কেউ খাসজমি দখল করলে আমার কী করার আছে: ইউএনও 
jugantor
কেউ খাসজমি দখল করলে আমার কী করার আছে: ইউএনও 

  পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৬:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে পেরিফেরিভুক্ত হাটের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও কাজ বন্ধ করছেন না ইউএনও।

উল্টো তিনি প্রশ্ন করে বলেন, খামজমি মানুষ দখল করলে আমার কী করার আছে!

নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও দখলদারদের পক্ষ নিয়ে ইউএনও জেলা প্রশাসনকে জানান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ জোরেশোরে চলছে অবৈধ স্থাপনার নির্মাণ কাজ। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর-পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ করছেন সরকার দলীয় দুই নেতাসহ কতিপয় ব্যক্তি। ওই নেতারা ছাড়াও কয়েকজন হাটের জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিমকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেননি তিনি। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে গত বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মাববুবুর রহমান। নির্দেশ পাওয়ার পর ইউএনও অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দখলদার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমানকে জানান নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ কাজ চলমান ছিল। বৃহস্পতিবার সারাদিন স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলে।

সাংবাদিকরা এর স্থির ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে জেলা প্রশাসকের মতামত চাইলে তিনি জানান, পীরগঞ্জের ইউএনও তাকে জানিয়েছেন কাজ বন্ধ রয়েছে। পরে সাংবাদিকদের ধারণ করা স্থির ও ভিডিও চিত্রগুলো দেখেন এবং ইউএনওর কাছে জানতে চান জেলা প্রশাসক।

এ সময় ইউএনও রেজাউল করিম জেলা প্রশাসককে ভুল-ভাল তথ্য দেন এবং নিশ্চিত করে বলেন, এমনটা আর হবে না। অথচ শুক্রবারও যথারীতি ভবন নির্মাণ কাজ চলে। দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে, কাজ চলছে এমন ছবি চান তিনি। ছবি পাঠানোর পর জেলা প্রশাসক জানতে চাইলে ইউএনও দখলদারদের পক্ষে তার কাছে সাফাই গান। পরে শহরের ডলি ফার্মেসির সামনে গাড়ি থামিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে গালিগালাজ করেন ইউএনও।

জলি ফার্মেসির মালিক স্বপন কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, জমি দখলের সংবাদ করায় ইউএনও আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। শুনে খারাপ লেগেছে।

সাংবাদিকদের গালিগালাজ করা প্রসঙ্গে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু সায়েম বলেন, পীরগঞ্জ ইউএনও সরকারি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কাজ করছেন। তার এ কর্মকাণ্ড সরকারি জমি দখলে মানুষকে উৎসাহিত করছে।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, সাংবাদিকরা কোনো পক্ষ নন। ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তারা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন মাত্র। এতে কারও আঁতে ঘা লাগলে সাংবাদিকদের নামে উল্টাপাল্টা বলেই থাকেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে গালিগালাজ করিনি। তবে কারও কারও আচরণে বিব্রত হই। তাছাড়া খাসজমি মানুষ দখল করলে আমার কী করার আছে?

কেউ খাসজমি দখল করলে আমার কী করার আছে: ইউএনও 

 পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে পেরিফেরিভুক্ত হাটের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও কাজ বন্ধ করছেন না ইউএনও। 

উল্টো তিনি প্রশ্ন করে বলেন, খামজমি মানুষ দখল করলে আমার কী করার আছে! 

নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও দখলদারদের পক্ষ নিয়ে ইউএনও জেলা প্রশাসনকে জানান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ জোরেশোরে চলছে অবৈধ স্থাপনার নির্মাণ কাজ। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন তিনি। 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর-পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ করছেন সরকার দলীয় দুই নেতাসহ কতিপয় ব্যক্তি। ওই নেতারা ছাড়াও কয়েকজন হাটের জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিমকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেননি তিনি। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে গত বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মাববুবুর রহমান। নির্দেশ পাওয়ার পর ইউএনও অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দখলদার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। 

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমানকে জানান নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ কাজ চলমান ছিল। বৃহস্পতিবার সারাদিন স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলে। 

সাংবাদিকরা এর স্থির ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে জেলা প্রশাসকের মতামত চাইলে তিনি জানান, পীরগঞ্জের ইউএনও তাকে জানিয়েছেন কাজ বন্ধ রয়েছে। পরে সাংবাদিকদের ধারণ করা স্থির ও ভিডিও চিত্রগুলো দেখেন এবং ইউএনওর কাছে জানতে চান জেলা প্রশাসক। 

এ সময় ইউএনও রেজাউল করিম জেলা প্রশাসককে ভুল-ভাল তথ্য দেন এবং নিশ্চিত করে বলেন, এমনটা আর হবে না। অথচ শুক্রবারও যথারীতি ভবন নির্মাণ কাজ চলে। দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে, কাজ চলছে এমন ছবি চান তিনি। ছবি পাঠানোর পর জেলা প্রশাসক জানতে চাইলে ইউএনও দখলদারদের পক্ষে তার কাছে সাফাই গান। পরে শহরের ডলি ফার্মেসির সামনে গাড়ি থামিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে গালিগালাজ করেন ইউএনও। 

জলি ফার্মেসির মালিক স্বপন কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, জমি দখলের সংবাদ করায় ইউএনও আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। শুনে খারাপ লেগেছে।

সাংবাদিকদের গালিগালাজ করা প্রসঙ্গে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু সায়েম বলেন, পীরগঞ্জ ইউএনও সরকারি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কাজ করছেন। তার এ কর্মকাণ্ড সরকারি জমি দখলে মানুষকে উৎসাহিত করছে।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, সাংবাদিকরা কোনো পক্ষ নন। ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তারা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন মাত্র। এতে কারও আঁতে ঘা লাগলে সাংবাদিকদের নামে উল্টাপাল্টা বলেই থাকেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে গালিগালাজ করিনি। তবে কারও কারও আচরণে বিব্রত হই। তাছাড়া খাসজমি মানুষ দখল করলে আমার কী করার আছে?

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন