বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা না আনায়...
jugantor
বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা না আনায়...

  সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৩০ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪১:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলন

পাবনার সুজানগর উপজেলার রাইপুর মাজপারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার সদ্য ডিভোসপ্রাপ্তস্ত্রী। ইমরান হোসেন রাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনকারী নারীর নাম খালেদা আক্তার। তিনি সুজানগর পৌরসভার চরমানিকদি গ্রামের মৃত জালাল মণ্ডলের মেয়ে।

শনিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, সরকারি ব্যাংকে চাকরি করে এমন মিথ্যা কথা বলে ১০ লাখ টাকা যৌতুক, ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর খালেদা জানতে পারেন, তার স্বামী সরকারি চাকরিজীবী নয়, তিনি মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন। ইমরান একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

বিয়ের কিছুদিন পর ইমরান সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। সংসার বাঁচানোর তাগিদে ৬ লাখ টাকা দেয় তার পরিবার।

এরপর ইমরান হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পান। কিন্তু এর মধ্যে বেশ কিছু মেয়ে এবং ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে ইমরানের অনৈতিক সম্পর্ক ও মাদকাসক্তের কথা জানতে পারেন স্ত্রী খালেদা আক্তার।

খালেদা আক্তার বলেন, এসব বিষয়ে নিষেধ করলে আমাকে প্রায়ই মারধর করত ইমরান। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ অনুযায়ী বাবার জমি বিক্রি করে টাকা আনতে বলেন ইমরান। বাবার বাড়ির টাকা না আনায় নির্যাতনের পরডিভোর্স দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, আমার বাবা না থাকায় দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে ভাইদের কাছে থাকতে হচ্ছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ইমরানের বিরুদ্ধে সুজানগর থানায় তিনি একটি মামলা দায়ের করেছেন (নম্বর ১০৪/ ২০২১)। এছাড়া স্বামী ইমরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইমরান হোসেন বলেন, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য। কিন্তু সেটা আমার স্ত্রী রাখেনি। পারিবারিক অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি আইনি প্রক্রিয়ায়। সবেমাত্র ডিভোর্স হয়েছে, বাচ্চাদের ভরণ-পোষণ দিতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, তারা একটিলিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনার বিষয়েতারা দ্রুত একটিতদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা না আনায়...

 সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি  
৩০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খালেদা আক্তার

পাবনার সুজানগর উপজেলার রাইপুর মাজপারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার সদ্য ডিভোসপ্রাপ্ত স্ত্রী। ইমরান হোসেন রাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। 

সংবাদ সম্মেলনকারী নারীর নাম খালেদা আক্তার। তিনি সুজানগর পৌরসভার চরমানিকদি গ্রামের মৃত জালাল মণ্ডলের মেয়ে।

শনিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, সরকারি ব্যাংকে চাকরি করে এমন মিথ্যা কথা বলে ১০ লাখ টাকা যৌতুক, ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর খালেদা জানতে পারেন, তার স্বামী সরকারি চাকরিজীবী নয়, তিনি মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন। ইমরান একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

বিয়ের কিছুদিন পর ইমরান সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। সংসার বাঁচানোর তাগিদে ৬ লাখ টাকা দেয় তার পরিবার। 

এরপর ইমরান হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পান। কিন্তু এর মধ্যে বেশ কিছু মেয়ে এবং ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে ইমরানের অনৈতিক সম্পর্ক ও মাদকাসক্তের কথা জানতে পারেন স্ত্রী খালেদা আক্তার।

খালেদা আক্তার বলেন, এসব বিষয়ে নিষেধ করলে আমাকে প্রায়ই মারধর করত ইমরান। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ অনুযায়ী বাবার জমি বিক্রি করে টাকা আনতে বলেন ইমরান। বাবার বাড়ির টাকা না আনায় নির্যাতনের পর ডিভোর্স দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, আমার বাবা না থাকায় দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে ভাইদের কাছে থাকতে হচ্ছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ইমরানের বিরুদ্ধে সুজানগর থানায় তিনি একটি মামলা দায়ের করেছেন (নম্বর ১০৪/ ২০২১)। এছাড়া স্বামী ইমরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে ইমরান হোসেন বলেন, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য। কিন্তু সেটা আমার স্ত্রী রাখেনি। পারিবারিক অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি আইনি প্রক্রিয়ায়। সবেমাত্র ডিভোর্স হয়েছে, বাচ্চাদের ভরণ-পোষণ দিতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।
 
 এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে তারা দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন