২২ বছর শিকলবন্দি জীবন হাসানের
jugantor
২২ বছর শিকলবন্দি জীবন হাসানের

  শাহরিয়ার আলম সোহাগ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)  

১৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:০০:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসান

দেড় বছর বয়সে হয়েছিল নিউমোনিয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক দেখিয়েও সুস্থ হয়নি। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায় ছেলেটা। হাঁটা শেখার পর বাড়ি থেকে অনেকবার হারিয়ে গেছে। খুঁজে আনতে বেশ কষ্টও হয়েছে। হাসান যেন আর হারিয়ে না যায় এজন্য পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

কথাগুলো বলছিলেন হাসানের বাবা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নাকোবাড়িয়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম।

সরেজমিন তাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, হাসানকে বাড়ির লোহার গেটে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। রাস্তা দিয়ে মানুষ গেলে তাকিয়ে থাকে। ধুলা-বালি মাখা শরীর, পায়ে লোহার শিকল। পাশ দিয়ে কেউ গেলে ইশারায় পান চান।

হাসানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৬ বছর বয়সী হাসানের জীবনের ২২টি বছর কেটে যাচ্ছে শিকলবন্দি অবস্থায়।

কবির হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, ছোটবেলা থেকে হাসানকে তিনি পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখছেন। হাসান কাউকে মারধর করে না।

হাসানের চাচা রবিউল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাসান মানসিক প্রতিবন্ধী। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু ভালো হয়নি। হাসানের বাবা চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। সে অনেকবার হারিয়ে গেছে, বহু কষ্টে খুঁজে আনা হয়েছে। এখন উপায় না পেয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

হাসানের মা শুকুরন নেছা মা হয়ে সন্তানের এমন দৃশ্য কীভাবে সহ্য করব- বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, খাবার দিলে খায়, না দিলে খায় না। রাতে ঘরের বারান্দায় এবং দিনে রাস্তার পাশে জামগাছে বেঁধে রাখা হয়।

শুকুরন নেছা জানান, দেড় বছর বয়সে হাসানের নিউমোনিয়া হয়। স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসককে দেখানোর পর ৩ বছর পর্যন্ত ঝিনাইদহে অলোক কুমার সাহা নামে একজন ডাক্তারের কাছে দেখানো হয়। ডাক্তার অলোক বলেছিলেন, ভালো হয়ে যাবে। এরপর ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। পরে যশোরের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেছিলেন, ভুল চিকিৎসায় এমন হয়েছে।

হাসানের পিতা রেজাউল ইসলাম বলেন, হাসানকে নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল, সব আশা ভেঙে গেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছি। এখন আমি সর্বস্বান্ত। ছেলের চিকিৎসা করাতে করাতে সব শেষ করে ফেলেছি। মানসিক প্রতিবন্ধী হাসানের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

জামাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের হোসেন মণ্ডল বলেন, হাসানের পরিবার খুবই কষ্টে আছে। এমন দৃশ্য আসলে দেখা যায় না। গত বছর একটি প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছে হাসান। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা এলে হাসানের বিষয়ে সুদৃষ্টি থাকবে বলেও জানান তিনি।

২২ বছর শিকলবন্দি জীবন হাসানের

 শাহরিয়ার আলম সোহাগ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) 
১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হাসান
শিকলবন্দি হাসান

দেড় বছর বয়সে হয়েছিল নিউমোনিয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক দেখিয়েও সুস্থ হয়নি। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায় ছেলেটা। হাঁটা শেখার পর বাড়ি থেকে অনেকবার হারিয়ে গেছে। খুঁজে আনতে বেশ কষ্টও হয়েছে। হাসান যেন আর হারিয়ে না যায় এজন্য পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

কথাগুলো বলছিলেন হাসানের বাবা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নাকোবাড়িয়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম।

সরেজমিন তাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, হাসানকে বাড়ির লোহার গেটে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। রাস্তা দিয়ে মানুষ গেলে তাকিয়ে থাকে। ধুলা-বালি মাখা শরীর, পায়ে লোহার শিকল। পাশ দিয়ে কেউ গেলে ইশারায় পান চান।

হাসানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৬ বছর বয়সী হাসানের জীবনের ২২টি বছর কেটে যাচ্ছে শিকলবন্দি অবস্থায়।

কবির হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, ছোটবেলা থেকে হাসানকে তিনি পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখছেন। হাসান কাউকে মারধর করে না।

হাসানের চাচা রবিউল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাসান মানসিক প্রতিবন্ধী। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু ভালো হয়নি। হাসানের বাবা চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। সে অনেকবার হারিয়ে গেছে, বহু কষ্টে খুঁজে আনা হয়েছে। এখন উপায় না পেয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

হাসানের মা শুকুরন নেছা মা হয়ে সন্তানের এমন দৃশ্য কীভাবে সহ্য করব- বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, খাবার দিলে খায়, না দিলে খায় না। রাতে ঘরের বারান্দায় এবং দিনে রাস্তার পাশে জামগাছে বেঁধে রাখা হয়।

শুকুরন নেছা জানান, দেড় বছর বয়সে হাসানের নিউমোনিয়া হয়। স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসককে দেখানোর পর ৩ বছর পর্যন্ত ঝিনাইদহে অলোক কুমার সাহা নামে একজন ডাক্তারের কাছে দেখানো হয়। ডাক্তার অলোক বলেছিলেন, ভালো হয়ে যাবে। এরপর ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। পরে যশোরের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেছিলেন, ভুল চিকিৎসায় এমন হয়েছে।

হাসানের পিতা রেজাউল ইসলাম বলেন, হাসানকে নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল, সব আশা ভেঙে গেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছি। এখন আমি সর্বস্বান্ত। ছেলের চিকিৎসা করাতে করাতে সব শেষ করে ফেলেছি। মানসিক প্রতিবন্ধী হাসানের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

জামাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের হোসেন মণ্ডল বলেন, হাসানের পরিবার খুবই কষ্টে আছে। এমন দৃশ্য আসলে দেখা যায় না। গত বছর একটি প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছে হাসান। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা এলে হাসানের বিষয়ে সুদৃষ্টি থাকবে বলেও জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন