স্বামীর পরিকল্পনায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক খুন
jugantor
স্বামীর পরিকল্পনায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক খুন

  সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৩৬:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

স্বামীর পরিকল্পনায় স্বামীর ভাতিজা খুন করেছিলেন স্ত্রীর প্রেমিককে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নয়াবাজার এলাকায় অটোরিকশাচালক সুজন ফকির (৪৫) খুন হন শনিবার সকালে।

খুনের ৩৬ ঘণ্টা পর সেই পরিকল্পনাকারী স্বামী ও খুনি ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে র্যা ব-১১ সদস্যরা। রোববার দিবাগত রাতে নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যা ব-১১ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যা ব-১১ অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর পাশা।

গ্রেফতাররা হলো- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুল মজিদ (৩৭) এবং হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী মো. মজজেম হোসেন (২৮)।

র্যা ব-১১ এর অধিনায়ক জানান, গত ১৬ অক্টোবর নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের ছেলে সজিব ফকির তার বাবার রক্তাক্ত ও গলাকাটা লাশ শনাক্ত করেন। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের ছেলে সজিব ফকির বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তানভীর পাশা জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুল মজিদের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত সুজন ফকিরের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এর কারণে সম্প্রতি মজিদ ও তার স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর আব্দুল মজিদের স্ত্রী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রীকে না পেয়ে আব্দুল মজিদের মনে সন্দেহ হয় যে, তার স্ত্রী সুজন ফকিরের হেফাজতে রয়েছে। তখন থেকেই সে তার ভাতিজা মো. মজজেম হোসেনকে নিয়ে সুজন ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আব্দুল মজিদ তার ভাতিজা মো. মজজেম হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ আসার কথা বলে গ্রামের বাড়ি নাটোর থেকে। মজজেম নাটোর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসার সময় তার খালাতো ভাই মো. হাসানকে (২২)সঙ্গে নিয়ে আসে। হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে মজজেম ও হাসান নারায়ণগঞ্জে আসে এবং ঘটনার দিন সকালে সুজন ফকিরের এলাকায় যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুল মজিদ মোবাইল ফোনে নিহত সুজনকে দেখা করতে বলে মো. মজজেমের সঙ্গে। ভিকটিম সুজন ফকির দেখা করতে আসলে কথা আছে বলে মজজেম একটি অটোরিকশায় তাকে উঠিয়ে অন্যত্র রওনা দেয়। পথে নয়াবাজার এলাকায় চলন্ত অটোরিকশার পিছনের সিটে বসা মজজেম সামনে বসা সুজন ফকিরের গলায় পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তানভীর পাশা যোগ করেন, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অপর সদস্য মো. হাসান গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করে আছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য র্যা ব-১১ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

স্বামীর পরিকল্পনায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক খুন

 সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

স্বামীর পরিকল্পনায় স্বামীর ভাতিজা খুন করেছিলেন স্ত্রীর প্রেমিককে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নয়াবাজার এলাকায় অটোরিকশাচালক সুজন ফকির (৪৫) খুন হন শনিবার সকালে।

খুনের ৩৬ ঘণ্টা পর সেই পরিকল্পনাকারী স্বামী ও খুনি ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে র্যা ব-১১ সদস্যরা। রোববার দিবাগত রাতে নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যা ব-১১ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যা ব-১১ অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর পাশা।

গ্রেফতাররা হলো- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুল মজিদ (৩৭) এবং হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী মো. মজজেম হোসেন (২৮)।

র্যা ব-১১ এর অধিনায়ক জানান, গত ১৬ অক্টোবর নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের ছেলে সজিব ফকির তার বাবার রক্তাক্ত ও গলাকাটা লাশ শনাক্ত করেন। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের ছেলে সজিব ফকির বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তানভীর পাশা জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুল মজিদের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত সুজন ফকিরের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এর কারণে সম্প্রতি মজিদ ও তার স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর আব্দুল মজিদের স্ত্রী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রীকে না পেয়ে আব্দুল মজিদের মনে সন্দেহ হয় যে, তার স্ত্রী সুজন ফকিরের হেফাজতে রয়েছে। তখন থেকেই সে তার ভাতিজা মো. মজজেম হোসেনকে নিয়ে সুজন ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আব্দুল মজিদ তার ভাতিজা মো. মজজেম হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ আসার কথা বলে গ্রামের বাড়ি নাটোর থেকে। মজজেম নাটোর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসার সময় তার খালাতো ভাই মো. হাসানকে (২২)সঙ্গে নিয়ে আসে। হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে মজজেম ও হাসান নারায়ণগঞ্জে আসে এবং ঘটনার দিন সকালে সুজন ফকিরের এলাকায় যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুল মজিদ মোবাইল ফোনে নিহত সুজনকে দেখা করতে বলে মো. মজজেমের সঙ্গে। ভিকটিম সুজন ফকির দেখা করতে আসলে কথা আছে বলে মজজেম একটি অটোরিকশায় তাকে উঠিয়ে অন্যত্র রওনা দেয়। পথে নয়াবাজার এলাকায় চলন্ত অটোরিকশার পিছনের সিটে বসা মজজেম সামনে বসা সুজন ফকিরের গলায় পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তানভীর পাশা যোগ করেন, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অপর সদস্য মো. হাসান গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করে আছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য র্যা ব-১১ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন