চুরি করতে গিয়ে হত্যা করা হয় শাহরাস্তির নুরুল দম্পতিকে
jugantor
চুরি করতে গিয়ে হত্যা করা হয় শাহরাস্তির নুরুল দম্পতিকে

  চাঁদপুর প্রতিনিধি  

২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:১৩:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

চুরি করতে গিয়ে হত্যা করা হয় শাহরাস্তির নুরুল দম্পত্তিকে

চাঁদপুরের শাহরাস্তির দুর্বৃত্তদের হামলায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা নুরুল আমিনের (৭০) ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার (৫৯) দম্পতি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরমধ্যে একজনকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং অপর দুইজনকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বেচাকেনার সূত্র ধরে আটক করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় পিবিআই চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপার খন্দকার নূর রেজওয়ানা পারভীন।

এরআগে এদিন দুপুরে তাদেরকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, খুনের সঙ্গে জড়িত শাহরাস্তি উপজেলার ঘুঘুসাল এলাকার মো. আবদুল মালেক, চুরি যাওয়া মালামাল ক্রয়কারী আসামি ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার মো. ইলিয়াস হোসেন ও বরিশাল জেলার কাউনিয়া উপজেলার চরবাড়ীয়া এলাকার মো. বশির। তারা উভয়েই চাঁদপুর শহরে বসবাত করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার দুজনই ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময় প্রায়ই তারা ব্যাংকে যাতায়াত করতেন। তাদেরকে নিজের রিকশা চড়িয়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন তাদের দীর্ঘ দিনের পরিচিত প্রতিবেশী রিকশাচালক মো. আব্দুল মালেক। ঘন ঘন ব্যাংকে যাতায়াত করায় অনেক আগে থেকেই ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত মালেক ফন্দি আটে ওই দম্পত্তির ঘরে চুরি করার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির মূল গেট খোলা পেয়ে আ. মালেক ওই দম্পত্তির বাড়ির ছাদে কৌশলে অবস্থান নেয়। রাত ৯টার দিকে নুরুল আমিন ছাদে উঠলে পেছন থেকে আ. মালেক তার সঙ্গে থাকা লোহার রড দিয়ে সজোরে তার মাথায় আঘাত করে। তার পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ছাদে শুখাতে দেওয়া পায়ের মোজা দিয়ে শ্বাসরোধ করে সেখানেই হত্যা করে তাকে। পরবর্তীতে চুরি করতে বিল্ডিংয়ের একটি রুমে ভেতরে প্রবেশ করে একটি ফাইল কেবিনেটের ড্রয়ার টানাটানি করতে থাকে। এসময় ড্রয়ার খোলার শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে আ. মালেককে দেখে চিনে ফেলে কামরুন্নাহার। এসময় আ. মালেক তার হাতে থাকা রড দিয়ে কামরুন্নাহারের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি ফ্লোরে পড়ে যান এবং তার মাথা বেয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরবর্তীতে নুরুল আমিনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও নিহত কামরুন্নাহারের কানের দুল ও হাতের একটি আংটি নিয়ে ছাদ থেকে গাছ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ১ জুলাই সংবাদ পেয়ে ঘরের তালা ভেঙে মৃত অবস্থায় নুরুল আলমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় অজ্ঞান অবস্থায় তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুলাই তিনিও মারা যান। এই ঘটনায় নিহতদের ছেলে মো. জাকারিয়া বাবু বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহত ওই দম্পতি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া এলাকা নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের এক ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে।

চুরি করতে গিয়ে হত্যা করা হয় শাহরাস্তির নুরুল দম্পতিকে

 চাঁদপুর প্রতিনিধি 
২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চুরি করতে গিয়ে হত্যা করা হয় শাহরাস্তির নুরুল দম্পত্তিকে
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের শাহরাস্তির দুর্বৃত্তদের হামলায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা নুরুল আমিনের (৭০) ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার (৫৯) দম্পতি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরমধ্যে একজনকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং অপর দুইজনকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বেচাকেনার সূত্র ধরে আটক করা হয়। 

শনিবার সন্ধ্যায় পিবিআই চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপার খন্দকার নূর রেজওয়ানা পারভীন। 

এরআগে এদিন দুপুরে তাদেরকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, খুনের সঙ্গে জড়িত শাহরাস্তি উপজেলার ঘুঘুসাল এলাকার মো. আবদুল মালেক, চুরি যাওয়া মালামাল ক্রয়কারী আসামি ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার মো. ইলিয়াস হোসেন ও বরিশাল জেলার কাউনিয়া উপজেলার চরবাড়ীয়া এলাকার মো. বশির। তারা উভয়েই চাঁদপুর শহরে বসবাত করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার দুজনই ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময় প্রায়ই তারা ব্যাংকে যাতায়াত করতেন। তাদেরকে নিজের রিকশা চড়িয়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন তাদের দীর্ঘ দিনের পরিচিত প্রতিবেশী রিকশাচালক মো. আব্দুল মালেক। ঘন ঘন ব্যাংকে যাতায়াত করায় অনেক আগে থেকেই ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত মালেক ফন্দি আটে ওই দম্পত্তির ঘরে চুরি করার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির মূল গেট খোলা পেয়ে আ. মালেক ওই দম্পত্তির বাড়ির ছাদে কৌশলে অবস্থান নেয়। রাত ৯টার দিকে নুরুল আমিন ছাদে উঠলে পেছন থেকে আ. মালেক তার সঙ্গে থাকা লোহার রড দিয়ে সজোরে তার মাথায় আঘাত করে। তার পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ছাদে শুখাতে দেওয়া পায়ের মোজা দিয়ে শ্বাসরোধ করে সেখানেই হত্যা করে তাকে। পরবর্তীতে চুরি করতে বিল্ডিংয়ের একটি রুমে ভেতরে প্রবেশ করে একটি ফাইল কেবিনেটের ড্রয়ার টানাটানি করতে থাকে। এসময় ড্রয়ার খোলার শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে আ. মালেককে দেখে চিনে ফেলে কামরুন্নাহার। এসময় আ. মালেক তার হাতে থাকা রড দিয়ে কামরুন্নাহারের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি ফ্লোরে পড়ে যান এবং তার মাথা বেয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরবর্তীতে নুরুল আমিনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও নিহত কামরুন্নাহারের কানের দুল ও হাতের একটি আংটি নিয়ে ছাদ থেকে গাছ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যায়। 
পরবর্তীতে ১ জুলাই সংবাদ পেয়ে ঘরের তালা ভেঙে মৃত অবস্থায় নুরুল আলমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় অজ্ঞান অবস্থায় তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুলাই তিনিও মারা যান। এই ঘটনায় নিহতদের ছেলে মো. জাকারিয়া বাবু বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহত ওই দম্পতি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া এলাকা নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের এক ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন