ফারহানার স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে অনড় রবির শিক্ষার্থীরা
jugantor
ফারহানার স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে অনড় রবির শিক্ষার্থীরা

  শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৩:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা।

অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও তারা সোমবার তৃতীয় দিনের মতো একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর বলেন, রবি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষিকা ফারহানাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব। কিন্তু রবি কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে আমাদের শিক্ষাজীবন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।

এদিকে, রোববার রাত সোয়া ২টার দিকে পুলিশের সহায়তায় রবির অবরুদ্ধ নিবন্ধক সোহরাব আলীসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুক্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, উচ্চশব্দে মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার না করার জন্য আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়েছি। তারা তা মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা দিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা শিক্ষিকার স্থায়ী বরখাস্তের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধক্ষ আব্দুল লতিফের সঙ্গে বসতে চাইলে আমি বিষয়টি তাকে জানিয়েছি। তিনি অচিরেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত তদন্ত কমিটি ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে রবির একাডেমিক ভবনে আসবে। এজন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, রবি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের যথাস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

সোমবার বিকালে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জামিনুর রহমান। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও নিবন্ধকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন ওই বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে তার স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১৬তম সভায় শিক্ষিকা ফারহানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

এ কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। কিন্তু গত শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই মুলতবি হয়ে যাওয়ায় তারা আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন।

ফারহানার স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে অনড় রবির শিক্ষার্থীরা

 শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা। 

অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও তারা সোমবার তৃতীয় দিনের মতো একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর বলেন, রবি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষিকা ফারহানাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব। কিন্তু রবি কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে আমাদের শিক্ষাজীবন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।

এদিকে, রোববার রাত সোয়া ২টার দিকে পুলিশের সহায়তায় রবির অবরুদ্ধ নিবন্ধক সোহরাব আলীসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুক্ত হয়েছেন। 

এ ছাড়া সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা। 

তিনি যুগান্তরকে বলেন, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, উচ্চশব্দে মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার না করার জন্য আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়েছি। তারা তা মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা দিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা শিক্ষিকার স্থায়ী বরখাস্তের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধক্ষ আব্দুল লতিফের সঙ্গে বসতে চাইলে আমি বিষয়টি তাকে জানিয়েছি। তিনি অচিরেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন বলে জানিয়েছেন। 

এদিকে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত তদন্ত কমিটি ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে রবির একাডেমিক ভবনে আসবে। এজন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, রবি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের যথাস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। 

সোমবার বিকালে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জামিনুর রহমান। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে জানতে রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও নিবন্ধকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন ওই বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে তার স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১৬তম সভায় শিক্ষিকা ফারহানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। 

এ কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। কিন্তু গত শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই মুলতবি হয়ে যাওয়ায় তারা আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন