ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসায় একাধিক পশুর মৃত্যু!
jugantor
ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসায় একাধিক পশুর মৃত্যু!

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪১:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া পশু ডাক্তারের চিকিৎসায় একাধিক গবাদিপশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত পশু মালিকরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কতিপয় নামসর্বস্ব কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্তরা হলো- রাব্বানী, সৌরভ বাবু, করিম, জিন্নত, ইয়াছিন। তারা সবাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মচারী পরিচয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর উপজেলার শাহজাদপুরে দারগা আলী ভূইয়া বাড়ির হতদরিদ্র টিপুর গাভির বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে লক্ষ টাকা মূল্যের গাভি ও বাচ্চা দুটোই মারা যায় কোয়াক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায়। একই মাসে একই একদায় চরহাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মোতাহের হোসেনের একটি উন্নত জাতের গাভি ও বাছুর মারা যায়। এর কয়েক মাস আগে একই এলাকার আহম্মদ সর্দার বাড়ির আল আমিনের উন্নত মানের ছাগল (পাটনাইয়া ছাগল) বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে ৩-৪টি বাচ্চা দেওয়া অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের ওই ছাগল মারা যায়। এ ধরনের আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে এই ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।

চরহাজারী ইউনিয়নের গাভির মালিক মোতাহের হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পশু ডাক্তার পরিচয়ে ইয়াছিন নামের কোয়াক ডাক্তার আমার গাভি ও বাছুরের চিকিৎসা করেছিল। তার ভুল চিকিৎসায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের গাভি ও বাছুর মারা যায়।

অভিযুক্ত ইয়াসিনের বাবা জিন্নত আলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সাবেক ডেসার। জিন্নত ময়মনসিংহ জেলার অধিবাসী। পশু চিকিৎসক পরিচয়ে তিনি বিগত কয়েক বছর যাবত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদি পশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

জিন্নত আলী মোটরসাইকেলযোগে চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যাগ, যন্ত্রপাতি ও ওষুধপাতি নিয়ে ছুটে বেড়ান বিভিন্ন এলাকায়। তার ভুল চিকিৎসায় কয়েকজনের গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তিনি উপজেলার শাহজাদপুরে জমি ক্রয় করে আলিশান বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। জিন্নত আলী ও তার ছেলে ইয়াছিন পশু ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা ও ওষুধ বিক্রি করছেন। এতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

অভিযুক্ত রাব্বানীর বাড়িও বৃহত্তম ময়মনসিংহের জামালপুর জেলায়। তিনি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় মাঠ সহকারী হিসেবে ছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে বর্তমানে তার চাকরির বৈধতা না থাকলেও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তার আশীর্বাদে তিনি পশু চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। তার ভুল চিকিৎসায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জিন্নত আলী তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিজ্ঞতার আলোকে মানুষ ডাকে বলে ভালো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে।

অপর অভিযুক্ত রাব্বানীও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ফিল্ড অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্যারেরা মাঠে তেমন যান না। আমাদেরই পাঠান। আমরা গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকি। এ বিষয়ে লিখলে লিখতে পারেন, আমার কিছুই হবে না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, ভুয়া পশু চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ সত্য। কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় তারা এসব করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, তারা আমার অফিসের কেউ নয়। আমি ও আমার অফিসের নাম ভাঙিয়ে তারা ভুল চিকিৎসা দেয় বলে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অপারগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসায় একাধিক পশুর মৃত্যু!

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পশুর মৃত্যু
ফাইল ছবি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া পশু ডাক্তারের চিকিৎসায় একাধিক গবাদিপশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত পশু মালিকরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কতিপয় নামসর্বস্ব কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন। 

অভিযুক্তরা হলো- রাব্বানী, সৌরভ বাবু, করিম, জিন্নত, ইয়াছিন। তারা সবাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মচারী পরিচয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর উপজেলার শাহজাদপুরে দারগা আলী ভূইয়া বাড়ির হতদরিদ্র টিপুর গাভির বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে লক্ষ টাকা মূল্যের গাভি ও বাচ্চা দুটোই মারা যায় কোয়াক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায়। একই মাসে একই একদায় চরহাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মোতাহের হোসেনের একটি উন্নত জাতের গাভি ও বাছুর মারা যায়। এর কয়েক মাস আগে একই এলাকার আহম্মদ সর্দার বাড়ির আল আমিনের উন্নত মানের ছাগল (পাটনাইয়া ছাগল) বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে ৩-৪টি বাচ্চা দেওয়া অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের ওই ছাগল মারা যায়। এ ধরনের আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে এই ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।

চরহাজারী ইউনিয়নের গাভির মালিক মোতাহের হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পশু ডাক্তার পরিচয়ে ইয়াছিন নামের কোয়াক ডাক্তার আমার গাভি ও বাছুরের চিকিৎসা করেছিল। তার ভুল চিকিৎসায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের গাভি ও বাছুর মারা যায়।

অভিযুক্ত ইয়াসিনের বাবা  জিন্নত আলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সাবেক ডেসার।  জিন্নত ময়মনসিংহ জেলার অধিবাসী। পশু চিকিৎসক পরিচয়ে তিনি বিগত কয়েক বছর যাবত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদি পশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। 

জিন্নত আলী মোটরসাইকেলযোগে চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যাগ, যন্ত্রপাতি ও ওষুধপাতি নিয়ে  ছুটে বেড়ান বিভিন্ন এলাকায়। তার  ভুল চিকিৎসায় কয়েকজনের গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।  বর্তমানে তিনি উপজেলার শাহজাদপুরে জমি ক্রয় করে আলিশান বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন।  জিন্নত আলী ও তার ছেলে ইয়াছিন পশু ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা ও ওষুধ বিক্রি করছেন। এতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

অভিযুক্ত রাব্বানীর বাড়িও বৃহত্তম ময়মনসিংহের জামালপুর জেলায়। তিনি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় মাঠ সহকারী হিসেবে ছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে বর্তমানে তার  চাকরির বৈধতা না থাকলেও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তার আশীর্বাদে তিনি পশু চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। তার ভুল চিকিৎসায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জিন্নত আলী তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিজ্ঞতার আলোকে মানুষ ডাকে বলে ভালো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে।

অপর অভিযুক্ত রাব্বানীও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ফিল্ড অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্যারেরা মাঠে তেমন যান না। আমাদেরই পাঠান। আমরা গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকি। এ বিষয়ে লিখলে লিখতে পারেন, আমার কিছুই হবে না।  

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, ভুয়া পশু চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ সত্য। কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় তারা এসব করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, তারা আমার অফিসের কেউ নয়। আমি ও আমার অফিসের নাম ভাঙিয়ে তারা ভুল চিকিৎসা দেয় বলে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অপারগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন