স্বেচ্ছাসেবক লীগ বনাম যুবলীগ, হামলা ভাংচুর রগ কর্তন
jugantor
স্বেচ্ছাসেবক লীগ বনাম যুবলীগ, হামলা ভাংচুর রগ কর্তন

  বগুড়া ব্যুরো  

৩১ অক্টোবর ২০২১, ২১:০৯:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতিনের মাঝে বিরোধ বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের ছত্রছায়ায় মহিদুলের লোকজন প্রতিপক্ষ মতিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার সকাল ও দুপুরে দুই দফা হামলায় মতিন গ্রুপের চারজন আহত হয়েছেন। একজনের হাত-পায়ের রগ কেটে নদে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এ ঘটনায় মহিদুল স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিনকে উল্টো দায়ী করেছেন। পুলিশের শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি তানভীর হাসান, থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ফোন না ধরায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহিদুল ইসলাম (নৌকা) ও মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) বিহার ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতিনের। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাংচুর অব্যাহত রয়েছে।

রোববার বেলা ১০টার দিকে মতিনের সমর্থক ভাসু বিহার এলাকার সাজু ও ইউসুফ বিহার হাটে পোস্টারিং করতে যান। এ সময় মহিদুলের লোকজন তাদের মারপিট ও ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়ায় মহিদুল নিজে মতিনের অপর সমর্থক রেজাউল করিমকে বেধড়ক মারপিট করেন। এছাড়া মতিনকে সমর্থন করায় মহিদুলের লোকজন বিহার ইউনিয়নের মেম্বর রায়হান, তার ভাই রবিউল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

বিহারহাটে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে মহিদুলের সমর্থকের মুদি দোকান আছে। দুপুরে মতিনের পক্ষ নিয়ে রায়হান মেম্বরের লোকজন ওই দোকানে হামলা চালায়। খবরটি জানতে পেরে মহিদুল ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হন। বেলা ২টার দিকে এসব ঘটনার মীমাংসার নামে মতিনের লোকজনকে বিহার মোন্নাপাড়ায় ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় মহিদুলের লোকজন রায়হান মেম্বারের ভাই রবিউল ইসলামকে মারপিটের পর তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেন। এরপর তাকে নগর নদে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। রবিউল ইসলাম বিহার মোন্নাপাড়ার আবদুল মোতালেবের ছেলে।

এছাড়া মহিদুল পক্ষের লোকজন মতিন সমর্থকদের সাতটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করেছে। এ সময় বাধা দিলে নারীদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বিহার ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতিন জানান, নৌকা মার্কার প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলামের নির্দেশে তার লোকজন প্রতিনিয়ত তার কর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছেন। রোববার সকাল ও দুপুরে দুই দফা ছুরিকাঘাতে তার চার কর্মীকে আহত করা হয়েছে। তাদের ৭টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া নৌকা মার্কায় ভোট দিতে রাজি না হাওয়ায় তার কর্মী রবিউল ইসলামের হাত-পায়ের রগ কেটে তাকে হত্যার জন্য নদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

মতিন অভিযোগ করেন, শিবগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহী প্রার্থী মতিন ও লোকজন তার কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছেন। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও লাগাতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ বনাম যুবলীগ, হামলা ভাংচুর রগ কর্তন

 বগুড়া ব্যুরো 
৩১ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতিনের মাঝে বিরোধ বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের ছত্রছায়ায় মহিদুলের লোকজন প্রতিপক্ষ মতিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার সকাল ও দুপুরে দুই দফা হামলায় মতিন গ্রুপের চারজন আহত হয়েছেন। একজনের হাত-পায়ের রগ কেটে নদে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এ ঘটনায় মহিদুল স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিনকে উল্টো দায়ী করেছেন। পুলিশের শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি তানভীর হাসান, থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ফোন না ধরায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহিদুল ইসলাম (নৌকা) ও মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) বিহার ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতিনের। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাংচুর অব্যাহত রয়েছে।

রোববার বেলা ১০টার দিকে মতিনের সমর্থক ভাসু বিহার এলাকার সাজু ও ইউসুফ বিহার হাটে পোস্টারিং করতে যান। এ সময় মহিদুলের লোকজন তাদের মারপিট ও ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়ায় মহিদুল নিজে মতিনের অপর সমর্থক রেজাউল করিমকে বেধড়ক মারপিট করেন। এছাড়া মতিনকে সমর্থন করায় মহিদুলের লোকজন বিহার ইউনিয়নের মেম্বর রায়হান, তার ভাই রবিউল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

বিহারহাটে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে মহিদুলের সমর্থকের মুদি দোকান আছে। দুপুরে মতিনের পক্ষ নিয়ে রায়হান মেম্বরের লোকজন ওই দোকানে হামলা চালায়। খবরটি জানতে পেরে মহিদুল ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হন। বেলা ২টার দিকে এসব ঘটনার মীমাংসার নামে মতিনের লোকজনকে বিহার মোন্নাপাড়ায় ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় মহিদুলের লোকজন রায়হান মেম্বারের ভাই রবিউল ইসলামকে মারপিটের পর তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেন। এরপর তাকে নগর নদে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। রবিউল ইসলাম বিহার মোন্নাপাড়ার আবদুল মোতালেবের ছেলে।

এছাড়া মহিদুল পক্ষের লোকজন মতিন সমর্থকদের সাতটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করেছে। এ সময় বাধা দিলে নারীদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বিহার ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতিন জানান, নৌকা মার্কার প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলামের নির্দেশে তার লোকজন প্রতিনিয়ত তার কর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছেন। রোববার সকাল ও দুপুরে দুই দফা ছুরিকাঘাতে তার চার কর্মীকে আহত করা হয়েছে। তাদের ৭টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া নৌকা মার্কায় ভোট দিতে রাজি না হাওয়ায় তার কর্মী রবিউল ইসলামের হাত-পায়ের রগ কেটে তাকে হত্যার জন্য নদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

মতিন অভিযোগ করেন, শিবগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহী প্রার্থী মতিন ও লোকজন তার কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছেন। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও লাগাতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন