গলায় গামছা পেঁচিয়ে যুবককে বেধড়ক পেটালেন চেয়ারম্যান
jugantor
গলায় গামছা পেঁচিয়ে যুবককে বেধড়ক পেটালেন চেয়ারম্যান

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৬:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

চুরির অভিযোগে এক যুবককে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। এমন একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নির্মম নির্যাতনের ভিডিও দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু একটি কক্ষে লাঠি দিয়ে এক যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় ওই যুবককে বারবার তার প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন। দুই মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে গলায় গামছা আটকিয়ে বেশ কিছু মানুষের সামনে ওই যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছেন চেয়ারম্যান টিপু।

এসময় ওই যুবক নির্যাতনের হাত থেকে রেহায় পেতে বারবার চেয়ারম্যানকে আব্বা সম্বোধন করে তাকে নির্যাতন না করার আকুতি জানাচ্ছিলেন। এমনকি আশপাশের মানুষজনও নির্যাতন না করার জন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করছেন কিন্তু কোনো কিছুতেই কর্ণপাত করেননি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু। বেশ কয়েক মিনিট ধরে চালাচ্ছেন বেধড়ক নির্যাতন। এক পর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় চেয়ারম্যান টিপু।

জানা গেছে, বাইসাইকেল চুরির সন্দেহে বাজার থেকে এক যুবককে তুলে এনে বেধড়ক পিটিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু।

চেয়ারম্যানের দাবি, সাইকেল (সাইকেলের মালিককে) চুরি যাওয়া ব্যক্তিকে সান্ত্বন দিতেই ওই যুবককে শান্তি দিয়েছেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার যুবক বলছেন, তিনি বাইসাইকেল চুরি করেননি।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, গত রোববার বিকালে চরবাগডাঙ্গা বাজারে ধাক্কা লেগে একটি বাইসাইকেল পড়ে যায়। সাইকেলটি তুলতে গেলে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করে স্থানীয়রা। একপর্যায়ে টিপু চেয়ারম্যান তাকে ধরে নিয়ে এসে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন। আমি প্রাণ বাঁচাতে বারবার আকুতি জানালেও শোনেননি চেয়ারম্যান।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওমর আলী বলেন, আমিও দীর্ঘদিন এই ইউপি পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এভাবে কখনও নিজের হাতে আইন তুলে নেইনি। কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের নির্যাতন করতে পারেন না। এটা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

যুবককে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু সাংবাদিকদের জানান, বাইসাইকেল চুরি যাওয়া ব্যক্তিকে সান্ত্বন দিতেই একটু মারধর করেছি। তাকে শিক্ষা দিতেই উপস্থিত সাধারণ জনগণ মাঝ থেকে আমি তাকে নিয়ে আসি।

এ সময় তিনি উল্টে প্রশ্ন করেন, আমি কি তাকে দুইটা বাড়ি মারতে পারি না? আমার অধিকার নাই?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি। যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্তের পর আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

গলায় গামছা পেঁচিয়ে যুবককে বেধড়ক পেটালেন চেয়ারম্যান

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চুরির অভিযোগে এক যুবককে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। এমন একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নির্মম নির্যাতনের ভিডিও দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু একটি কক্ষে লাঠি দিয়ে এক যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় ওই যুবককে বারবার তার প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন। দুই মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে গলায় গামছা আটকিয়ে বেশ কিছু মানুষের সামনে ওই যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছেন চেয়ারম্যান টিপু।

এসময় ওই যুবক নির্যাতনের হাত থেকে রেহায় পেতে বারবার চেয়ারম্যানকে আব্বা সম্বোধন করে তাকে নির্যাতন না করার আকুতি জানাচ্ছিলেন। এমনকি আশপাশের মানুষজনও নির্যাতন না করার জন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করছেন কিন্তু কোনো কিছুতেই কর্ণপাত করেননি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু। বেশ কয়েক মিনিট ধরে চালাচ্ছেন বেধড়ক নির্যাতন। এক পর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় চেয়ারম্যান টিপু।

জানা গেছে, বাইসাইকেল চুরির সন্দেহে বাজার থেকে এক যুবককে তুলে এনে বেধড়ক পিটিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু।

চেয়ারম্যানের দাবি, সাইকেল (সাইকেলের মালিককে) চুরি যাওয়া ব্যক্তিকে সান্ত্বন দিতেই ওই যুবককে শান্তি দিয়েছেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার যুবক বলছেন, তিনি বাইসাইকেল চুরি করেননি।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, গত রোববার বিকালে চরবাগডাঙ্গা বাজারে ধাক্কা লেগে একটি বাইসাইকেল পড়ে যায়। সাইকেলটি তুলতে গেলে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করে স্থানীয়রা। একপর্যায়ে টিপু চেয়ারম্যান তাকে ধরে নিয়ে এসে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন। আমি প্রাণ বাঁচাতে বারবার আকুতি জানালেও শোনেননি চেয়ারম্যান।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওমর আলী বলেন, আমিও দীর্ঘদিন এই ইউপি পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এভাবে কখনও নিজের হাতে আইন তুলে নেইনি। কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের নির্যাতন করতে পারেন না। এটা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

যুবককে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু সাংবাদিকদের জানান, বাইসাইকেল চুরি যাওয়া ব্যক্তিকে সান্ত্বন দিতেই একটু মারধর করেছি। তাকে শিক্ষা দিতেই উপস্থিত সাধারণ জনগণ মাঝ থেকে আমি তাকে নিয়ে আসি।

এ সময় তিনি উল্টে প্রশ্ন করেন, আমি কি তাকে দুইটা বাড়ি মারতে পারি না? আমার অধিকার নাই?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি। যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্তের পর আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন