হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না: স্পিকার
jugantor
হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না: স্পিকার

  রংপুর ব্যুরো ও পীরগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৯ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪০:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, আপনাদের ওপর যে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা তা আমি নিজের চোখে দেখলাম। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক আপনাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আপনারা চিন্তা করবেন না। সবাইকে একত্রিত হয়ে এ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর যেন একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে- এজন্য সতর্ক থাকবে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বাটেরহাট আরডিএস দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় এক সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত ছিল। পরিকল্পিত না হলে এত বড় ঘটনা ঘটত না। এর গোড়ায় আমাদের যেতে হবে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এতে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে এতে কারও ইন্ধন ছিল কিনা। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, হামলাকারীদের অনেকেই বহিরাগত ছিল। যাদের চেহারা কেউ চিনতে পারেনি। তারা পেট্রল নিয়ে এসেছিল।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়েছে। চাল, ডাল, একটি করে শাড়ি ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, অর্থ বিতরণ, ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসা করতে সহযোগিতা ও মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন; যাতে আপনাদের আর কোনো ক্ষতি না হয়। আপনাদের যাতে কষ্ট না হয়। এ সময় প্রতিটি পরিবারের ক্ষয়ক্ষতি অনুপাতে তাদের হাতে নগদ অর্থ ও গৃহনির্মাণের টিন বিতরণ করেন তিনি।

এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভুঞা, রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, সহ-সভাপতি একেএম ছায়াদত হোসেন বকুল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রাণী, ওসি সরেষ চন্দ্র, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববি, মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বিএসসি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সেকেন্দার আলী, কৃষক লীগের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মেরাজুলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রংপুর জেলা, মহানগর ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রোববার রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর একটি পোস্টের জেরে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া-বটতলা, কসবা ও বড়করিমপুর গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে সরকারিভাবে প্রায় ৬৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তালিকা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সেই পরিতোষ সরকারসহ ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না: স্পিকার

 রংপুর ব্যুরো ও পীরগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, আপনাদের ওপর যে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা তা আমি নিজের চোখে দেখলাম। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক আপনাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আপনারা চিন্তা করবেন না। সবাইকে একত্রিত হয়ে এ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর যেন একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে- এজন্য সতর্ক থাকবে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বাটেরহাট আরডিএস দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় এক সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত ছিল। পরিকল্পিত না হলে এত বড় ঘটনা ঘটত না। এর গোড়ায় আমাদের যেতে হবে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এতে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে এতে কারও ইন্ধন ছিল কিনা। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, হামলাকারীদের অনেকেই বহিরাগত ছিল। যাদের চেহারা কেউ চিনতে পারেনি। তারা পেট্রল নিয়ে এসেছিল।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়েছে। চাল, ডাল, একটি করে শাড়ি ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, অর্থ বিতরণ, ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসা করতে সহযোগিতা ও মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন; যাতে আপনাদের আর কোনো ক্ষতি না হয়। আপনাদের যাতে কষ্ট না হয়। এ সময় প্রতিটি পরিবারের ক্ষয়ক্ষতি অনুপাতে তাদের হাতে নগদ অর্থ ও গৃহনির্মাণের টিন বিতরণ করেন তিনি।

এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভুঞা, রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, সহ-সভাপতি একেএম ছায়াদত হোসেন বকুল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রাণী, ওসি সরেষ চন্দ্র, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববি, মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বিএসসি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সেকেন্দার আলী, কৃষক লীগের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মেরাজুলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রংপুর জেলা, মহানগর ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রোববার রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর একটি পোস্টের জেরে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া-বটতলা, কসবা ও বড়করিমপুর গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে সরকারিভাবে প্রায় ৬৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তালিকা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সেই পরিতোষ সরকারসহ ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন