টাকার অভাবে ছেলের মৃত্যুর প্রহর গুনছেন মা-বাবা!
jugantor
টাকার অভাবে ছেলের মৃত্যুর প্রহর গুনছেন মা-বাবা!

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

০৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৮:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবেশী শিশুরা যখন হই-হুল্লোড়ে মেতে থাকে তখন আড়াই বছর বয়সী দীপ্ত হালদারের কান্নাকাটিতে বাড়ির পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। মুখ থেকে হারিয়ে গেছে মা ডাক। হারিয়ে গেছে হাসি। চোখ দিয়ে অঝোরে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত-পুঁজ। প্রস্রাব-পায়খানা দিয়ে আসছে রক্ত। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুটি শুকিয়ে শীর্ণকায় হয়ে পড়েছে।

নির্মাণ শ্রমিক বাবা ভজন হালদার ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। হাল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি মা রত্না হালদার। চিকিৎসকের মতে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও চেষ্টা করা যেতে পারে শিশুটিকে বাঁচানোর। তবে এর জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন; যা নির্মাণ শ্রমিক বাবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া হালদারপাড়া গ্রামের অসহায় এ পরিবারটি ছেলের ‘মৃত্যুর প্রহর’ গুনছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও দীপ্তকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে কয়েক ধাপে চিকিৎসা দিতে হবে। এর জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যয় হবে ৭-৮ লাখ টাকা।

দিশেহারা বাবা-মা অর্থাভাবে চিকিৎসা না করিয়েই ছেলে দীপ্তকে ফিরিয়ে আনেন বাড়িতে। হাল ছেড়ে দিয়ে বাবা ভজন হালদার বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈড় এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন। তবে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা রত্না হালদার। কিন্তু কোথাও মিলছে না সহযোগিতা। শারীরিক যন্ত্রণায় কাতর শিশুটি এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

মা রত্না হালদার এ প্রতিবেদককে বলেন, ছেলের কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না। চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছেন। ধাপে ধাপে চিকিৎসা করাতে হবে। ওর বাবা যা আয় করেন সেটা দিয়ে সংসারই চলে না। টাকার জোগাড়ও করতে পারছি না। এখন ছেলের (দীপ্ত) মৃত্যুর প্রহর গুনছি। সৃষ্টিকর্তা হয়তো আমার ছেলেটার ভাগ্যে এই লিখে রেখেছিলেন। ছেলেকে সুস্থ করতে রত্না হালদার সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরমিলা আক্তার ঝুমি যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসায় শিশুটির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে হাল না ছেড়ে শেষপর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৭-৮ লাখ টাকার মতো।

শিশুটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে 01742303112

টাকার অভাবে ছেলের মৃত্যুর প্রহর গুনছেন মা-বাবা!

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবেশী শিশুরা যখন হই-হুল্লোড়ে মেতে থাকে তখন আড়াই বছর বয়সী দীপ্ত হালদারের কান্নাকাটিতে বাড়ির পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। মুখ থেকে হারিয়ে গেছে মা ডাক। হারিয়ে গেছে হাসি। চোখ দিয়ে অঝোরে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত-পুঁজ। প্রস্রাব-পায়খানা দিয়ে আসছে রক্ত। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুটি শুকিয়ে শীর্ণকায় হয়ে পড়েছে। 

নির্মাণ শ্রমিক বাবা ভজন হালদার ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। হাল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি মা রত্না হালদার। চিকিৎসকের মতে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও চেষ্টা করা যেতে পারে শিশুটিকে বাঁচানোর। তবে এর জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন; যা নির্মাণ শ্রমিক বাবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া হালদারপাড়া গ্রামের অসহায় এ পরিবারটি ছেলের ‘মৃত্যুর প্রহর’ গুনছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও দীপ্তকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে কয়েক ধাপে চিকিৎসা দিতে হবে। এর জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যয় হবে ৭-৮ লাখ টাকা। 

দিশেহারা বাবা-মা অর্থাভাবে চিকিৎসা না করিয়েই ছেলে দীপ্তকে ফিরিয়ে আনেন বাড়িতে। হাল ছেড়ে দিয়ে বাবা ভজন হালদার বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈড় এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন। তবে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা রত্না হালদার। কিন্তু কোথাও মিলছে না সহযোগিতা। শারীরিক যন্ত্রণায় কাতর শিশুটি এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

মা রত্না হালদার এ প্রতিবেদককে বলেন, ছেলের কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না। চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছেন। ধাপে ধাপে চিকিৎসা করাতে হবে। ওর বাবা যা আয় করেন সেটা দিয়ে সংসারই চলে না। টাকার জোগাড়ও করতে পারছি না। এখন ছেলের (দীপ্ত) মৃত্যুর প্রহর গুনছি। সৃষ্টিকর্তা হয়তো আমার ছেলেটার ভাগ্যে এই লিখে রেখেছিলেন। ছেলেকে সুস্থ করতে রত্না হালদার সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরমিলা আক্তার ঝুমি যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসায় শিশুটির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে হাল না ছেড়ে শেষপর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৭-৮ লাখ টাকার মতো।

 শিশুটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে 01742303112

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন