বুড়িচংয়ে এক রাতে ৫ ডাকাতি
jugantor
বুড়িচংয়ে এক রাতে ৫ ডাকাতি

  কুমিল্লা ব্যুরো   

০২ নভেম্বর ২০২১, ২২:১৫:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক রাতে চার বাড়ি ও একটি সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পাঁচটি ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাত দলের হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের লোয়ারচর গ্রামের আবদুল হোসেনের বাড়িতে ২৫-৩০ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। রাত সাড়ে ১২টায় ডাকাত দল বাড়ির ফটকের দুটি গেট ও তিনটি দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। বাড়িতে আবদুল হোসেন ও তার ছেলে ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ও প্রবাসী দুই ছেলের স্ত্রী সন্তানরা ছিলেন।

ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ৬ রুমের ঘরে একে একে স্টিলের আলমারি, ওয়্যারড্রপ ভেঙে ফেলে। ডাকাত দল ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

আবুল হোসেনের ভাতিজা মিলন বলেন, রাত ১টা ২০ মিনিটে ডাকাত দল চলে গেলে বাড়ির সদস্যদের চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থালে গিয়ে ডাকাতির ঘটনা দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করি। পরে রাত ২টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

এ ঘটনার পর রাত আড়াইটায় একদল ডাকাত ৫ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী লোধন গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান আহমেদের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাত দল ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণ, মোবাইল ফোন লুট করে। ডাকাত দলের হামলায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আহত হন। ডাকাতরা তার কান ছিঁড়ে দুল ছিনিয়ে নেয়। ডাকাত দল চলে গেলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে পুলিশকে খবর দিলে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

একই রাতে ডাকাত দল একই ইউনিয়নের ভারিকোটা গ্রামের আবদুল লতিফের বাড়িতে ঢুকে দুটি ঘরে ডাকাতি করে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এর আগে রাত ১১টায় আবিদপুর-কাকিয়ারচড় সড়কে এক মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতি ডাকাতদের কবলে পড়েন। ডাকাত দল তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার লুট করে।

এ বিষয়ে মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সি বলেন, ইউনিয়নবাসী ডাকাত আতঙ্কে ভুগছেন। গত এক মাসে মোকাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একাধিক ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। সোমবার রাতে লোয়ারচর, লোধন ও ভারিকোটা গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এছাড়া একটি সড়কেও ডাকাতি হয়েছে। গ্রামের মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক মিটিং হলেও কোনো প্রকারেই ডাকাতি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বুড়িচংয়ে এক রাতে ৫ ডাকাতি

 কুমিল্লা ব্যুরো  
০২ নভেম্বর ২০২১, ১০:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক রাতে চার বাড়ি ও একটি সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পাঁচটি ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাত দলের হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের লোয়ারচর গ্রামের আবদুল হোসেনের বাড়িতে ২৫-৩০ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। রাত সাড়ে ১২টায় ডাকাত দল বাড়ির ফটকের দুটি গেট ও তিনটি দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। বাড়িতে আবদুল হোসেন ও তার ছেলে ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ও প্রবাসী দুই ছেলের স্ত্রী সন্তানরা ছিলেন। 

ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ৬ রুমের ঘরে একে একে স্টিলের আলমারি,  ওয়্যারড্রপ ভেঙে ফেলে। ডাকাত দল  ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
 
আবুল হোসেনের ভাতিজা মিলন বলেন, রাত ১টা ২০ মিনিটে ডাকাত দল চলে গেলে বাড়ির সদস্যদের চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থালে গিয়ে ডাকাতির ঘটনা দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করি। পরে রাত ২টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। 

এ ঘটনার পর রাত আড়াইটায় একদল ডাকাত ৫ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী লোধন গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান আহমেদের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাত দল ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণ, মোবাইল ফোন লুট করে। ডাকাত দলের হামলায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আহত হন। ডাকাতরা তার কান ছিঁড়ে দুল ছিনিয়ে নেয়। ডাকাত দল চলে গেলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে পুলিশকে খবর দিলে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

একই রাতে ডাকাত দল একই ইউনিয়নের ভারিকোটা গ্রামের আবদুল লতিফের বাড়িতে ঢুকে দুটি ঘরে ডাকাতি  করে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। 

এর আগে রাত ১১টায় আবিদপুর-কাকিয়ারচড় সড়কে এক মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতি ডাকাতদের কবলে পড়েন। ডাকাত দল তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার লুট করে। 

এ বিষয়ে মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সি বলেন, ইউনিয়নবাসী ডাকাত আতঙ্কে ভুগছেন। গত এক মাসে মোকাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একাধিক ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। সোমবার রাতে লোয়ারচর, লোধন ও ভারিকোটা গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এছাড়া একটি সড়কেও ডাকাতি হয়েছে। গ্রামের মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক মিটিং হলেও কোনো প্রকারেই ডাকাতি বন্ধ করা যাচ্ছে না। 

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন