চুরি করতে দেখে ফেলায় শিশুকে গলাটিপে হত্যা
jugantor
চুরি করতে দেখে ফেলায় শিশুকে গলাটিপে হত্যা

  যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার ও আশুলিয়া প্রতিনিধি  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:২৯:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার আশুলিয়ায় পকেট থেকে টাকা নিতে দেখে ফেলায় ফেরদৌস (১১) নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোর রাতে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় একটি পরিবহনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ফেরদৌসের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ক্ল্যাসিক পরিবহন চালকের সহযোগী মো. শাহ পরান হৃদয়কে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার হৃদয় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার চরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সাহেব আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ক্ল্যাসিক পরিবহনে চালকের চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

নিহত ফেরদৌস শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে। রইচ উদ্দিন তার পরিবার পরিজন নিয়ে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পরিবহনের চালক হিসেবে কাজ করেন।

নিহত শিশুর বড় বোন রুবিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমার বাবা আশুলিয়া ক্লাসিক পরিবহনের গাড়ি চালায়। ছোট ভাই ফেরদৌস চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। এজন্য ফেরদৌসকে তিন দিন আগে একই পরিবহনের অন্য একটি বাসে হেলপারের সহকারী হিসেবে কাজে যোগদান দেন। এর দুই দিন পর সোমবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

গ্রেফতার হৃদয়ের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি ছেড়ে এসে আশুলিয়ার বাইপাইল পৌঁছায় রাত ১২টার দিকে। এরপর তাদের গাড়ি সাফাই করে। রাত ১টার দিকে কন্ডাক্টর হৃদয়, হেলপার পারভেজ ও শিশু ফেরদৌস একই গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর হৃদয়ের পকেট থেকে পারভেজ ৫০০ টাকা চুরি করে। এ সময় শিশু ফেরদৌস চুরির ঘটনাটি দেখে ফেলে।

তবে ওই সময় কিছু না বলাতে পারভেজ ভেবেছিল চুরির বিষয়টি ফেরদৌস দেখতে পারেনি। এরপর পারভেজও ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে হৃদয়ের পকেটের টাকা না পেয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। তাদের উচ্চস্বরের কথাবার্তায় শিশু ফেরদৌস ঘুম থেকে উঠে বলে- হৃদয়ের পকেটের টাকা পারভেজ চুরি করেছে, তা আমি দেখেছি।

এমন কথা শুনার পর পারভেজ ও হৃদয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পারভেজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়। এরপর চুরির বিষয়ে প্রকাশ করায় পারভেজ ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। খুন হওয়ার পর টাকার কথা মাথায় না রেখে তারা দুজনে বাঁচতে ফেরদৌসের লাশ সড়কের পাশে ফেলে রাখে। হত্যার বিষয়টি গোপন করতে পারভেজ মোবাইল ফোনে সাভার হাইওয়ে থানায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর জানায়।

সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহে দুর্ঘটনার কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করেন।

আশুলিয়া থানার এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, এটি একটি নিছক হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনা প্রকাশ করায় ফেরদৌসকে পারভেজ শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে হৃদয় জানিয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

চুরি করতে দেখে ফেলায় শিশুকে গলাটিপে হত্যা

 যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার ও আশুলিয়া প্রতিনিধি 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার আশুলিয়ায় পকেট থেকে টাকা নিতে দেখে ফেলায় ফেরদৌস (১১) নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোর রাতে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় একটি পরিবহনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ফেরদৌসের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ক্ল্যাসিক পরিবহন চালকের সহযোগী মো. শাহ পরান হৃদয়কে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার হৃদয় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার চরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সাহেব আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ক্ল্যাসিক পরিবহনে চালকের চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

নিহত ফেরদৌস শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে। রইচ উদ্দিন তার পরিবার পরিজন নিয়ে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পরিবহনের চালক হিসেবে কাজ করেন। 

নিহত শিশুর বড় বোন রুবিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমার বাবা আশুলিয়া ক্লাসিক পরিবহনের গাড়ি চালায়। ছোট ভাই ফেরদৌস চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। এজন্য ফেরদৌসকে তিন দিন আগে একই পরিবহনের অন্য একটি বাসে হেলপারের সহকারী হিসেবে কাজে যোগদান দেন। এর দুই দিন পর সোমবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। 

গ্রেফতার হৃদয়ের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি ছেড়ে এসে আশুলিয়ার বাইপাইল পৌঁছায় রাত ১২টার দিকে। এরপর তাদের গাড়ি সাফাই করে। রাত ১টার দিকে কন্ডাক্টর হৃদয়, হেলপার পারভেজ ও শিশু ফেরদৌস একই গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর হৃদয়ের পকেট থেকে পারভেজ ৫০০ টাকা চুরি করে। এ সময় শিশু ফেরদৌস চুরির ঘটনাটি দেখে ফেলে।

তবে ওই সময় কিছু না বলাতে পারভেজ ভেবেছিল চুরির বিষয়টি ফেরদৌস দেখতে পারেনি। এরপর পারভেজও ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে হৃদয়ের পকেটের টাকা না পেয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। তাদের উচ্চস্বরের কথাবার্তায় শিশু ফেরদৌস ঘুম থেকে উঠে বলে- হৃদয়ের পকেটের টাকা পারভেজ চুরি করেছে, তা আমি দেখেছি।

এমন কথা শুনার পর পারভেজ ও হৃদয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পারভেজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়। এরপর চুরির বিষয়ে প্রকাশ করায় পারভেজ ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। খুন হওয়ার পর টাকার কথা মাথায় না রেখে তারা দুজনে বাঁচতে ফেরদৌসের লাশ সড়কের পাশে ফেলে রাখে। হত্যার বিষয়টি গোপন করতে পারভেজ মোবাইল ফোনে সাভার হাইওয়ে থানায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর জানায়।

সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহে দুর্ঘটনার কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করেন।

আশুলিয়া থানার এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, এটি একটি নিছক হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনা প্রকাশ করায় ফেরদৌসকে পারভেজ শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে হৃদয় জানিয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন