টাকার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে স্কুলছাত্রী অযুফার
jugantor
টাকার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে স্কুলছাত্রী অযুফার

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

২৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৪:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

টাকার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে স্কুলছাত্রী অযুফার

জন্মের পর থেকেই জ্বর-বমি আর শ্বাসসকষ্ট লেগেই থাকত ছোট্ট অযুফা খাতুনের (১৩)। এগার বছর বয়স পর্যন্ত শরীরের ওজন ছিল মাত্র ১২ কেজি! তার হার্টের ছিদ্র রয়েছে।

নিজের শারীরিক ওজনের চেয়ে রোগের জন্য খাওয়া ওষুধের ওজনই অনেক বেশি বলে জানান অযুফার বাবা-মা! পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারত না শিশুটি। নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে বর্তমানে অযুফা এখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।

তবে আগের মতো সহপাঠীদের সাথে হৈ-হুল্লোড় বা খেলাধূলায় মেতে থাকতে পারে না শিশুটি। নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। হার্টের ছিদ্র দিনে দিনে বড় হওয়ায় ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশুটি।

ডাক্তার-করিবাজ দিয়ে দীর্ঘদিন একমাত্র মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চার লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা সুরুজ আলী। তবুও রোগ সারেনি ছোট্ট অযুফার। এখন অপারেশন করা ছাড়া অযুফার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

অপারেশনের জন্য প্রয়োজন তিন লাখ টাকা। নয়তো একটা সময় অযুফার জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে!

কীভাবে মেয়েকে বাঁচাবেন, আর কীভাবেই বা চার লাখ টাকা ঋণ শোধ করবেন? এই চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইলমারী পূর্বপাড়া গ্রামের অসহায় সুরুজ আলী।

বিনা চিকিৎসায় অযুফা দিনে দিনে দূর্বল হয়ে পড়ছে। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে চোখ। বেড়েছে শ্বাসকষ্ট। মেয়ের এমন করুণ অবস্থা দেখে অঝোরে কাঁদছেন মা রীপা খাতুন।

সরেজমিন গেলে যুগান্তর প্রতিবেদককে সুরুজ আলী জানান, জন্মের পনের দিনের মাথায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অযুফার। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয় ছোট্ট শিশুটির। রোগ না সারায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গার কবিরাজকে দিয়েও দেখানো হয়। চলে ঝাড়ফুঁক। এরপরেও সুস্থ না হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো। ভালো-মন্দের মিশেলে কেটে যায় বারটি বছর।

এক যুগে বাবা সুরুজ আলী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে ফেলেন মেয়ের চিকিৎসায়।অতিসম্প্রতি শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যাথা, জ্বর না সারা অযুফাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোল্লা মো. ইফতেখার হোসেনের কাছে। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষায় অযুফার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে। যা দিনে দিনে বড় হয়ে গেছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করালে পুরোপুরি সুস্থ হবে অযুফা। তবে অপারেশনের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩ লাখ টাকা। চিকিৎসকের এমন কথা শুনে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন বাবা-মা। কোথায় টাকা পাবেন তারা? কীভাবে করাবেন একমাত্র মেয়ের চিকিৎসা?

অশ্রুসিক্ত নয়নে মা রীপা খাতুন বলেন, ‘মেয়ের কষ্ট দেখলে বুক ফেটে যায়! কীভাবে সহ্য করব এ কষ্ট? আমি তো মা। বিশ্বাস করেন মেয়ে ছাড়া আমরা বাঁচবো না! আমাদের সামর্থ্য থাকলে মেয়েকে কখনোই কষ্ট দিতাম না। দুরন্ত মেয়েকে আমার শান্ত হয়ে গেছে।’

অযুফার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরমিলা আক্তার ঝুমি যুগান্তরকে বলেন, পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাগজপত্র দেখে মনে হয়েছে দ্রুত মেয়েটির (অযুফা) অপারেশন করা প্রয়োজন। এর জন্য ঢাকায় নিতে হবে। খরচও ব্যায়বহুল। অপারেশন করালে সুস্থ হবে অযুফা।

অযুফার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই নাম্বারে- ০১৭২৬৫২৭৩৪৩ (বিকাশ)

টাকার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে স্কুলছাত্রী অযুফার

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
২৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
টাকার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে স্কুলছাত্রী অযুফার
বাবা-মার সঙ্গে শিশু অযুফা খাতুন। ছবি-যুগান্তর

জন্মের পর থেকেই জ্বর-বমি আর শ্বাসসকষ্ট লেগেই থাকত ছোট্ট অযুফা খাতুনের (১৩)। এগার বছর বয়স পর্যন্ত শরীরের ওজন ছিল মাত্র ১২ কেজি! তার হার্টের ছিদ্র রয়েছে। 

নিজের শারীরিক ওজনের চেয়ে রোগের জন্য খাওয়া ওষুধের ওজনই অনেক বেশি বলে জানান অযুফার বাবা-মা!  পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারত না শিশুটি। নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে বর্তমানে অযুফা এখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।

তবে আগের মতো সহপাঠীদের সাথে হৈ-হুল্লোড় বা খেলাধূলায় মেতে থাকতে পারে না শিশুটি। নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। হার্টের ছিদ্র দিনে দিনে বড় হওয়ায় ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশুটি। 

ডাক্তার-করিবাজ দিয়ে দীর্ঘদিন একমাত্র মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চার লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা সুরুজ আলী। তবুও রোগ সারেনি ছোট্ট অযুফার। এখন অপারেশন করা ছাড়া অযুফার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

অপারেশনের জন্য প্রয়োজন তিন লাখ টাকা। নয়তো একটা সময় অযুফার জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে! 

কীভাবে মেয়েকে বাঁচাবেন, আর কীভাবেই বা চার লাখ টাকা ঋণ শোধ করবেন? এই চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইলমারী পূর্বপাড়া গ্রামের অসহায় সুরুজ আলী। 

বিনা চিকিৎসায় অযুফা দিনে দিনে দূর্বল হয়ে পড়ছে। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে চোখ। বেড়েছে শ্বাসকষ্ট। মেয়ের এমন করুণ অবস্থা দেখে অঝোরে কাঁদছেন মা রীপা খাতুন।

সরেজমিন গেলে যুগান্তর প্রতিবেদককে সুরুজ আলী জানান, জন্মের পনের দিনের মাথায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অযুফার। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয় ছোট্ট শিশুটির। রোগ না সারায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গার কবিরাজকে দিয়েও দেখানো হয়। চলে ঝাড়ফুঁক। এরপরেও সুস্থ না হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো। ভালো-মন্দের মিশেলে কেটে যায় বারটি বছর।

এক যুগে বাবা সুরুজ আলী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে ফেলেন মেয়ের চিকিৎসায়। অতিসম্প্রতি শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যাথা, জ্বর না সারা অযুফাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোল্লা মো. ইফতেখার হোসেনের কাছে। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষায় অযুফার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে। যা দিনে দিনে বড় হয়ে গেছে। 

দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করালে পুরোপুরি সুস্থ হবে অযুফা। তবে অপারেশনের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩ লাখ টাকা। চিকিৎসকের এমন কথা শুনে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন বাবা-মা। কোথায় টাকা পাবেন তারা? কীভাবে করাবেন একমাত্র মেয়ের চিকিৎসা?

অশ্রুসিক্ত নয়নে মা রীপা খাতুন  বলেন, ‘মেয়ের কষ্ট দেখলে বুক ফেটে যায়! কীভাবে সহ্য করব এ কষ্ট? আমি তো মা। বিশ্বাস করেন মেয়ে ছাড়া আমরা বাঁচবো না! আমাদের সামর্থ্য থাকলে মেয়েকে কখনোই কষ্ট দিতাম না। দুরন্ত মেয়েকে আমার শান্ত হয়ে গেছে।’ 

অযুফার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরমিলা আক্তার ঝুমি যুগান্তরকে বলেন, পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাগজপত্র দেখে মনে হয়েছে দ্রুত মেয়েটির (অযুফা) অপারেশন করা প্রয়োজন। এর জন্য ঢাকায় নিতে হবে। খরচও ব্যায়বহুল। অপারেশন করালে সুস্থ হবে অযুফা।

অযুফার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই নাম্বারে- ০১৭২৬৫২৭৩৪৩ (বিকাশ)

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন