জিপিএ-৫ পেয়েও অন্তরের লেখাপড়া অনিশ্চিত

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১০ মে ২০১৮, ২১:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

অন্তর কুমার শীল

অন্তর কুমার শীল। জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করে চলেছে। তবুও লেখাপড়ার হাল ছাড়েনি। পিছু হটেনি লড়াই থেকে। বড় হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

নিজের চেষ্টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ফলাফলে খুশি হয়েছে পরিবারসহ স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা। তবে অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হচ্ছে তার।

সামনের পুরোটা পথ তার অনিশ্চিত। দারিদ্র্যতার কারণে আগামী দিনের উচ্চশিক্ষার খরচের চিন্তায় বাবা-মা ও তার চোখমুখে হতাশার ছাপ।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মাস্টারপাড়া মহল্লার ফুটপাতে চুল-দাড়ি কামোনো গৌউর চন্দ্র শীলের ছেলে অন্তর কুমার শীল। অন্তরের বাবার অল্প আয়ে চলে সংসার। মা অর্পনা রানী শীল গৃহিণী। এক বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে অন্তর ছোট।

অভাবের কারণে বড় বোনের পড়ালেখা প্রায় বন্ধের উপক্রম। সে আলহাজ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী। অর্থের অভাবে কলেজ করতে না পেরে বাড়িতে বসে আছে। তবে জমি বলতে বাড়ির ভিটাটুকু।

অন্তরের মা অর্পনা রানী শীল জানান, ছেলে ভালো ফলাফল করেছে। সে আরও পড়তে চায়। তাই তারা এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খরচ নিয়ে। স্বল্প আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার। শুধু এটুকু বলতে পারি ছেলের লেখাপড়া করাতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তরের বাবা অসুস্থ। কাজও ঠিকভাবে করতে পারে না। প্রতিদিন ৮০ টাকার ওষুধ লাগে। দিনে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় আয় হয়। এই আয় দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া বড় মেয়ে আলহাজ মহিলা ডিগ্রি কলেজে শেষ বর্ষে পড়ছে। টাকা দিতে না পারার কারণে মেয়ে ঠিকমতো কলেজে যেতে পারছে না। তারপর ছেলে অন্তরকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১১৫২ মার্ক নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে অন্তর। এসএসসি পরীক্ষার মতো স্কুল জীবনের সব পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা অন্তর ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে গরিব অসহায়দের সেবা করতে চায়। কারও কাছে একটু আর্থিক সহযোগিতা পেলে হাসি ফুটাবে অন্তরের মুখে।

অন্তর কুমার শীল বলেন, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়ালেখা করেছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনও কখনও বাবার কাজে সহযোগিতা করেছি। এই আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসার চলেছে। আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, অর্থের অভাবে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করা অন্তরের বড়ই কষ্টের। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীর চেয়ে আলাদা মেধা সম্পূর্ণ ছিল অন্তর। তবে তার জন্য সমাজের শিক্ষানুরাগী কোনো সুহৃদ ব্যক্তির একটু সহযোগিতা পেলে তার উচ্চশিক্ষার পথ নিশ্চিত হতে পারে।

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি-১৮

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter