পদ্মার ভাঙনে আশ্রয়হীন ইউপি চেয়ারম্যান
jugantor
পদ্মার ভাঙনে আশ্রয়হীন ইউপি চেয়ারম্যান

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

০৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৮:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আজিজুল আযম চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। নদী ভাঙনের কারণে তিনি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তার দুই শতাধিক বিঘা জমি ছিল। কয়েক বছরের ব্যবধানে সব জমি পদ্মাগর্ভে চলে গেছে। এ বছরের ভাঙনের কারণে বর্তমানে তার বাড়ি করার জমিটুটুও নেই। আজিজুল আযমের মতো প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম এবারের পদ্মার ভাঙ্গনের কারণে সপরিবার নিয়ে একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি পৈতৃকভাবে প্রায় দুই শতাধিক বিঘা ভূ-সম্পত্তির মালিক। সবটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

তার বাড়ি করার জন্য একখণ্ড জমির জোগাড় করতে পারছেন না। তার মতো অনেকই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে এলাকার মানুষ তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এলাকা ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। তিনি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে কিছু করতে পারছেন না। শুক্রবার কলিদাসখালী চরের ইউনুস আলী ও রজব আলী পদ্মার ধারে ঘর ভেঙে নৌকায় তুলছেন আর তার স্ত্রী পারুল বেগমকে চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ নূর মোহাম্মদ বলেন, চকরাজাপুর বিদ্যালয়ের পাশে এক ব্যক্তির জমিতে বাড়িঘরের চালা রাখা হয়েছে। জমির ন্যায্য ইজারা মূল্য দিতে চেয়েও পাচ্ছি না। এখন কোথায় যাব ঠিক করতে পারছি না।

চকরাজাপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলু শেখ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার শিখদার বলেন, নদীভাঙনের কারণে একখানা ঘর করার মাটির ব্যবস্থা কেউ করছে না। চেয়ারম্যানের মতো আরও দুই শতাধিক ব্যক্তি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। জমি না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকেই অন্যস্থানে চলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, পদ্মার ভাঙনের কারণে আমার মতো অনেকেই জমি পাচ্ছেন না। আমার মতো দুই শতাধিক ব্যক্তি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই চর ছেড়ে অন্যস্থানে চলে যাচ্ছেন। আমি তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। আমি নিজেই নিঃস্ব। শুক্রবার থেকে কালিদাসখালী এলাকায় বাড়ির কাজ শুরু করেছি।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র হচ্ছে। এর মধ্যে বাঘায় ১৩ কিমি নদী ড্রেজিংয়ের কাজ রয়েছে। ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ সোজা করে দিলে ভাঙন থেকে এলাকা বাঁচবে।

পদ্মার ভাঙনে আশ্রয়হীন ইউপি চেয়ারম্যান

 বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আজিজুল আযম চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। নদী ভাঙনের কারণে তিনি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তার দুই শতাধিক বিঘা জমি ছিল। কয়েক বছরের ব্যবধানে সব জমি পদ্মাগর্ভে চলে গেছে। এ বছরের ভাঙনের কারণে বর্তমানে তার বাড়ি করার জমিটুটুও নেই। আজিজুল আযমের মতো প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। 

জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম এবারের পদ্মার ভাঙ্গনের কারণে সপরিবার নিয়ে একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি পৈতৃকভাবে প্রায় দুই শতাধিক বিঘা ভূ-সম্পত্তির মালিক। সবটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

তার বাড়ি করার জন্য একখণ্ড জমির জোগাড় করতে পারছেন না। তার মতো অনেকই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে এলাকার মানুষ তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এলাকা ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। তিনি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে কিছু করতে পারছেন না। শুক্রবার কলিদাসখালী চরের ইউনুস আলী ও রজব আলী পদ্মার ধারে ঘর ভেঙে নৌকায় তুলছেন আর তার স্ত্রী পারুল বেগমকে চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ নূর মোহাম্মদ বলেন, চকরাজাপুর বিদ্যালয়ের পাশে এক ব্যক্তির জমিতে বাড়িঘরের চালা রাখা হয়েছে। জমির ন্যায্য ইজারা মূল্য দিতে চেয়েও পাচ্ছি না। এখন কোথায় যাব ঠিক করতে পারছি না। 

চকরাজাপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলু শেখ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার শিখদার বলেন, নদীভাঙনের কারণে একখানা ঘর করার মাটির ব্যবস্থা কেউ করছে না। চেয়ারম্যানের মতো আরও দুই শতাধিক ব্যক্তি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। জমি না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকেই অন্যস্থানে চলে যাচ্ছেন। 

এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, পদ্মার ভাঙনের কারণে আমার মতো অনেকেই জমি পাচ্ছেন না। আমার মতো দুই শতাধিক ব্যক্তি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই চর ছেড়ে অন্যস্থানে চলে যাচ্ছেন। আমি তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। আমি নিজেই নিঃস্ব। শুক্রবার থেকে কালিদাসখালী এলাকায় বাড়ির কাজ শুরু করেছি। 

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র হচ্ছে। এর মধ্যে বাঘায় ১৩ কিমি নদী ড্রেজিংয়ের কাজ রয়েছে। ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ সোজা করে দিলে ভাঙন থেকে এলাকা বাঁচবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন