চকচক করছে পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লি!
jugantor
চকচক করছে পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লি!

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  

২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৩৭:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লির ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো এখন চকচক করছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরের ছাউনি ও বেড়া নতুন টিন দিয়ে তৈরি ও মেরামত করা হয়েছে। ফলে চকচক করছে পুরো গ্রামটি।

সোমবার কসবা হিন্দুপল্লি সরেজমিনে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। উপজেলা প্রশাসনের তদারকি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে ঘরগুলোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী দুর্বৃত্তরা উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা হিন্দুপল্লি মাঝিপাড়ায় বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ২৬টি পরিবারের ঘর আগুনে পুড়ে যায়। আর ৪০টি পরিবারের আংশিক ক্ষতি হয়।

উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ওই পল্লীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছে। তালিকায় ২৬টি পরিবারের বেশি ক্ষতি এবং হালকা ক্ষতি হয়েছে ৪০টি পরিবার। ওইসব পরিবারকে দেয়া সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে দেয়া নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে। এতে ২৬টি পরিবার ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে নগদ টাকা এবং কাপড়, শুকনো খাবারও পেয়েছেন। এছাড়া যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তারাও অর্ধ লক্ষাধিক টাকা করে নগদ সাহায্য পেয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় এমপি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বরাদ্দ দেয়া ১০০ বান্ডিল টিন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর বেড়া ও ছাউনি মেরামত করায় মাঝিপাড়া এখন চকচক করছে।

মাঝিপাড়ার নিখিল চন্দ্র বলেন, আগুন নাগে দি মোর দোকান ঘরটা পুড়ি দিচে। ঘটনার একদিন পরেই ইউএনও স্যার, পিআইও স্যার হামার পাড়ার পোড়া-ভাংগা বাড়িগুল্যা ঠিক করার জন্যে মিস্ত্রি নাগে দেয়। মুই এখন মোর নতুন ঘরে দোকান করোচো।

ক্ষতিগ্রস্ত দেবেন চন্দ্র বলেন, হামার এমপি স্পিকার আপা টিন আর নগদ ট্যাকা দিছে। পিআইও স্যার সেই টিন দিয়া মোর ঘরগুল্যা একদম নতুন করি বানে দিচে। এ জন্য হামরা সবাই খুশী।

তিনি আরও বলেন, আগুনে মোর দুটা গরু পুড়ি মারা যায়। মোক গরু, নগদ ট্যাকা, শাড়ি, লুঙ্গি, কম্বল, চাল, ডাল সগি দিচে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, হামলার পরই আমরা দ্রুত ক্ষতির পরিমাণসহ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। হামলার পরদিন থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো নির্মাণ করে মাথা গোঁজার ঠাই করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রানী রায় বলেন, আমরা খুবই দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিয়েছি। তাদের ঘরগুলোও নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।

চকচক করছে পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লি!

 পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 
২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লির ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো এখন চকচক করছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরের ছাউনি ও বেড়া নতুন টিন দিয়ে তৈরি ও মেরামত করা হয়েছে। ফলে চকচক করছে পুরো গ্রামটি।

সোমবার কসবা হিন্দুপল্লি সরেজমিনে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। উপজেলা প্রশাসনের তদারকি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে ঘরগুলোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী দুর্বৃত্তরা উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা হিন্দুপল্লি মাঝিপাড়ায় বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ২৬টি পরিবারের ঘর আগুনে পুড়ে যায়। আর ৪০টি পরিবারের আংশিক ক্ষতি হয়।

উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ওই পল্লীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছে। তালিকায় ২৬টি পরিবারের বেশি ক্ষতি এবং হালকা ক্ষতি হয়েছে ৪০টি পরিবার। ওইসব পরিবারকে দেয়া সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে দেয়া নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে। এতে ২৬টি পরিবার ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে নগদ টাকা এবং কাপড়, শুকনো খাবারও পেয়েছেন। এছাড়া যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তারাও অর্ধ লক্ষাধিক টাকা করে নগদ সাহায্য পেয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় এমপি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বরাদ্দ দেয়া ১০০ বান্ডিল টিন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর বেড়া ও ছাউনি মেরামত করায় মাঝিপাড়া এখন চকচক করছে।

মাঝিপাড়ার নিখিল চন্দ্র বলেন, আগুন নাগে দি মোর দোকান ঘরটা পুড়ি দিচে। ঘটনার একদিন পরেই ইউএনও স্যার, পিআইও স্যার হামার পাড়ার পোড়া-ভাংগা বাড়িগুল্যা ঠিক করার জন্যে মিস্ত্রি নাগে দেয়। মুই এখন মোর নতুন ঘরে দোকান করোচো।

ক্ষতিগ্রস্ত দেবেন চন্দ্র বলেন, হামার এমপি স্পিকার আপা টিন আর নগদ ট্যাকা দিছে। পিআইও স্যার সেই টিন দিয়া মোর ঘরগুল্যা একদম নতুন করি বানে দিচে। এ জন্য হামরা সবাই খুশী।

তিনি আরও বলেন, আগুনে মোর দুটা গরু পুড়ি মারা যায়। মোক গরু, নগদ ট্যাকা, শাড়ি, লুঙ্গি, কম্বল, চাল, ডাল সগি দিচে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, হামলার পরই আমরা দ্রুত ক্ষতির পরিমাণসহ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। হামলার পরদিন থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো নির্মাণ করে মাথা গোঁজার ঠাই করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রানী রায় বলেন, আমরা খুবই দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিয়েছি। তাদের ঘরগুলোও নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন