‘রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে’
jugantor
‘রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে’

  বান্দরবান প্রতিনিধি  

২১ অক্টোবর ২০২১, ১৫:২০:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

‘রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে’

পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান 'ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে'র উৎসবে মেতেছেন পাহাড়িরা। এই উৎসবে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের স্মরণে আকাশে ওড়ানো হচ্ছে রঙ-বেরঙের শত শত ফানুস বাতি।

বুধবার সন্ধ্যায় দুদিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনে বান্দরবান কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার, রাজগুরু বৌদ্ধবিহার, সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার, রামজাদি বিহার, স্বর্ণমন্দির বিহার, করোনাপুর বিহারসহ আশপাশের বৌদ্ধবিহারগুলো এবং পাহাড়ের ক্যায়াংগুলো থেকে ওড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। এসব ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে রাতের আকাশ। অনেক দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মঙ্গল রথযাত্রা। বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ময়ূর আকৃতির একটি বিশাল রথ তৈরি করে তার ওপর একটি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হয়। এর পর মঙ্গল রথটি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার থেকে রশি দিয়ে টেনে টেনে সোমবার রাতে শহরের অলিগলি ঘোরানো হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে বুদ্ধমূর্তিকে শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে রাতের এ রথযাত্রা এবং ফানুস বাতি ওড়ানোর দৃশ্যটি দেখার জন্য রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসব প্রাঙ্গণে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মংসানু মারমা জানান, তিন মাস বর্ষাবাস (উপুস) থাকার পর পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করেন।


এদিকে মারমা সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন যে, আকাশে ওঠার আগেই যে ব্যক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায়, তাকে পাহাড়িরা পাপি লোক হিসেবে চিহ্নিত করেন। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়িরা নিজেদের পাপ মোচন করেন। এ কারণে ফানুস আকাশে ওড়ানোর সময় পাহাড়িরা মারমা ভাষায় 'সাও দো' 'সাও দো' বলতে থাকেন। এ কথার অর্থ হচ্ছে— শুভ মুক্তি।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব-উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈটিংওয়াই মারমা জানান, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব হচ্ছে— মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে করোনা মহামারি এবং দেশে ধর্মীয় উৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় এ বছর দুদিনব্যাপী মূল অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে— মঙ্গল রথযাত্রা, হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বালন, পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতা, ফানুস বাতি উড়ানো, পঞ্চশীল গ্রহণ এবং ধর্মীয় প্রার্থনাসহ নানা অনুষ্ঠানমালা।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মঙ্গল রথ শোভাযাত্রা সাঙ্গু নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে পাহাড়িপল্লীগুলোতে উৎসব চলবে আরও কয়েক দিন বলেও জানান তিনি।

‘রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে’

 বান্দরবান প্রতিনিধি 
২১ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে’
ছবি: যুগান্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান 'ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে'র উৎসবে মেতেছেন পাহাড়িরা।  এই উৎসবে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের স্মরণে আকাশে ওড়ানো হচ্ছে রঙ-বেরঙের শত শত ফানুস বাতি।

বুধবার সন্ধ্যায় দুদিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনে বান্দরবান কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার, রাজগুরু বৌদ্ধবিহার, সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার, রামজাদি বিহার, স্বর্ণমন্দির বিহার, করোনাপুর বিহারসহ আশপাশের বৌদ্ধবিহারগুলো এবং পাহাড়ের ক্যায়াংগুলো থেকে ওড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। এসব ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে রাতের আকাশ। অনেক দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন রঙ লেগেছে পাহাড়ের আকাশে।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মঙ্গল রথযাত্রা। বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ময়ূর আকৃতির একটি বিশাল রথ তৈরি করে তার ওপর একটি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হয়। এর পর মঙ্গল রথটি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার থেকে রশি দিয়ে টেনে টেনে সোমবার রাতে শহরের অলিগলি ঘোরানো হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে বুদ্ধমূর্তিকে শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে রাতের এ রথযাত্রা এবং ফানুস বাতি ওড়ানোর দৃশ্যটি দেখার জন্য রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসব প্রাঙ্গণে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মংসানু মারমা জানান, তিন মাস বর্ষাবাস (উপুস) থাকার পর পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করেন।


এদিকে মারমা সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন যে, আকাশে ওঠার আগেই যে ব্যক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায়, তাকে পাহাড়িরা পাপি লোক হিসেবে চিহ্নিত করেন। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়িরা নিজেদের পাপ মোচন করেন। এ কারণে ফানুস আকাশে ওড়ানোর সময় পাহাড়িরা মারমা ভাষায় 'সাও দো' 'সাও দো' বলতে থাকেন। এ কথার অর্থ হচ্ছে— শুভ মুক্তি।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব-উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈটিংওয়াই মারমা জানান, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব হচ্ছে— মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে করোনা মহামারি এবং দেশে ধর্মীয় উৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় এ বছর দুদিনব্যাপী মূল অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে— মঙ্গল রথযাত্রা, হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বালন, পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতা, ফানুস বাতি উড়ানো, পঞ্চশীল গ্রহণ এবং ধর্মীয় প্রার্থনাসহ নানা অনুষ্ঠানমালা।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মঙ্গল রথ শোভাযাত্রা সাঙ্গু নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে পাহাড়িপল্লীগুলোতে উৎসব চলবে আরও কয়েক দিন বলেও জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন