নারীদের দিয়ে প্রেমের ফাঁদ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জন কারাগারে
jugantor
নারীদের দিয়ে প্রেমের ফাঁদ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জন কারাগারে

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

২১ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৮:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে নারীদের দিয়ে কথিত প্রেমের ফাঁদ পেতে বিয়ের নামে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি করার এক মামলায় আটক হন ইউপি চেয়ারম্যান, কাজী ও সাংবাদিকসহ ৯ জন। আটকের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন আদালত।

আটককৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল কাদের, স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, কথিত স্ত্রী রিতা আক্তার, বাবুল হোসেন, মুসলিম উদ্দিন, আনসারুল হক, দারাসতুল্লাহ মুন্সি ও সারোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামিরা দায়েরকৃত মামলায় ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের জন্য আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ রায় প্রদান করেন আদালতের সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কোর্ট ইন্সেপেক্টর (আদালত পরিদর্শক) ওয়াহেদ আলী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ আসামি আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে হাজতে পাঠান আদালত।

মামলা ও পুলিশের এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ছোট সিংগিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মসলিম উদ্দিনের দোকান ঘর ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে মসলিম উদ্দিন তার দোকান ঘর ভাড়াটে মিজানুরকে ফাঁসাতে রিতা আক্তারকে দিয়ে কথিত প্রেমের ফাঁদ তৈরি করেন।

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একই উপজেলার ছোট পলাশবাড়ী গ্রামের খাদেমুল ইসলামের মেয়ে রিতা আক্তারকে মিজানুরের বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মসলিম উদ্দিনের ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল। তবে এ সময় মিজান বাড়িতে ছিলেন না। তিনি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যান। বাড়িতে ফিরে মসলিম উদ্দিনের সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়েন।

একই বছরের ৯ মে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহরের চৌরাস্তায় পারিবারিক কাজে গেলে আসামিরা তাকে অপহরণ করে দওসুও ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে কাবিননামায় সই করে নেয়। এ কাজে সহযোগিতা করেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামিরা। এর আগে চক্রটি এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে রুহুল আমিন প্লাবনের বাড়িতে রিতা আক্তারকে ঢুকিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে প্লাবনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রিতার বিয়ে হয়, তবে এ বিয়ে একদিনও স্থায়ী হয়নি। পরে আইন মোতাবেক রিতা আক্তার ও প্লাবনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

তবে আসামিদের আইনজীবী আজিজুর রহমান বলেন, এটি একটি সাজানো মামলা, আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

নারীদের দিয়ে প্রেমের ফাঁদ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জন কারাগারে

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
২১ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে নারীদের দিয়ে কথিত প্রেমের ফাঁদ পেতে বিয়ের নামে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি করার এক মামলায় আটক হন ইউপি চেয়ারম্যান, কাজী ও সাংবাদিকসহ ৯ জন। আটকের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন আদালত। 

আটককৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল কাদের, স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, কথিত স্ত্রী রিতা আক্তার, বাবুল হোসেন, মুসলিম উদ্দিন, আনসারুল হক, দারাসতুল্লাহ মুন্সি ও সারোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামিরা দায়েরকৃত মামলায় ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের জন্য আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ রায় প্রদান করেন আদালতের সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান।  

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কোর্ট ইন্সেপেক্টর (আদালত পরিদর্শক) ওয়াহেদ আলী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ আসামি আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে হাজতে পাঠান আদালত।  

মামলা ও পুলিশের এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ছোট সিংগিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মসলিম উদ্দিনের দোকান ঘর ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে মসলিম উদ্দিন তার দোকান ঘর ভাড়াটে মিজানুরকে ফাঁসাতে রিতা আক্তারকে দিয়ে কথিত প্রেমের ফাঁদ তৈরি করেন। 

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একই উপজেলার ছোট পলাশবাড়ী গ্রামের খাদেমুল ইসলামের মেয়ে রিতা আক্তারকে মিজানুরের বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মসলিম উদ্দিনের ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল। তবে এ সময় মিজান বাড়িতে ছিলেন না। তিনি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যান। বাড়িতে ফিরে মসলিম উদ্দিনের সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়েন। 

একই বছরের ৯ মে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহরের চৌরাস্তায় পারিবারিক কাজে গেলে আসামিরা তাকে অপহরণ করে দওসুও ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে কাবিননামায় সই করে নেয়। এ কাজে সহযোগিতা করেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামিরা। এর আগে চক্রটি এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে রুহুল আমিন প্লাবনের বাড়িতে রিতা আক্তারকে ঢুকিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। 

আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে প্লাবনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রিতার বিয়ে হয়, তবে এ বিয়ে একদিনও স্থায়ী হয়নি। পরে আইন মোতাবেক রিতা আক্তার ও প্লাবনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।  

তবে আসামিদের আইনজীবী আজিজুর রহমান বলেন, এটি একটি সাজানো মামলা, আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন