গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় কাটা পড়ল নবজাতকের পা
jugantor
গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় কাটা পড়ল নবজাতকের পা

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৭:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে এক নবজাতকের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। নির্মম এ ঘটনাটি ঘটেছে আব্দুল্লাহপুরের কদমপুর এলাকায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের ১৭ দিনের মাথায় ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ডান পা হারিয়েছে ওই শিশু।

এভাবে সন্তানের অঙ্গহানি মেনে নিতে পারছেন না পিতা আবুল বাশার। তিনি ওই ভুয়া ডাক্তারের বিচার দাবি করেছেন।

আবুল বাশার জানান, জন্মের ৬ দিন থেকে সন্তানের কান্না থামছিল না। এজন্য তারা কদমপুর এলাকার কথিত গ্রাম্য ডাক্তার ও কবিরাজ দেব কিশোর ওরফে ধীমান সরকারের ফার্মেসিতে নিয়ে যান।

সেখানে ধীমান সরকার শিশুটিকে ঝাড়ফুঁক করে ও পায়ে ট্রাইজেন নামক ইনজেকশন পুশ করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় দিন গেলে একই চিকিৎসা দেয়। তৃতীয় দিন শিশুর পা ফুলে যায় এবং নিকষ কালো বর্ণ ধারণ করে। উপায়ন্তর না দেখে স্বজনরা ধীমান সরকারের সহযোগিতায় শিশুকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে নিয়ে কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি করানো যায়নি।

শেষে ধানমন্ডি এলাকার মাদার কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির ডান পায়ের হাড়ে পচন ধরেছে। পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ২৬ সেপ্টেম্বর ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে শিশুটির পা কেটে ফেলা হয়। হাসপাতালের বিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে ধীমান সরকার আর যোগাযোগ করেননি। পরে অর্থাভাবে পুরো চিকিৎসা শেষ না করেই সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার।

শিশুটির মা সীমা বেগম অভিযোগ করেন, ধীমান সরকারের ভুল চিকিৎসায় তার কলিজার টুকরাকে পঙ্গু হতে হয়েছে। ১৭ দিন বয়সী এতটুকু শিশুর পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আমি ধীমান সরকারের শাস্তি চাই। যাতে সে ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিশুকে এধরনের চিকিৎসা না দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাদবর খবির মিয়া বলেন, শিশুটির পিতার কাছ থেকে অভিযোগ শুনে আমরা ধীমান সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। ওই সময় ধীমান সরকার সব স্বীকার করে নেয় এবং শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। জানতে পেরেছি সে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ করেছে।

শিশুটির পরিবার আমাকে জানিয়েছিল, পা কাটার পর নাকি সে (ধীমান সরকার) মাদার কেয়ার হাসপাতালের টাকা পরিশোধ করে চলে এসেছে।

স্থানীয় বাড়িওয়ালা মারফত ভাণ্ডারী বলেন, আমার বোধগম্য হচ্ছে না ৬ দিনের বাচ্চাকে ধীমান সরকার কেন ইনজেকশন দেবে। সে তো কবিরাজি করে। এখন বাচ্চাটার কী হবে।

কদমপুরে কলাকান্দি মোড়ে ফার্মেসি খুলে কবিরাজি ও ডাক্তারি করেন দেব কিশোর ওরফে ধীমান সরকার। ধীমান সরকার জানান, তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক। তার বাবা কবিরাজি করতেন। তিনি বাবার কাছ থেকে কবিরাজি ও ডাক্তারি শিখেছেন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ঝাড়ফুঁক করছেন।

শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ধীমান সরকার বলেন, জন্মের ৬ দিনের মাথায় শিশুটির মা আমার কাছে নিয়ে আসলে নাভি শুকানো ও ঠাণ্ডা ভালো করার জন্য দুদিন ঝাড়ফুঁক ও দুটি ট্রাইজেন ইনজেকশন পুশ করি। পরে জানতে পারি শিশুটির পায়ে ইনফেকশন হয়েছে। পরে স্থানীয় মাদবরদের কথা অনুযায়ী শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহন করি। এজন্য আমার মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মসিউর রহমান বলেন, যতটুকু শুনেছি তাতে মনে হয় শিশুটি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের পা কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শিশুটির পিতামাতার সাথে যোগাযোগ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পাশাপাশি কবিরাজি ও ডাক্তারি নাম ধারণ করে যারা অপচিকিৎসা করছে তাদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় কাটা পড়ল নবজাতকের পা

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে এক নবজাতকের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। নির্মম এ ঘটনাটি ঘটেছে আব্দুল্লাহপুরের কদমপুর এলাকায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের ১৭ দিনের মাথায় ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ডান পা হারিয়েছে ওই শিশু।

এভাবে সন্তানের অঙ্গহানি মেনে নিতে পারছেন না পিতা আবুল বাশার। তিনি ওই ভুয়া ডাক্তারের বিচার দাবি করেছেন।

আবুল বাশার জানান, জন্মের ৬ দিন থেকে সন্তানের কান্না থামছিল না। এজন্য তারা কদমপুর এলাকার কথিত গ্রাম্য ডাক্তার ও কবিরাজ দেব কিশোর ওরফে ধীমান সরকারের ফার্মেসিতে নিয়ে যান।

সেখানে ধীমান সরকার শিশুটিকে ঝাড়ফুঁক করে ও পায়ে ট্রাইজেন নামক ইনজেকশন পুশ করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় দিন গেলে একই চিকিৎসা দেয়। তৃতীয় দিন শিশুর পা ফুলে যায় এবং নিকষ কালো বর্ণ ধারণ করে। উপায়ন্তর না দেখে স্বজনরা ধীমান সরকারের সহযোগিতায় শিশুকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে নিয়ে কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি করানো যায়নি।

শেষে ধানমন্ডি এলাকার মাদার কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির ডান পায়ের হাড়ে পচন ধরেছে। পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ২৬ সেপ্টেম্বর ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে শিশুটির পা কেটে ফেলা হয়। হাসপাতালের বিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে ধীমান সরকার আর যোগাযোগ করেননি। পরে অর্থাভাবে পুরো চিকিৎসা শেষ না করেই সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার।

শিশুটির মা সীমা বেগম অভিযোগ করেন, ধীমান সরকারের ভুল চিকিৎসায় তার কলিজার টুকরাকে পঙ্গু হতে হয়েছে। ১৭ দিন বয়সী এতটুকু শিশুর পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আমি ধীমান সরকারের শাস্তি চাই। যাতে সে ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিশুকে এধরনের চিকিৎসা না দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাদবর খবির মিয়া বলেন, শিশুটির পিতার কাছ থেকে অভিযোগ শুনে আমরা ধীমান সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। ওই সময় ধীমান সরকার সব স্বীকার করে নেয় এবং শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। জানতে পেরেছি সে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ করেছে।

শিশুটির পরিবার আমাকে জানিয়েছিল, পা কাটার পর নাকি সে (ধীমান সরকার) মাদার কেয়ার হাসপাতালের টাকা পরিশোধ করে চলে এসেছে।

স্থানীয় বাড়িওয়ালা মারফত ভাণ্ডারী বলেন, আমার বোধগম্য হচ্ছে না ৬ দিনের বাচ্চাকে ধীমান সরকার কেন ইনজেকশন দেবে। সে তো কবিরাজি করে। এখন বাচ্চাটার কী হবে।

কদমপুরে কলাকান্দি মোড়ে ফার্মেসি খুলে কবিরাজি ও ডাক্তারি করেন দেব কিশোর ওরফে ধীমান সরকার। ধীমান সরকার জানান, তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক। তার বাবা কবিরাজি করতেন। তিনি বাবার কাছ থেকে কবিরাজি ও ডাক্তারি শিখেছেন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ঝাড়ফুঁক করছেন।

শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ধীমান সরকার বলেন, জন্মের ৬ দিনের মাথায় শিশুটির মা আমার কাছে নিয়ে আসলে নাভি শুকানো ও ঠাণ্ডা ভালো করার জন্য দুদিন ঝাড়ফুঁক ও দুটি ট্রাইজেন ইনজেকশন পুশ করি। পরে জানতে পারি শিশুটির পায়ে ইনফেকশন হয়েছে। পরে স্থানীয় মাদবরদের কথা অনুযায়ী শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহন করি। এজন্য আমার মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মসিউর রহমান বলেন, যতটুকু শুনেছি তাতে মনে হয় শিশুটি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের পা কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শিশুটির পিতামাতার সাথে যোগাযোগ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পাশাপাশি কবিরাজি ও ডাক্তারি নাম ধারণ করে যারা অপচিকিৎসা করছে তাদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন