ্দ দেন, কিন্তু সে টাকা কীভাবে খরচ হয় সেটাও জানি না আমরা।

এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিলেটের উন্নয়ন কাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিলেটে বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতাল ২০০ বেডে উন্নীত না করে শতকোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ২০০ বেডের বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতাল করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য ১১০ কোটি টাকাও বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু শামসুদ্দিন হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নীত করা হয়নি। ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নিত করা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, ২০০ শয্যার হাসপাতাল না করে ১০০ শয্যা সংস্কার করে বরাদ্দ থেকে ব্যয় করা হয় ১০ কোটি টাকা। কাজ না করে ফেরত দেয়া হয় ১০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা নষ্ট করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ করে বলেন, ২০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের জন্য ডিজাইন রেডি ছিল, অর্থ বরাদ্দও ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। কষ্ট করে টাকা আনার পর কাজ না হওয়া খুব দুঃখজনক। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা দিচ্ছেন। কোনো প্রকল্প নিয়ে সমস্যা থাকলে আমার সিলেট ও ঢাকার অফিস উন্মুক্ত। সমস্যা জানাতে পারেন। সমস্যা জানলে সমাধান করতে পারব কিন্তু কোনো অজুহাতে যেন উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত বা আটকে না যায়।

মঙ্গলবার সকালে একদিনের সফরে সিলেট আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাকালে ভারত সরকারের উপহার ২টি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাই স্বামীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে দুটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন