ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা
jugantor
ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

  ময়মনসিংহ ব্যুরো  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০৮:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ময়মনসিংহে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

চাকরিজীবন নিয়ে নানা অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত ৮টা ৩ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। এরপর রাত ৯টায় ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় অবস্থিত ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে তিনি নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহত সিপাহীর নাম সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩)। তিনি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাশ পাদুয়াগ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী।

এদিকে নিজের বেতনের টাকায় সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি ক্ষোভে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নিয়ে ভালো কিছু আশা করা মহাপাপ। নামে সরকারি চাকরি কিন্তু বেতনটা ওই নামের ওপরই। সাত বছর চাকরি এখনও বাড়িতে গেলে ঠিকমতো একটু কোথাও যাওয়া হয় না ছুটির সময়টাও চোরের মতো থাকতে হয়। গত কিছুদিন আগে আম্মু খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলাম পরীক্ষা নিরক্ষার পর মায়ের জন্য ওষুধ কিনবো সে টাকা আর হাতে নেই পরে মামার কাছ থেকে ধার নিয়ে মাকে কিছু ওষুধ আর গাড়ি ভাড়া দিলাম।

এমনটা প্রতিমাসেই হতে থাকে; না পারি নিজের খুশি মতো একটা জিনিস কিনতে কিনবা একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো কিছু খেতে। না পারি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে। তার মধ্যে বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি এতে বাজার করা কিনবা সংসার চালানো কতটা কঠিন বুঝানোর মতো না। ছোট ভাইটা শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম তার জন্য কিছু করবো তার সুযোগ হয়নি এই জীবনে।

এমন পরিস্থিতি মানুষ প্রশ্ন করে বিয়ে করি না কেন? কিন্তু মানুষকে তো আমার সরকারি চাকরির ভেতরটা দেখাতে পারি না আমার বেতন আমার সুযোগ সুবিধা সেভিংস এই সব কিছুতে অন্য একটা মানুষকে আনা আমার জন্য মরার ওপর খাঁড়ার খাঁ। তাই বিয়ের চিন্তা করিওনা। শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি এমন চাইলাম তাও আর হয়ে উঠলো না। সাতটা বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার।

আমার পরিবার সহকর্মী সিনিয়র জুনিয়র আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য পারলে ক্ষমা করবেন এই ছাড়া বিকল্প কোনো পথ আমার ছিল না।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের বন্দুকের গুলিতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস লিখে গেছেন। সেখানে চাকরিজীবন নিয়ে নানা অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

 ময়মনসিংহ ব্যুরো 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা
সোহরাব হোসাইন চৌধুরী। ছবি: যুগান্তর

ময়মনসিংহে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। 

চাকরিজীবন নিয়ে নানা অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত ৮টা ৩ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। এরপর রাত ৯টায় ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় অবস্থিত ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে তিনি নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। 

নিহত সিপাহীর নাম সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩)। তিনি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাশ পাদুয়াগ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী।

এদিকে নিজের বেতনের টাকায় সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি ক্ষোভে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। 

স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নিয়ে ভালো কিছু আশা করা মহাপাপ। নামে সরকারি চাকরি কিন্তু বেতনটা ওই নামের ওপরই। সাত বছর চাকরি এখনও বাড়িতে গেলে ঠিকমতো একটু কোথাও যাওয়া হয় না ছুটির সময়টাও চোরের মতো থাকতে হয়। গত কিছুদিন আগে আম্মু খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলাম পরীক্ষা নিরক্ষার পর মায়ের জন্য ওষুধ কিনবো সে টাকা আর হাতে নেই পরে মামার কাছ থেকে ধার নিয়ে মাকে কিছু ওষুধ আর গাড়ি ভাড়া দিলাম।

এমনটা প্রতিমাসেই হতে থাকে; না পারি নিজের খুশি মতো একটা জিনিস কিনতে কিনবা একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো কিছু খেতে। না পারি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে। তার মধ্যে বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি এতে বাজার করা কিনবা সংসার চালানো কতটা কঠিন বুঝানোর মতো না। ছোট ভাইটা শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম তার জন্য কিছু করবো তার সুযোগ হয়নি এই জীবনে।

এমন পরিস্থিতি মানুষ প্রশ্ন করে বিয়ে করি না কেন? কিন্তু মানুষকে তো আমার সরকারি চাকরির ভেতরটা দেখাতে পারি না আমার বেতন আমার সুযোগ সুবিধা সেভিংস এই সব কিছুতে অন্য একটা মানুষকে আনা আমার জন্য মরার ওপর খাঁড়ার খাঁ। তাই বিয়ের চিন্তা করিওনা। শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি এমন চাইলাম তাও আর হয়ে উঠলো না। সাতটা বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার। 

আমার পরিবার সহকর্মী সিনিয়র জুনিয়র আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য পারলে ক্ষমা করবেন এই ছাড়া বিকল্প কোনো পথ আমার ছিল না।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের বন্দুকের গুলিতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। 

কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস লিখে গেছেন। সেখানে চাকরিজীবন নিয়ে নানা অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন