তরমুজের গুড়ে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি
jugantor
তরমুজের গুড়ে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা  

১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৬:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

তরমুজের গুড়

খুলনায় তরমুজ থেকে তৈরি করা গুড় নিয়ে আলোচনা এখন দেশব্যাপী। শুধু দেশ নয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় সমাজের বিভিন্ন মহল ও বিদেশ থেকে কৌতূহলী মানুষ তরমুজের গুড়ের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এটি বাণিজ্যিকভাবে যদি তৈরি করা যায়, তবে ভালো সাড়া মিলবে বলে আশাবাদী কৃষক ও কৃষিবিদরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় সর্বপ্রথম তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করেন কৃষক মো. আব্দুর রহমান শেখ। প্রায় ৫০ বছর বয়সি এই কৃষক স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করেন। এর পর চলতি অক্টোবর মাসে অসময়ের তরমুজ (আনসিজিনাল) থেকে ফের গুড় তৈরি করেন ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল।

কৃষিবিদদের দাবি, যেসব তরমুজ কৃষক বিক্রি করতে পারেন না, তা দিয়ে তরমুজের গুড় তৈরি করে লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা। আগামীতে তরমুজের মৌসুমে বিষয়টিতে কৃষকরা গুরুত্ব দেবেন।

বটিয়াঘাটা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরদার আব্দুল মান্নান যুগান্তরকে জানান, গত ২৩ মে তার বুনারাবাদ ব্লকের কৃষক আব্দুর রহমান তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করেন। বিষয়টি তখন এলাকায় বেশ আলোচিত হয়েছিল। স্থানীয় কৃষি অফিসার, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ অনেক উৎসাহী মানুষ তরমুজের গুড় খেতে এসেছিলেন।

অনেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে গুড় কিনতেও চেয়েছিল; কিন্তু আব্দুর রহমান সেটি বিক্রি করেননি। গেল মৌসুমে বটিয়াঘাটা উপজেলায় সাড়ে ৯৬ হাজার ৭৫০ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেতে তরমুজের সাইজ ছোট এবং ফেটে গিয়েছিল। যা কৃষকরা বিক্রি করতে পারেননি।

কৃষক মো. আব্দুর রহমান শেখ জানান, গেল তরমুজের সিজিনে তিনি দুই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। অনেক তরমুজ ফেটে গিয়েছিল। কিছু তরমুজ গাড়িতে লোড দেওয়ার সময় নষ্ট হয়েছিল। আবার কিছু তরমুজ সাইজে খুবই ছোট ছিল, যা স্থানীয় ভাষায় ক্যাট বলে প্রচলিত। এসব অবিক্রীত তরমুজের পরিমাণ অনেক ছিল। এর পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি তরমুজ থেকে গুড় তৈরির চেষ্টা করলেন। প্রথম ধাপে গুড় খুব ভালো জ্বালানো হয়, যার ফলে খেতেও সুস্বাদু হয়েছিল।

এদিকে বর্তমানে তরমুজের মৌসুম না হলেও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আনসিজিনাল তরমুজের চাষ করা হচ্ছে। যেসব তরমুজ বিক্রিযোগ্য নয়, এমন তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করতে সফলতা পেয়েছে উপজেলার ছোটবন্ড এলাকার কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। তিনিও স্থানীয় সাংসদ ও কৃষি কর্মকর্তাকে তরমুজের গুড় দিয়েছেন। তার কাছ থেকে অনেকেই গুড় কিনতে চেয়েছিলেন।

কৃষক আব্দুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের মতো লবণাক্ত খুলনা এলাকার অনেক কৃষকই হেক্টর হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেন। অবিক্রীত থেকে যায় বিপুল তরমুজ। চলতি বছরে তরমুজের গুড়ের জনপ্রিয়তা দেখে আগামী মৌসুমে তারা অবিক্রীত তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করে সেটি বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে করে কৃষকদের লোকসান কমবে। সাধারণ মানুষ তালের গুড়, খেজুরের গুড়ের মতো তরমুজের গুড়ের স্বাদ পাবেন।

তারা জানান, অবিক্রীত তরমুজের লাল অংশটুকু নেট বা জালি দিয়ে তারা ছেঁকে নেন। এর পর সেটি পাত্রে ৪-৫ ঘণ্টা আগুন দিয়ে জাল দেন। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় না। তবে গুড়টি কতদিন খাওয়া যাবে বা এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও কোনো সংস্থা খুলনায় গবেষণা শুরু করেননি।

তরমুজের গুড়ে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা 
১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তরমুজের গুড়
ছবি: যুগান্তর

খুলনায় তরমুজ থেকে তৈরি করা গুড় নিয়ে আলোচনা এখন দেশব্যাপী। শুধু দেশ নয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় সমাজের বিভিন্ন মহল ও বিদেশ থেকে কৌতূহলী মানুষ তরমুজের গুড়ের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এটি বাণিজ্যিকভাবে যদি তৈরি করা যায়, তবে ভালো সাড়া মিলবে বলে আশাবাদী কৃষক ও কৃষিবিদরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় সর্বপ্রথম তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করেন কৃষক মো. আব্দুর রহমান শেখ। প্রায় ৫০ বছর বয়সি এই কৃষক স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করেন। এর পর চলতি অক্টোবর মাসে অসময়ের তরমুজ (আনসিজিনাল) থেকে ফের গুড় তৈরি করেন ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। 

কৃষিবিদদের দাবি, যেসব তরমুজ কৃষক বিক্রি করতে পারেন না, তা দিয়ে তরমুজের গুড় তৈরি করে লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা। আগামীতে তরমুজের মৌসুমে বিষয়টিতে কৃষকরা গুরুত্ব দেবেন।

বটিয়াঘাটা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরদার আব্দুল মান্নান যুগান্তরকে জানান, গত ২৩ মে তার বুনারাবাদ ব্লকের কৃষক আব্দুর রহমান তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করেন। বিষয়টি তখন এলাকায় বেশ আলোচিত হয়েছিল। স্থানীয় কৃষি অফিসার, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ অনেক উৎসাহী মানুষ তরমুজের গুড় খেতে এসেছিলেন। 

অনেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে গুড় কিনতেও চেয়েছিল; কিন্তু আব্দুর রহমান সেটি বিক্রি করেননি। গেল মৌসুমে বটিয়াঘাটা উপজেলায় সাড়ে ৯৬ হাজার ৭৫০ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেতে তরমুজের সাইজ ছোট এবং ফেটে গিয়েছিল। যা কৃষকরা বিক্রি করতে পারেননি। 

কৃষক মো. আব্দুর রহমান শেখ জানান, গেল তরমুজের সিজিনে তিনি দুই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। অনেক তরমুজ ফেটে গিয়েছিল। কিছু তরমুজ গাড়িতে লোড দেওয়ার সময় নষ্ট হয়েছিল। আবার কিছু তরমুজ সাইজে খুবই ছোট ছিল, যা স্থানীয় ভাষায় ক্যাট বলে প্রচলিত। এসব অবিক্রীত তরমুজের পরিমাণ অনেক ছিল। এর পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি তরমুজ থেকে গুড় তৈরির চেষ্টা করলেন। প্রথম ধাপে গুড় খুব ভালো জ্বালানো হয়, যার ফলে খেতেও সুস্বাদু হয়েছিল। 

এদিকে বর্তমানে তরমুজের মৌসুম না হলেও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আনসিজিনাল তরমুজের চাষ করা হচ্ছে। যেসব তরমুজ বিক্রিযোগ্য নয়, এমন তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করতে সফলতা পেয়েছে উপজেলার ছোটবন্ড এলাকার কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। তিনিও স্থানীয় সাংসদ ও কৃষি কর্মকর্তাকে তরমুজের গুড় দিয়েছেন। তার কাছ থেকে অনেকেই গুড় কিনতে চেয়েছিলেন।

কৃষক আব্দুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের মতো লবণাক্ত খুলনা এলাকার অনেক কৃষকই হেক্টর হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেন। অবিক্রীত থেকে যায় বিপুল তরমুজ। চলতি বছরে তরমুজের গুড়ের জনপ্রিয়তা দেখে আগামী মৌসুমে তারা অবিক্রীত তরমুজ থেকে গুড় তৈরি করে সেটি বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে করে কৃষকদের লোকসান কমবে। সাধারণ মানুষ তালের গুড়, খেজুরের গুড়ের মতো তরমুজের গুড়ের স্বাদ পাবেন। 

তারা জানান, অবিক্রীত তরমুজের লাল অংশটুকু নেট বা জালি দিয়ে তারা ছেঁকে নেন। এর পর সেটি পাত্রে ৪-৫ ঘণ্টা আগুন দিয়ে জাল দেন। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় না। তবে গুড়টি কতদিন খাওয়া যাবে বা এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও কোনো সংস্থা খুলনায় গবেষণা শুরু করেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন