যে কারণে শ্বশুরকে বাবা সাজান শামীম
jugantor
যে কারণে শ্বশুরকে বাবা সাজান শামীম

  বগুড়া ব্যুরো  

০২ নভেম্বর ২০২১, ১৮:০৮:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়াকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে দাপটের সাথে চাকরি করছেন শামীম হোসেন নামে এক মহুরি।

বিষয়টি জানাজানি হলে ওই কার্যালয়ে কর্মরতদের মাঝে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অফিস সহায়ক শামীম হোসেন এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শামীমের স্ত্রী বাবার কোটায় উপজেলা মৎস্য অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ফেনসি খাতুন জানান, তার ভাই নেই; শামীম বাবাকে দেখভাল করেন। তাই শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে বলেন, এতে আপনাদের কী? যা ইচ্ছা করেন।

অনুসন্ধান ও অভিযোগে জানা গেছে, আদালতের সাবেক মহুরি মো. শামীম হোসেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে। তিনি সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার মেয়ে মোছা. ফেনসি খাতুনকে বিয়ে করেন। ফেনসি খাতুন বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মৎস্য অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকরি লাভ করেন। তিনি বর্তমানে দুপচাঁচিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসে কর্মরত আছেন।

বিয়ের পর মাধ্যমিক পাশ মহুরি শামীম হোসেন সরকারি চাকরি লাভের আশায় শ্বশুর সোনা মিয়াকে বাবা বানানোর উদ্যোগ নেন। তিনি শ্বশুরপক্ষের সহযোগিতায় তার একাডেমিক সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতা মৃত করমতুল্লাহর স্থলে শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার নাম করেন।

এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও নিজের অনুকূলে নেন। এরপর তিনি মহুরির পেশা ছেড়ে সোনা মিয়ার ছেলে সেজে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহায়কের চাকরি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রে মো. শামীম হোসেনের বাবার নাম পরিবর্তন করে মো. সোনা মিয়া করা হয়েছে। তবে মায়ের সঠিক নাম জাহানারা বেগম রাখা হয়েছে। বর্তমান ঠিকানা- নারহট্ট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উলট্ট পশ্চিমপাড়া এবং স্থায়ী ঠিকানা মাধববাঁকা, কাহালু।

কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন তালুকদার বেলাল জানান, শামীম হোসেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে। তিনি শুনেছেন, শামীম তার বাবার নামের স্থলে মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরের নাম বসিয়ে সরকারি চাকরি করছেন।

এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী সাকিউল ইসলাম জানান, তিনি অফিস সহায়ক শামীম হোসেনের বাবা পরিবর্তনের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। শামীম প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। তাই তার কিছু করণীয় নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়ে থাকলে অপরাধ করেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

যে কারণে শ্বশুরকে বাবা সাজান শামীম

 বগুড়া ব্যুরো 
০২ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়াকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে দাপটের সাথে চাকরি করছেন শামীম হোসেন নামে এক মহুরি।

বিষয়টি জানাজানি হলে ওই কার্যালয়ে কর্মরতদের মাঝে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অফিস সহায়ক শামীম হোসেন এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শামীমের স্ত্রী বাবার কোটায় উপজেলা মৎস্য অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ফেনসি খাতুন জানান, তার ভাই নেই; শামীম বাবাকে দেখভাল করেন। তাই শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে বলেন, এতে আপনাদের কী? যা ইচ্ছা করেন।

অনুসন্ধান ও অভিযোগে জানা গেছে, আদালতের সাবেক মহুরি মো. শামীম হোসেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে। তিনি সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার মেয়ে মোছা. ফেনসি খাতুনকে বিয়ে করেন। ফেনসি খাতুন বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মৎস্য অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকরি লাভ করেন। তিনি বর্তমানে দুপচাঁচিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসে কর্মরত আছেন।

বিয়ের পর মাধ্যমিক পাশ মহুরি শামীম হোসেন সরকারি চাকরি লাভের আশায় শ্বশুর সোনা মিয়াকে বাবা বানানোর উদ্যোগ নেন। তিনি শ্বশুরপক্ষের সহযোগিতায় তার একাডেমিক সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতা মৃত করমতুল্লাহর স্থলে শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার নাম করেন।

এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও নিজের অনুকূলে নেন। এরপর তিনি মহুরির পেশা ছেড়ে সোনা মিয়ার ছেলে সেজে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহায়কের চাকরি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রে মো. শামীম হোসেনের বাবার নাম পরিবর্তন করে মো. সোনা মিয়া করা হয়েছে। তবে মায়ের সঠিক নাম জাহানারা বেগম রাখা হয়েছে। বর্তমান ঠিকানা- নারহট্ট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উলট্ট পশ্চিমপাড়া এবং স্থায়ী ঠিকানা মাধববাঁকা, কাহালু।

কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন তালুকদার বেলাল জানান, শামীম হোসেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে। তিনি শুনেছেন, শামীম তার বাবার নামের স্থলে মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরের নাম বসিয়ে সরকারি চাকরি করছেন।

এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী সাকিউল ইসলাম জানান, তিনি অফিস সহায়ক শামীম হোসেনের বাবা পরিবর্তনের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। শামীম প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। তাই তার কিছু করণীয় নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়ে থাকলে অপরাধ করেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন