টাকা রেখেই ফিরে গেলেন অনশনরত প্রবাসীর সেই সাবেক স্ত্রী
jugantor
টাকা রেখেই ফিরে গেলেন অনশনরত প্রবাসীর সেই সাবেক স্ত্রী

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর ২০২১, ২০:০২:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বিয়ের দাবিতে হাজীগঞ্জে চাচার বাড়িতে অনশন শুরু করেছিলেন এক প্রবাসীর সাবেক স্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী হাজীগঞ্জের বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহারা গ্রামে লালু মাঝির বাড়িতে অবস্থান নেন। লালু মাঝির ছেলে রাজন সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতভর নাটেহারা গ্রামে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর নেতৃত্বে সালিশ বেঠক বসে। বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে ওই নারীর বোনজামাই মাছুম জানান, বৈঠকে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা নারীর বাবা রাজনকে বারবার হাজির করার জন্য দাবি করলেও তা হয়নি। পরে ৩০ হাজার টাকা না নিয়েই রোববার সকালে ভৈরবে ফিরে যান। সেখানে কোনো আপস মীমাংসা হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলার নাটেহারা গ্রামের মাঝি বাড়ির লালু মাঝি ও নজমিয়া আপন ভাই। নজমিয়া দীর্ঘদিন আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাজীগঞ্জ ত্যাগ করে ভৈরবে চলে যান। বর্তমানে তারা ভৈরবেই বসবাস করছেন।

অনশনকারী নারী জানান, তার বাবা নজমিয়া মোবাইলে এক প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে দেন। কিন্তু চার চাচাতো ভাই রাজন (২৫) কাজের সুবিধার্থে ভৈরবে যায়। সেখানে তাকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে। শুধু তাই নয়, তার প্রবাসী স্বামীকে সেই ছবিটি পাঠিয়ে দেয় এবং এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

এ বিষয়ে অনশনরত নারীর বড়বোন তাসলিমার জামাই মাছুম যুগান্তরকে জানান, ভুক্তভোগীকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে। তার সুষ্ঠু সমাধান পেতে আমরা হাজীগঞ্জে এসেছি। খবর শুনে আমার শ্বশুর নজমিয়াও ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে লালুর ছেলে রাজন আত্মগোপনে চলে গেছে। অনশনকালে রাজনের মা শিখা রানী বলেছিলেন, দুই মাস আগে ঘটনা জানতে পেরেছি। এখন ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

রোববার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই নারী সন্তান প্রসবের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে জানান, ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকা রেখেই ফিরে গেলেন অনশনরত প্রবাসীর সেই সাবেক স্ত্রী

 হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি  
১০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিয়ের দাবিতে হাজীগঞ্জে চাচার বাড়িতে অনশন শুরু করেছিলেন এক প্রবাসীর সাবেক স্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী হাজীগঞ্জের বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহারা গ্রামে লালু মাঝির বাড়িতে অবস্থান নেন। লালু মাঝির ছেলে রাজন সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতভর নাটেহারা গ্রামে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর নেতৃত্বে সালিশ বেঠক বসে। বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে ওই নারীর বোনজামাই মাছুম জানান, বৈঠকে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা নারীর বাবা রাজনকে বারবার হাজির করার জন্য দাবি করলেও তা হয়নি। পরে ৩০ হাজার টাকা না নিয়েই রোববার সকালে ভৈরবে ফিরে যান। সেখানে কোনো আপস মীমাংসা হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলার নাটেহারা গ্রামের মাঝি বাড়ির লালু মাঝি ও নজমিয়া আপন ভাই। নজমিয়া দীর্ঘদিন আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাজীগঞ্জ ত্যাগ করে ভৈরবে চলে যান। বর্তমানে তারা ভৈরবেই বসবাস করছেন।

অনশনকারী নারী জানান, তার বাবা নজমিয়া মোবাইলে এক প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে দেন। কিন্তু চার চাচাতো ভাই রাজন (২৫) কাজের সুবিধার্থে ভৈরবে যায়। সেখানে তাকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে। শুধু তাই নয়, তার প্রবাসী স্বামীকে সেই ছবিটি পাঠিয়ে দেয় এবং এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

এ বিষয়ে অনশনরত নারীর বড়বোন তাসলিমার জামাই মাছুম যুগান্তরকে জানান, ভুক্তভোগীকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে। তার সুষ্ঠু সমাধান পেতে আমরা হাজীগঞ্জে এসেছি। খবর শুনে আমার শ্বশুর নজমিয়াও ছুটে আসেন। 

খবর পেয়ে লালুর ছেলে রাজন আত্মগোপনে চলে গেছে। অনশনকালে রাজনের মা শিখা রানী বলেছিলেন, দুই মাস আগে ঘটনা জানতে পেরেছি। এখন ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

রোববার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই নারী সন্তান প্রসবের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে জানান, ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন