ফৌজদারি মামলার আসামি আরএমপিতে বহাল তবিয়তে
jugantor
ফৌজদারি মামলার আসামি আরএমপিতে বহাল তবিয়তে

  রাজশাহী ব্যুরো  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:১৩:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব

ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মামলার বাদী রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকার মোসা. সায়েরা খাতুন এ নিয়ে আরএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব দলবল নিয়ে সায়েরা খাতুনের জমির সীমানাপ্রাচীর ভাংচুর করেন। বাধা দিতে গেলে জুলমাত হাবিব তাকে হত্যার হুমকি দেন।

সীমানাপ্রাচীর ভাংচুরের কারণে অভিযোগকারীর ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। ভুক্তভোগী সায়েরা খাতুন রাজপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে জুলমাত হাবিব থানা পুলিশের প্রভাব খাটান। তিনি আরএমপির প্রধান সহকারী হওয়ায় থানা পুলিশ তার মামলা রেকর্ড না করে ফেরত দেয়।

পরবর্তীতে সায়েরা খাতুন ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে জুলমাত হাবিবসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১/২১)। বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। বাদী অভিযুক্ত জুলমাত হাবিব ও তার সহযোগীদের ভাংচুর ও ত্রাস সৃষ্টির সিসিটিভি ফুটেজ আদালত ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম তদন্ত শেষে অভিযুক্ত জুলমাত হাবিব ও একরামুল হককে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ফলে আদালতের বিচারক অভিযুক্ত হাবিব ও একরামুল হকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। জুলমাত হাবিব ও একরামুল হক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

১৯৭৮ সালের ২১ নভেম্বর জারিকৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ও শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অভিযোগে অথবা দেনার দায়ে গ্রেফতার অথবা আদালতে হাজির হয়ে জামিন গ্রহণ করলে সেই দিন থেকে তিনি সাময়িক বরখাস্ত বলে বিবেচিত হবেন। তিনি ততদিন পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন, যতদিন না মামলার অভিযোগ থেকে আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাবেন। কিন্তু বাড়ির আঙিনা ভাংচুরে অভিযুক্ত জুলমাত হাবিব এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ তথ্য গোপন করেছেন।

এ কারণে বাদী সায়েরা খাতুন আরএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।

ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জুলমাত হাবিব বলেন, আরএমপি কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালি জানানো হয়নি। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-হেডকোয়ার্টার্স) মো. রাশিদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, আইনটি ঠিকই আছে। তবে আরএমপির প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিবের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তারা অবগত নন। ভুক্তভোগী কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন কিনা তাও তার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরে তিনি জানাতে পারবেন বলে জানান।

ফৌজদারি মামলার আসামি আরএমপিতে বহাল তবিয়তে

 রাজশাহী ব্যুরো 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব
রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব। ছবি: যুগান্তর

ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মামলার বাদী রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকার মোসা. সায়েরা খাতুন এ নিয়ে আরএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিব দলবল নিয়ে সায়েরা খাতুনের জমির সীমানাপ্রাচীর ভাংচুর করেন। বাধা দিতে গেলে জুলমাত হাবিব তাকে হত্যার হুমকি দেন।

সীমানাপ্রাচীর ভাংচুরের কারণে অভিযোগকারীর ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। ভুক্তভোগী সায়েরা খাতুন রাজপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে জুলমাত হাবিব থানা পুলিশের প্রভাব খাটান। তিনি আরএমপির প্রধান সহকারী হওয়ায় থানা পুলিশ তার মামলা রেকর্ড না করে ফেরত দেয়।

পরবর্তীতে সায়েরা খাতুন ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে জুলমাত হাবিবসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১/২১)। বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। বাদী অভিযুক্ত জুলমাত হাবিব ও তার সহযোগীদের ভাংচুর ও ত্রাস সৃষ্টির সিসিটিভি ফুটেজ আদালত ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম তদন্ত শেষে অভিযুক্ত জুলমাত হাবিব ও একরামুল হককে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ফলে আদালতের বিচারক অভিযুক্ত হাবিব ও একরামুল হকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। জুলমাত হাবিব ও একরামুল হক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

১৯৭৮ সালের ২১ নভেম্বর জারিকৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ও শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অভিযোগে অথবা দেনার দায়ে গ্রেফতার অথবা আদালতে হাজির হয়ে জামিন গ্রহণ করলে সেই দিন থেকে তিনি সাময়িক বরখাস্ত বলে বিবেচিত হবেন। তিনি ততদিন পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন, যতদিন না মামলার অভিযোগ থেকে আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাবেন। কিন্তু বাড়ির আঙিনা ভাংচুরে অভিযুক্ত জুলমাত হাবিব এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ তথ্য গোপন করেছেন।

এ কারণে বাদী সায়েরা খাতুন আরএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।

ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জুলমাত হাবিব বলেন, আরএমপি কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালি জানানো হয়নি। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-হেডকোয়ার্টার্স) মো. রাশিদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, আইনটি ঠিকই আছে। তবে আরএমপির প্রধান সহকারী জুলমাত হাবিবের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তারা অবগত নন। ভুক্তভোগী কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন কিনা তাও তার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরে তিনি জানাতে পারবেন বলে জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন