রাজশাহীতে ২৬৬ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে ভারত সরকারের বৃত্তি

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ১৬:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

‘মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ প্রকল্প’-এর আওতায় রাজশাহী অঞ্চলের ২৬৬ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বৃত্তি দিয়েছে ভারত সরকার।

রাজশাহীর ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে তাদের মাঝে নগদ চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০০৬ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের যারা উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক শিক্ষার্থী তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ প্রকল্পের আওতায় বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর রাজশাহী অঞ্চলের ২৬৬ জনকে এই বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বগুড়ার ১১২ জন, নাটোরের ১৩ জন, রাজশাহীর ৩১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১২ জন, নওগাঁ থেকে ৩৬ জন, জয়পুরহাট থেকে ১০ জন, সিরাজগঞ্জ থেকে ৩৪ জন, পাবনা থেকে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রয়েছেন।

ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্কলারশিপ প্রকল্পের আওতায় স্নাতক পর্যায়ের  শিক্ষার্থীরা চার বছরের জন্য এককালীন ২৪ হাজার এবং উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা এককালীন ১০ হাজার টাকা বৃত্তি পেয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর তা বাড়িয়ে আগামী বছর থেকে স্নাতকে ৫০ হাজার এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ২০ হাজার টাকা বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহীর ভারতীয় হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রামাণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান, রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মান্নান ও ভারতীয় হাইকমিশনের সচিব অজয় কুমার মিশ্র প্রমুখ বক্তব্য দেন। 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মুক্তিযদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক কোটি জনসংখ্যা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এ দেশের মানুষকে তিন বেলা খাইয়েছেন, জায়গা দিয়েছেন। আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। ভারতের সহযোগিতার এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান বলেন, ভারত আমাদের শুধু ভালো প্রতিবেশী নয়, ভালো বন্ধুও। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে দুদেশের সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ। আমরা প্রতিবেশী এ দুটি দেশ একে অপরের সহযোগিতায় পরস্পরের উন্নয়ন করতে চাই। 

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী হাইকমিমনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে যে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে উঠেছে কোনো শক্তিই এই মৈত্রীর বন্ধন ছিন্ন করতে পারবে না। পূর্বে যেভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে ভারত সেটা অব্যাহত রাখবে।