অপহরণ নাটকের ৮ বছর পর আইমুদ্দিন কারাগারে
jugantor
অপহরণ নাটকের ৮ বছর পর আইমুদ্দিন কারাগারে

  বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  

২৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩১:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনটি ছিল ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ। এইদিন আইমুদ্দিন (৬২) নামের এক ব্যক্তি ঘোড়াঘাট থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ আইমুদ্দিন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রূপসী পাড়া (ভেকসি) গ্রামের মৃত কিসমতুল্লাহর ছেলে।

আইমুদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার আগে একই গ্রামের মৃত তাছের আলী প্রধানের ছেলে মোজাহার আলী প্রধানের সঙ্গে জমি বিক্রয় নিয়ে একটি দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের কারণে আইমুদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছেলে আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে মোজাহার আলী ও তার দলবলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অপহরণ মামলা করে।

সেই অপহরণ মামলায় জামিনে এসে মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেই মামলার বিচার চলাকালীন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দিনাজপুরের আদালত আসামী আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজা প্রদান করে।

আইমুদ্দিন দীর্ঘ ৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর রোববার দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট থানার এএসআই রাখিমুজ্জামান রানা এবং কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আইমুদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের পর ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়া এবং পরে পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করে। সেখানে থাকাকালীন চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আবু হাসান কবির সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রয়ের জন্য চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার আলী ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার আলী দেখতে পান কাগজে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে জমির মালিক আইমুদ্দিন কৌশলে তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপন করে। পরে তার ছেলে আব্দুল আজিজ মোজাহার আলীকে ফাঁসাতে আদালতে গিয়ে মিথ্যা অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করে।

ওসি আরও বলেন, মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে যে মামলা করেছিল, সেই মামলায় আত্মগোপনে থাকা আইমুদ্দিনের ২ বছর সাজা হয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতার করে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপহরণ নাটকের ৮ বছর পর আইমুদ্দিন কারাগারে

 বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনটি ছিল ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ। এইদিন আইমুদ্দিন (৬২) নামের এক ব্যক্তি ঘোড়াঘাট থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ আইমুদ্দিন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রূপসী পাড়া (ভেকসি) গ্রামের মৃত কিসমতুল্লাহর ছেলে।

আইমুদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার আগে একই গ্রামের মৃত তাছের আলী প্রধানের ছেলে মোজাহার আলী প্রধানের সঙ্গে জমি বিক্রয় নিয়ে একটি দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের কারণে আইমুদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছেলে আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে মোজাহার আলী ও তার দলবলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অপহরণ মামলা করে।

সেই অপহরণ মামলায় জামিনে এসে মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেই মামলার বিচার চলাকালীন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দিনাজপুরের আদালত আসামী আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজা প্রদান করে।

আইমুদ্দিন দীর্ঘ ৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর রোববার দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট থানার এএসআই রাখিমুজ্জামান রানা এবং কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আইমুদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের পর ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়া এবং পরে পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করে। সেখানে থাকাকালীন চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আবু হাসান কবির সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রয়ের জন্য চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার আলী ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার আলী দেখতে পান কাগজে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে জমির মালিক আইমুদ্দিন কৌশলে তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপন করে। পরে তার ছেলে আব্দুল আজিজ মোজাহার আলীকে ফাঁসাতে আদালতে গিয়ে মিথ্যা অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করে।

ওসি আরও বলেন, মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে যে মামলা করেছিল, সেই মামলায় আত্মগোপনে থাকা আইমুদ্দিনের ২ বছর সাজা হয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতার করে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন