ঘুষের জন্য ওসির নির্যাতন, লাইভে ২ সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি নারীর
jugantor
ঘুষের জন্য ওসির নির্যাতন, লাইভে ২ সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি নারীর

  বগুড়া ব্যুরো  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:১৪:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার ওসি হাসান আলীর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে নুরে আলম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল মেকানিক্সকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে ডিআইজির কাছে নালিশ করায় বালু ব্যবসায়ীকে দিয়ে তার (নুরে আলম) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এসব অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ওসি হাসানের অপরাধে শাস্তি ও তার স্বামী সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দুই শিশু সন্তানকে বিষপানে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করবেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি হাসান আলী জানান, সংবাদ সম্মেলনটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে রাজিয়া বেগম বলেন, তার স্বামী নূরে আলম দুপচাঁচিয়া বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল মেকানিক্সের কাজ করে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ও নিরীহ প্রকৃতির। গত ২৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে দুপচাঁচিয়া থানার এসআই মোসাদ্দেক দোকানে এসে মামলা থাকার কথা বলে নূরে আলমকে থানায় ডেকে নিয়ে যান।

সেখানে ওসি হাসান আলী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় হত্যা, মাদক, চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তিনি (রাজিয়া) থানায় গিয়ে ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনেন।

পরে এ ঘটনায় নূরে আলম পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের জিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ করার পর থেকে ওসি হাসান আলী স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালী আমিনুল ইসলাম বুলুসহ বেশ কয়েকজন তার পরিবারের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছেন। বুলু ১৬ অক্টোবর থানায় নূরে আলম ও তার ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মিনিবাস ভাংচুরের মামলা করেন। গত ১৯ অক্টোবর আদালতে জামিন নিতে যান। আদালত কয়েকজনকে জামিন দিলেও নূরে আলমসহ তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করেন।

এদিকে ওসি হাসান আলী ওইদিন নূরে আলম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করেন। এজাহারে ধর্ষণের তারিখ দেখানো হয়েছে ১২ অক্টোবর।

রাজিয়া বেগম আরও বলেন, স্বামী ও তার ভাইয়েরা জেলে থাকায় বাড়িতে শুধু শিশু ও নারীরা রয়েছেন। কিন্তু ওসি হাসান আলীর লেলিয়ে দেওয়া লোকজন নানাভাবে তাদের অত্যাচার ও হয়রানি করে আসছেন। এমনকি শিশু ছেলেকে ট্রাকের নিচে পিষিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তাদের হুমকির মুখে ১০ বছরের শিশুকে মাদ্রাসায় যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, উক্ত ওসি হাসান আলীর বিচার এবং তার স্বামী সুষ্ঠু বিচার না পেলে ফেসবুক লাইভে এসে দুই শিশু সন্তানকে বিষপানে মেরে নিজেও বিষপানে আত্মহত্যা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাচাশ্বশুর বেলাল হোসেন, ফিরোজ, রনি সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘুষের জন্য ওসির নির্যাতন, লাইভে ২ সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি নারীর

 বগুড়া ব্যুরো 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার ওসি হাসান আলীর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে নুরে আলম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল মেকানিক্সকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে ডিআইজির কাছে নালিশ করায় বালু ব্যবসায়ীকে দিয়ে তার (নুরে আলম) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এসব অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ওসি হাসানের অপরাধে শাস্তি ও তার স্বামী সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দুই শিশু সন্তানকে বিষপানে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করবেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি হাসান আলী জানান, সংবাদ সম্মেলনটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে রাজিয়া বেগম বলেন, তার স্বামী নূরে আলম দুপচাঁচিয়া বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল মেকানিক্সের কাজ করে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ও নিরীহ প্রকৃতির। গত ২৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে দুপচাঁচিয়া থানার এসআই মোসাদ্দেক দোকানে এসে মামলা থাকার কথা বলে নূরে আলমকে থানায় ডেকে নিয়ে যান।

সেখানে ওসি হাসান আলী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় হত্যা, মাদক, চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তিনি (রাজিয়া) থানায় গিয়ে ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনেন।

পরে এ ঘটনায় নূরে আলম পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের জিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ করার পর থেকে ওসি হাসান আলী স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালী আমিনুল ইসলাম বুলুসহ বেশ কয়েকজন তার পরিবারের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছেন। বুলু ১৬ অক্টোবর থানায় নূরে আলম ও তার ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মিনিবাস ভাংচুরের মামলা করেন। গত ১৯ অক্টোবর আদালতে জামিন নিতে যান। আদালত কয়েকজনকে জামিন দিলেও নূরে আলমসহ তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করেন।

এদিকে ওসি হাসান আলী ওইদিন নূরে আলম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করেন। এজাহারে ধর্ষণের তারিখ দেখানো হয়েছে ১২ অক্টোবর।

রাজিয়া বেগম আরও বলেন, স্বামী ও তার ভাইয়েরা জেলে থাকায় বাড়িতে শুধু শিশু ও নারীরা রয়েছেন। কিন্তু ওসি হাসান আলীর লেলিয়ে দেওয়া লোকজন নানাভাবে তাদের অত্যাচার ও হয়রানি করে আসছেন। এমনকি শিশু ছেলেকে ট্রাকের নিচে পিষিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তাদের হুমকির মুখে ১০ বছরের শিশুকে মাদ্রাসায় যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, উক্ত ওসি হাসান আলীর বিচার এবং তার স্বামী সুষ্ঠু বিচার না পেলে ফেসবুক লাইভে এসে দুই শিশু সন্তানকে বিষপানে মেরে নিজেও বিষপানে আত্মহত্যা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাচাশ্বশুর বেলাল হোসেন, ফিরোজ, রনি সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন