বরিশালে হামলায় আহত ১০ হাফেজ
jugantor
বরিশালে হামলায় আহত ১০ হাফেজ

  গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি  

০২ নভেম্বর ২০২১, ০০:৩৯:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী উলুমে দ্বীনিয়া কওমি মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের এক শিক্ষককে অবরুদ্ধ ও কিতাব বিভাগের ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাদ্রাসার ক্লাস রুমে ও মুহতামিমের কক্ষে এবং বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় কেতাব বিভাগের হাফেজ ১০ ছাত্র আহত হয়েছে। এতে মাদ্রাসায় ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কিতাব বিভাগের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও আহত ছাত্ররা জানান, উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার ভাগ্নে ও বার্থী কওমি মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী ব্যঙ্গ করে কেতাব বিভাগের ছাত্রদের প্রায়ই ডাকেন এবং অসদাচরণ করে আসছিলেন। ব্যঙ্গ করে ডাকতে নিষেধ করায় শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে সম্প্রতি কেতাব বিভাগের ছাত্র মো. শাহ্জালাল, মো. মাহামুদকে পিটিয়ে আহত করেছিলেন।

বিনা কারণে শিক্ষক মানিক রোববার বিকালে কেতাব বিভাগের ছাত্র শাহ্জালালকে কিলঘুষি মেরে রক্তাক্ত করেন। এ ঘটনার বিচার দিতে সহপাঠীরা সোমবার সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি হাফেজ আমিনুল ইসলামের কাছে যায়। বিচার দেয়ার কারণে শিক্ষক মানিক বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ক্লাস রুমে ঢুকে কেতাব বিভাগের ছাত্র মো. রফিকুল ইসলাম, মাহামুদ হোসেনকে পিটিয়ে আহত করেন।

এতে কেতাব বিভাগের ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষক মানিককে ধাওয়া করে। এ সময় শিক্ষক মানিক দৌড়ে মাদ্রাসার মুহতামিমের কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাকে আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এর কিছুক্ষণ পর কেতাব বিভাগের ছাত্ররা বিচার দিতে শিক্ষক মানিকের মামা বার্থী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার বাড়িতে যায়।

এ সময় হাফেজ মানিকের নেতৃত্বে ১৫-২০ যুবক হাতুড়ি, ব্যালচা, লাঠিসোটা নিয়ে শাহ্জাহান প্যাদার বাড়িতে গিয়ে জঙ্গি অপবাদ দিয়ে অতর্কিতে নালিশ দিতে যাওয়া ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে কেতাব বিভাগের ছাত্র হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, হাফেজ হাফিজুর রহমান, হাফেজ আবু ইউসুফ, হাফেজ সোয়াইব হাফেজ হোসেন, হাফেজ মো. হাসানউদ্দিন, হাফেজ হাবিবুল্লাহসহ ১০ আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী বলেন, আমার ও আমাদের মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কতিপয় ছাত্র কুৎসা রটাচ্ছে।

মাদ্রাসার মুহ্তামিম মুফতি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার নির্দেশে আমি কেতাব বিভাগের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছি। আমাকে ও কেতাব বিভাগের ছাত্রদের জঙ্গি বানানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি এখন অসহায়।

বরিশালে হামলায় আহত ১০ হাফেজ

 গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
০২ নভেম্বর ২০২১, ১২:৩৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী উলুমে দ্বীনিয়া কওমি মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের এক শিক্ষককে অবরুদ্ধ ও কিতাব বিভাগের ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাদ্রাসার ক্লাস রুমে ও মুহতামিমের কক্ষে এবং বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় কেতাব বিভাগের  হাফেজ ১০ ছাত্র আহত হয়েছে। এতে মাদ্রাসায় ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কিতাব বিভাগের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও আহত ছাত্ররা জানান, উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার ভাগ্নে ও বার্থী কওমি মাদ্রাসার  নুরানি বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী ব্যঙ্গ করে কেতাব বিভাগের ছাত্রদের প্রায়ই ডাকেন এবং অসদাচরণ করে আসছিলেন। ব্যঙ্গ করে ডাকতে নিষেধ করায় শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে সম্প্রতি কেতাব বিভাগের ছাত্র মো. শাহ্জালাল, মো.  মাহামুদকে পিটিয়ে আহত করেছিলেন।

বিনা কারণে শিক্ষক মানিক রোববার বিকালে কেতাব বিভাগের ছাত্র শাহ্জালালকে কিলঘুষি মেরে রক্তাক্ত করেন। এ ঘটনার বিচার দিতে সহপাঠীরা সোমবার সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি হাফেজ আমিনুল ইসলামের কাছে যায়। বিচার দেয়ার  কারণে শিক্ষক মানিক বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ক্লাস রুমে ঢুকে কেতাব বিভাগের ছাত্র মো. রফিকুল ইসলাম, মাহামুদ হোসেনকে পিটিয়ে আহত করেন।

এতে কেতাব বিভাগের ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষক মানিককে ধাওয়া করে। এ সময় শিক্ষক মানিক দৌড়ে মাদ্রাসার মুহতামিমের কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাকে আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এর কিছুক্ষণ পর কেতাব বিভাগের ছাত্ররা বিচার দিতে শিক্ষক মানিকের মামা বার্থী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক  ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার বাড়িতে যায়।

এ সময় হাফেজ মানিকের নেতৃত্বে ১৫-২০ যুবক হাতুড়ি, ব্যালচা, লাঠিসোটা নিয়ে শাহ্জাহান প্যাদার বাড়িতে গিয়ে জঙ্গি অপবাদ দিয়ে অতর্কিতে নালিশ দিতে যাওয়া ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে কেতাব বিভাগের ছাত্র হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, হাফেজ হাফিজুর রহমান, হাফেজ আবু ইউসুফ, হাফেজ সোয়াইব হাফেজ হোসেন, হাফেজ মো. হাসানউদ্দিন, হাফেজ হাবিবুল্লাহসহ ১০ আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী বলেন, আমার ও আমাদের মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কতিপয় ছাত্র কুৎসা রটাচ্ছে।

মাদ্রাসার মুহ্তামিম মুফতি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার নির্দেশে আমি কেতাব বিভাগের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছি। আমাকে ও কেতাব বিভাগের ছাত্রদের জঙ্গি বানানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি এখন অসহায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন