জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর, আজও মেলেনি স্বীকৃতি
jugantor
জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর, আজও মেলেনি স্বীকৃতি

  ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৪৪:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর, আজও মেলেনি স্বীকৃতি

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমান খলিল। জীবনের শেষ সময়ে অনেকটাই শয্যাশায়ী রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের এই সংগঠক।

এখনও স্বীকৃতি মেলেনি। পরিবারের প্রশ্ন— আর কবে মিলবে ভাষাসৈনিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি? অথচ খলিলুর রহমানের শেষ স্বপ্ন এবং চাওয়া ছিল একটিই— ভাষাসৈনিক হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া।

খলিলুরের পরিবার জানায়, ১৯৫১ সালে ভাষা আন্দোলন চলাকালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন খলিলুর রহমান। এর পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেন তিনি। তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ কলেজের একটি ইউনিটের ছাত্রনেতা হিসেবে মিছিল-মিটিংয়ের নেতৃত্ব দিতেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলি চালাচ্ছিল, তখন তিনি ছিলেন ওই মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলিতে ভাষাশহীদরা গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়লে তিনিও অন্যান্য ছাত্রের সঙ্গে পুলিশের তাড়া খেয়ে আত্মগোপন করেন। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

পর দিন ২২ ফেব্রুয়ারি মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ খলিলুর রহমান সেই সময়ের সহগামী, সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও তার স্মৃতিপটে ভাসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর তিনি নিজেকে দীর্ঘ ৬২ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন। কখনই বলেননি তিনি একজন ভাষাসৈনিক।

২০১৫ সালে প্রথম তাকে নিয়ে জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে তাকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল, জাতীয় পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই দাবি জোরালো হচ্ছিল ভেড়ামারার একমাত্র ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার। ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন সময়ে উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৮ সালে ভেড়ামারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শতবর্ষ উৎসব হলে ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমানকে সম্মামনা জানানো হয়। এর পর ভেড়ামারা বণিক সমিতি, প্রসিড একাডেমিসহ স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠান তাকে ভাষাসৈনিক হিসেবে সম্মাননা জানান। কিন্তু বহু সময় অতিবাহিত হলেও এখনও জুটেনি ভাষাসৈনিকের স্বীকৃতি। মৃত্যুর আগে আর ভাষাসৈনিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলবে কিনা তাও জানে না তার পরিবার।

খলিলুর রহমানের একমাত্র ছেলে রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তার বাবা একজন ভাষাসৈনিক হওয়ায় তারা গর্বিত। তার বাবার স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির।

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর, আজও মেলেনি স্বীকৃতি

 ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর, আজও মেলেনি স্বীকৃতি
ছবি: যুগান্তর

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ভেড়ামারার ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমান খলিল।  জীবনের শেষ সময়ে অনেকটাই শয্যাশায়ী রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের এই সংগঠক।

এখনও স্বীকৃতি মেলেনি। পরিবারের প্রশ্ন— আর কবে মিলবে ভাষাসৈনিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি? অথচ খলিলুর রহমানের শেষ স্বপ্ন এবং চাওয়া ছিল একটিই— ভাষাসৈনিক হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া।

খলিলুরের পরিবার জানায়, ১৯৫১ সালে ভাষা আন্দোলন চলাকালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন খলিলুর রহমান। এর পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেন তিনি। তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ কলেজের একটি ইউনিটের ছাত্রনেতা হিসেবে মিছিল-মিটিংয়ের নেতৃত্ব দিতেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলি চালাচ্ছিল, তখন তিনি ছিলেন ওই মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলিতে ভাষাশহীদরা গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়লে তিনিও অন্যান্য ছাত্রের সঙ্গে পুলিশের তাড়া খেয়ে আত্মগোপন করেন। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

পর দিন ২২ ফেব্রুয়ারি মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ খলিলুর রহমান সেই সময়ের সহগামী, সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও তার স্মৃতিপটে ভাসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর তিনি নিজেকে দীর্ঘ ৬২ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন। কখনই বলেননি তিনি একজন ভাষাসৈনিক।

২০১৫ সালে প্রথম তাকে নিয়ে জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে তাকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল, জাতীয় পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই দাবি জোরালো হচ্ছিল ভেড়ামারার একমাত্র ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার।  ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন সময়ে উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৮ সালে ভেড়ামারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শতবর্ষ উৎসব হলে ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমানকে সম্মামনা জানানো হয়। এর পর ভেড়ামারা বণিক সমিতি, প্রসিড একাডেমিসহ স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠান তাকে ভাষাসৈনিক হিসেবে সম্মাননা জানান। কিন্তু বহু সময় অতিবাহিত হলেও এখনও জুটেনি ভাষাসৈনিকের স্বীকৃতি। মৃত্যুর আগে আর ভাষাসৈনিকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলবে কিনা তাও জানে না তার পরিবার।

খলিলুর রহমানের একমাত্র ছেলে রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তার বাবা একজন ভাষাসৈনিক হওয়ায় তারা গর্বিত। তার বাবার স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন