ক্যাম্পেই আছে মুহিবুল্লাহর খুনিরা
jugantor
ক্যাম্পেই আছে মুহিবুল্লাহর খুনিরা

  শফিউল্লাহ শফি, যুগান্তর প্রতিবেদন, কক্সবাজার  

০৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫১:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহর খুনিরা ক্যাম্প ত্যাগ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পাশাপাশি চলমান ব্লক রেইড ও চিরুনি অভিযানে মুহিবুল্লাহকে হত্যার মিশনে অংশ নেয়া অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে বলেও জানান ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক।

তিনি বলেন, ক্যাম্পের চারদিকে যেভাবে নিরাপত্তা বলয় জোরদার রয়েছে। সেই বলয় ভেদ করে পালানো কারও পক্ষে সহজ নয়। সুতরাং সাধারণ নিরপরাধ রোহিঙ্গারা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই করে গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে এবং গোয়েন্দা রিপোর্টে খুনের ঘটনার অনেক তথ্য ও ক্লু পাওয়া গেছে; যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না। তবে নিশ্চিত দ্রুত সময়ের মধ্যেই খুনিরা আইনের আওতায় আসবে।

পুলিশ সুপার নাইম বলেন, মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরপরেই তার ভাই হাবিবুল্লাহ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরে মামলায় তাদের নাম আসেনি। কেউ ইচ্ছে করলেও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কোনো নিরপরাধ রোহিঙ্গাকে এ মামলায় জড়াতে বা হয়রানি করতে পারবে না। সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক কথায় যারা অপরাধী তারা গ্রেফতার এড়াতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জোরদার করে সশস্ত্র দল ও উপদলগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের বিদ্যমান তিন ব্যাটালিয়নের মধ্যে সমন্বিত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া এত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর কার্যকর মনিটরিং অসম্ভব।

কর্মকর্তারা আরও জানান, চলমান ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে পুলিশি চেকপোস্ট ও হেঁটে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এখানে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে নজরদারি করা আরও সহজ হবে। কারণ ক্যাম্পের অনেক এলাকার নিরাপত্তা বেষ্টনীর তার কেটে ছোট ছোট পথ তৈরি করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে কাঁটাতারের বেষ্টনী পেরিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে।

তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সরাসরি কিলিং মিশনে ছিল- এমন কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। খুনিদের ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। আবার কেউ আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এলোমেলো বক্তব্য দিচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী গ্রুপগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তাদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। পাশাপাশি মুহিবুল্লাহর পরিবারকেও বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচআর) সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে অধিকার নিয়ে ফিরে যাওয়ার যে স্বপ্ন মুহিবুল্লাহর ছিল বাস্তবায়নে সংগঠনটির নেতারা কাজ করবেন।

হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি জানান, সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ শেষে তার কার্যালয়ে ওষুধ খাওয়ার জন্য প্রবেশ করেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় ১০-১২ মুখোশধারী অফিসের আশপাশে অবস্থান নেয়। তাদের মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্র তাক করে। এরপরই একজন চার-পাঁচটি গুলি করে।

আব্দুর রহিম জানান, মুহিবুল্লাহ যে সংগঠনের হয়ে কাজ করতেন, এতে আরও ২৯ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে আটজন নারী। তারা সবাই আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

কুতুপালং এলাকার ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার থেকে ক্যাম্পে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল চোখে পড়ার মতো। রাতে এবং দিনে সমানতালে ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে পুলিশি বিচরণ দেখা যাচ্ছে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলো-১ ইস্ট লম্বাশিয়া ক্যাম্পের আব্দুস সালাম (৩০), ৮ ইস্ট কুতুপালং ক্যাম্পের জিয়াউর রহমান (৩২), মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ প্রকাশ কাশ লম্বা সেলিম (৩৩), শওকত উল্লাহ (২৩) এবং ইলিয়াস (৩৫)।

এ পাঁচজনের মধ্যে সলিম উল্লাহ প্রকাশ কাল লম্বা সেলিম ও শওকত উল্লাহ পুলিশের তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছে। পাশাপাশি সালাম ও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধেও পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। এ আবেদনের শুনানি বুধবার হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্যাম্পেই আছে মুহিবুল্লাহর খুনিরা

 শফিউল্লাহ শফি, যুগান্তর প্রতিবেদন, কক্সবাজার 
০৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহর খুনিরা ক্যাম্প ত্যাগ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পাশাপাশি চলমান ব্লক রেইড ও চিরুনি অভিযানে মুহিবুল্লাহকে হত্যার মিশনে অংশ নেয়া অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে বলেও জানান ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক।

তিনি বলেন, ক্যাম্পের চারদিকে যেভাবে নিরাপত্তা বলয় জোরদার রয়েছে। সেই বলয় ভেদ করে পালানো কারও পক্ষে সহজ নয়। সুতরাং সাধারণ নিরপরাধ রোহিঙ্গারা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই করে গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে এবং গোয়েন্দা রিপোর্টে খুনের ঘটনার অনেক তথ্য ও ক্লু পাওয়া গেছে; যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না। তবে নিশ্চিত দ্রুত সময়ের মধ্যেই খুনিরা আইনের আওতায় আসবে। 

পুলিশ সুপার নাইম বলেন, মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরপরেই তার ভাই হাবিবুল্লাহ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরে মামলায় তাদের নাম আসেনি। কেউ ইচ্ছে করলেও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কোনো নিরপরাধ রোহিঙ্গাকে এ মামলায় জড়াতে বা হয়রানি করতে পারবে না। সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক কথায় যারা অপরাধী তারা গ্রেফতার এড়াতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জোরদার করে সশস্ত্র দল ও উপদলগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের বিদ্যমান তিন ব্যাটালিয়নের মধ্যে সমন্বিত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া এত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর কার্যকর মনিটরিং অসম্ভব।

কর্মকর্তারা আরও জানান, চলমান ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে পুলিশি চেকপোস্ট ও হেঁটে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। 

ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এখানে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে নজরদারি করা আরও সহজ হবে। কারণ ক্যাম্পের অনেক এলাকার নিরাপত্তা বেষ্টনীর তার কেটে ছোট ছোট পথ তৈরি করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে কাঁটাতারের বেষ্টনী পেরিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে।

তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সরাসরি কিলিং মিশনে ছিল- এমন কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। খুনিদের ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। আবার কেউ আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এলোমেলো বক্তব্য দিচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী গ্রুপগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তাদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। পাশাপাশি মুহিবুল্লাহর পরিবারকেও বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচআর) সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে অধিকার নিয়ে ফিরে যাওয়ার যে স্বপ্ন মুহিবুল্লাহর ছিল বাস্তবায়নে সংগঠনটির নেতারা কাজ করবেন।

হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি জানান, সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ শেষে তার কার্যালয়ে ওষুধ খাওয়ার জন্য প্রবেশ করেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় ১০-১২ মুখোশধারী অফিসের আশপাশে অবস্থান নেয়। তাদের মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্র তাক করে। এরপরই একজন চার-পাঁচটি গুলি করে।

আব্দুর রহিম জানান, মুহিবুল্লাহ যে সংগঠনের হয়ে কাজ করতেন, এতে আরও ২৯ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে আটজন নারী। তারা সবাই আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

কুতুপালং এলাকার ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার থেকে ক্যাম্পে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল চোখে পড়ার মতো। রাতে এবং দিনে সমানতালে ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে পুলিশি বিচরণ দেখা যাচ্ছে। 

এদিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলো-১ ইস্ট লম্বাশিয়া ক্যাম্পের আব্দুস সালাম (৩০), ৮ ইস্ট কুতুপালং ক্যাম্পের জিয়াউর রহমান (৩২), মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ প্রকাশ কাশ লম্বা সেলিম (৩৩), শওকত উল্লাহ (২৩) এবং ইলিয়াস (৩৫)।

এ পাঁচজনের মধ্যে সলিম উল্লাহ প্রকাশ কাল লম্বা সেলিম ও শওকত উল্লাহ পুলিশের তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছে। পাশাপাশি সালাম ও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধেও পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। এ আবেদনের শুনানি বুধবার হওয়ার কথা রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন