কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার অভিযোগ
jugantor
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার অভিযোগ

  নোয়াখালী প্রতিনিধি  

১০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৬:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার অভিযোগ

কাদের মির্জার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের বাসায় ককটেল হামলা ও ড্রিমল্যান্ড বাস কাউন্টারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিজির হায়াত মঞ্জিলে এ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুল ইসলাম শিমুল চৌধুরীকে (৪৩) মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত জানান, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার বিরোধ বেধে যায়। ওই বিরোধের জের ধরে কাদের মির্জার নির্দেশে তার কয়েকজন অনুসারী এ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় কাচের বড় বড় দুটি জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজে আমরা বাসার ভেতরে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।

খিজির হায়াত খানের সহধর্মিণী ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভিন রুনু দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২০-২৫ জন কাদের মির্জার অনুসারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমাদের বাসার সামনের সড়কে এসে দাঁড়ায়। এর পর তারা আমাদের বাসার সীমানায় প্রবেশ করে বাসা লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়তে থাকে। এ সময় বিকট শব্দে ছয়টির মতো ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ হামলার কিছু দৃশ্য আমাদের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, যা আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছি।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রতে দেখা যায়, ৫-৬ জন যুবক মুখে মুখোশ বেঁধে দেশীয় অস্ত্র হাতে খিজির হায়াত খানের বাসার একেবারে কাছাকাছি চলে আসে। এর পর তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুনরায় রাস্তার দিকে চলে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পারিবারিক বিরোধ কেন্দ্র করে বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী শিমুলের মাথা ফাটিয়ে দেয় একই বাড়ির এক যুবক।

কাদের মির্জার অনুসারীরা অভিযোগ করে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্বের জেরে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য আকরাম উদ্দিন সবুজের ছেলে মঞ্জিল তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে এ ঘটনার জের ধরে রাত পৌনে ১০টার দিকে কাদের মির্জার অনুসারীরা আকরাম উদ্দিন সবুজের বসুরহাট নতুন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ড্রিমলাইন বাস কাউন্টারে অগ্নিসংযোগে করে। স্থানীয়দের তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

একপর্যায়ে কাদের মির্জার অনুসারীরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের বাসায় ককটেল হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাদের মির্জা ও খিজির হায়াত খান-মিজানুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে যে কোনো মুহূর্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে মতামত জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ওসি বলেন, ড্রিমলাইন বাস কাউন্টারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তবে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

সাবেক কাউন্সিলর শিমুল চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৮ মার্চ উপজেলার বসুরহাট বাজারের রুপালি চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় তিনি আদালতে একটি মামলা করেন।

এ ছাড়া গত ৬ মে রাতে খিজির হায়াত খান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি থেকে বসুরহাট বাজারে আসার পথে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বদু কেরানির পোল এলাকায় পৌঁছলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারী পৌরসভা ৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. রাসেল ও একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি আইনাল মারুফের নেতৃত্বে ৮-১০ জন তার রিকশার গতিরোধ করে হামলা চালায়।

পরে ভুক্তভোগী খিজির হায়াত খান নিজেই বাদী হয়ে ওই ঘটনায় দুজনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার অভিযোগ

 নোয়াখালী প্রতিনিধি 
১০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

কাদের মির্জার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের বাসায় ককটেল হামলা ও ড্রিমল্যান্ড বাস কাউন্টারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিজির হায়াত মঞ্জিলে এ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুল ইসলাম শিমুল চৌধুরীকে (৪৩) মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত জানান, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার বিরোধ বেধে যায়। ওই বিরোধের জের ধরে কাদের মির্জার নির্দেশে তার কয়েকজন অনুসারী এ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় কাচের বড় বড় দুটি জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। 

একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজে আমরা বাসার ভেতরে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।

খিজির হায়াত খানের সহধর্মিণী ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভিন রুনু দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২০-২৫ জন কাদের মির্জার অনুসারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমাদের বাসার সামনের সড়কে এসে দাঁড়ায়। এর পর তারা আমাদের বাসার সীমানায় প্রবেশ করে বাসা লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়তে থাকে। এ সময় বিকট শব্দে ছয়টির মতো ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ হামলার কিছু দৃশ্য আমাদের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, যা আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছি।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রতে দেখা যায়, ৫-৬ জন যুবক মুখে মুখোশ বেঁধে দেশীয় অস্ত্র হাতে খিজির হায়াত খানের বাসার একেবারে কাছাকাছি চলে আসে। এর পর তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুনরায় রাস্তার দিকে চলে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পারিবারিক বিরোধ কেন্দ্র করে বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী শিমুলের মাথা ফাটিয়ে দেয় একই বাড়ির এক যুবক। 

কাদের মির্জার অনুসারীরা অভিযোগ করে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্বের জেরে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য আকরাম উদ্দিন সবুজের ছেলে মঞ্জিল তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে এ ঘটনার জের ধরে রাত পৌনে ১০টার দিকে কাদের মির্জার অনুসারীরা আকরাম উদ্দিন সবুজের বসুরহাট নতুন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ড্রিমলাইন বাস কাউন্টারে অগ্নিসংযোগে করে। স্থানীয়দের তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

একপর্যায়ে কাদের মির্জার অনুসারীরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের বাসায় ককটেল হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাদের মির্জা ও খিজির হায়াত খান-মিজানুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে যে কোনো মুহূর্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে মতামত জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসায় ককটেল হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ওসি বলেন, ড্রিমলাইন বাস কাউন্টারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তবে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

সাবেক কাউন্সিলর শিমুল চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৮ মার্চ উপজেলার বসুরহাট বাজারের রুপালি চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। 

এ ছাড়া গত ৬ মে রাতে খিজির হায়াত খান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি থেকে বসুরহাট বাজারে আসার পথে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বদু কেরানির পোল এলাকায় পৌঁছলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারী পৌরসভা ৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. রাসেল ও একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি আইনাল মারুফের নেতৃত্বে ৮-১০ জন তার রিকশার গতিরোধ করে হামলা চালায়। 

পরে ভুক্তভোগী খিজির হায়াত খান নিজেই বাদী হয়ে ওই ঘটনায় দুজনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন