জামা-বইপত্র হাতড়ে সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা
jugantor
আবরার হত্যার দুই বছর
জামা-বইপত্র হাতড়ে সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা

  এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

০৬ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৯:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ২ বছর হলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেখে যেতে চান দাদা ৯০ বছর বয়সী আব্দুল গফুরসহ পরিবারের সদস্যরা। আর আবরারের ব্যবহৃত জামা-কাপড় বইপত্র হাতড়ে প্রিয় সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা রোকেয়া খাতুন।

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের বরকত উল্লাহ ও রোকেয়া দম্পতির বড় সন্তান। ২ বছর আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দুটি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি।

আবরারের সব থেকে প্রিয় মানুষ তার দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস নাতি হত্যার বিচারের প্রতীক্ষায় এখনো প্রহর গুনছেন। দ্রুত নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।

দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ সবাই বলেছেন আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেয়া হবে, কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি। আমার বয়স ৯০ বছর, মৃত্যুর আগে আমি আমার নাতি আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখে যেতে চাই।

দাদা আব্দুল গফুর বলেন, আমার প্রিয় নাতির জন্য মন কাঁদে। তাকে হারিয়েছি দুই বছর হলো। এখনো বিচার শেষ হয়নি। তখন সবাই বলেছিল দ্রুত বিচার কাজ শেষ হবে। তবে নানা কারণে তা হয়নি। এখন বিচার দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই। মরার আগে অন্তত নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

এদিকে আবরার ফাহাদের সব হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান তার মা রোকেয়া খাতুন। কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডের বাসায় আবরারের জামা-কাপড়, বইপত্র, ব্যবহৃত জিনিসপত্রে প্রিয় ছেলেকে খোঁজেন তিনি।

বুধবার দুপরে আবরারের কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় গেলে গেট খুলে বেরিয়ে আসেন আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ ও তার মা রোকেয়া খাতুন। বাড়িতে ঢুকতেই আবরার ফাহাদের রুম। সেই কক্ষের শোকেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আবরারের অর্জনকৃত বিভিন্ন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, বইপত্র, জামা, তসবিহ, টুপিসহ তার ব্যবহৃত সব জিনিসপত্র।

ওই সব দেখিয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন রোকেয়া খাতুন। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, সবাই দেখেছে আমার ছেলে আবরারকে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে তিনি দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও আমার ছেলের হত্যাকারীরা এখনো জীবিত রয়েছে। অতিদ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের কারণে বিচার কাজ বিঘ্ন ঘটেছে দাবি করে আবরারের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ১৩৫ দিনে মামলার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনার কারণে বিলম্বিত হলেও আশা করছি এ মামলায় খুনিদের সবার ফাঁসির আদেশ হবে।

তিনি বলেন, আমরা হুমকির মধ্যে আছি। মামলার শুরু থেকেই নানামুখী চাপে মামলার কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। চক্রটি এখন আপসের কথা বলছে কিন্তু আমার ভাইয়ের খুনিদের বাঁচাতে কোনো চাপের কাছে আমরা মাথানত করব না।

ফাইয়াজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন আসামি এহতেশামুল রাব্বি তামিম, মোর্শদুজ্জামান মণ্ডল জিসান ও মুজতবা রাফিদ এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের ধরতে পারেনি। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আবরার ফাহাদ হত্যার দুই বছরে তার পরিবারের এখন একটাই দাবি- অতিদ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকর করা হোক।

এদিকে আবরারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়ির মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুস্থ, অসহায় ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাড়িতে বেড়াতে এসে সকালে রওনা দেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি হলে পৌঁছান। এরপর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে একদল বিপথগামী ছাত্র ৬ ঘণ্টা ধরে নির্মম নির্যাতন করে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করে। পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তার লাশ উদ্ধার হলে প্রতিবাদে সারা দেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

আবরার হত্যার দুই বছর

জামা-বইপত্র হাতড়ে সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা

 এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
০৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ২ বছর হলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেখে যেতে চান দাদা ৯০ বছর বয়সী আব্দুল গফুরসহ পরিবারের সদস্যরা। আর আবরারের ব্যবহৃত জামা-কাপড় বইপত্র হাতড়ে প্রিয় সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা রোকেয়া খাতুন।

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের বরকত উল্লাহ ও রোকেয়া দম্পতির বড় সন্তান। ২ বছর আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দুটি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি।

আবরারের সব থেকে প্রিয় মানুষ তার দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস নাতি হত্যার বিচারের প্রতীক্ষায় এখনো প্রহর গুনছেন। দ্রুত নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।

দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ সবাই বলেছেন আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেয়া হবে, কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি। আমার বয়স ৯০ বছর, মৃত্যুর আগে আমি আমার নাতি আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি  মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখে যেতে চাই।

দাদা আব্দুল গফুর বলেন, আমার প্রিয় নাতির জন্য মন কাঁদে। তাকে হারিয়েছি দুই বছর হলো। এখনো বিচার শেষ হয়নি। তখন সবাই বলেছিল দ্রুত বিচার কাজ শেষ হবে। তবে নানা কারণে তা হয়নি। এখন বিচার দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই। মরার আগে অন্তত নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

এদিকে আবরার ফাহাদের সব হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান তার মা রোকেয়া খাতুন। কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডের বাসায় আবরারের জামা-কাপড়, বইপত্র, ব্যবহৃত জিনিসপত্রে প্রিয় ছেলেকে খোঁজেন তিনি।

বুধবার দুপরে আবরারের কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় গেলে গেট খুলে বেরিয়ে আসেন আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ ও তার মা রোকেয়া খাতুন। বাড়িতে ঢুকতেই আবরার ফাহাদের রুম। সেই কক্ষের শোকেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আবরারের অর্জনকৃত বিভিন্ন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, বইপত্র, জামা, তসবিহ, টুপিসহ তার ব্যবহৃত সব জিনিসপত্র।

ওই সব দেখিয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন রোকেয়া খাতুন। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, সবাই দেখেছে আমার ছেলে আবরারকে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে তিনি দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও আমার ছেলের হত্যাকারীরা এখনো জীবিত রয়েছে। অতিদ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের কারণে বিচার কাজ বিঘ্ন ঘটেছে দাবি করে আবরারের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ১৩৫ দিনে মামলার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনার কারণে বিলম্বিত হলেও আশা করছি এ মামলায় খুনিদের সবার ফাঁসির আদেশ হবে।

তিনি বলেন, আমরা হুমকির মধ্যে আছি। মামলার শুরু থেকেই নানামুখী চাপে মামলার কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। চক্রটি এখন আপসের কথা বলছে কিন্তু আমার ভাইয়ের খুনিদের বাঁচাতে কোনো চাপের কাছে আমরা মাথানত করব না।

ফাইয়াজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন আসামি এহতেশামুল রাব্বি তামিম, মোর্শদুজ্জামান মণ্ডল জিসান ও মুজতবা রাফিদ এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের ধরতে পারেনি। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আবরার ফাহাদ হত্যার দুই বছরে তার পরিবারের এখন একটাই দাবি- অতিদ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকর করা হোক।

এদিকে আবরারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়ির মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুস্থ, অসহায় ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাড়িতে বেড়াতে এসে সকালে রওনা দেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি হলে পৌঁছান। এরপর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে একদল বিপথগামী ছাত্র ৬ ঘণ্টা ধরে নির্মম নির্যাতন করে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করে। পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তার লাশ উদ্ধার হলে প্রতিবাদে সারা দেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন