গানের সুরে সবাইকে মুগ্ধ করেন বাউল আরজ আলী
jugantor
গানের সুরে সবাইকে মুগ্ধ করেন বাউল আরজ আলী

  তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) থেকে  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ১৪:২২:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

‘সত্য বল সুপথে চল, ওরে আমার মন’— লালনের এই বিখ্যাত গান ছাড়াও নানা ধরনের ভক্তিমূলক ও দেহতত্ত্ব গান গেয়ে বেড়ান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের বালিচান্দা গ্রামের বাউল আরজ আলী (৫৭)।

নিজের অসহায় জীবনের কথাও মাঝে মাঝে তার গানে তুলে ধরেন। কখনও দরাজ গলায় গেয়ে ওঠেন— ‘তুমি মানুষ হইয়া জন্ম নিয়া কি করিলা’, ‘জীবন মানেই তো যন্ত্রণা’ অথবা ‘মানুষ ধর মানুষ ভজ-শোন বলিরে পাগল মন’। আবার কখনও হাসন রাজা, বাউল শাহ আব্দুল করিমের গান গেয়ে পথে চলাচল করা সাধারণ মানুষ, অফিসপাড়ার অফিসারসহ কর্মরত অন্য কর্মচারীদের মাতিয়ে রাখেন তিনি।

অভাবের তাড়নায় রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে বেড়ান আরজ আলী। জন্মের আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাকেও হারিয়েছেন। তাই জন্মের পর থেকেই কারও সহায়তা পাননি তিনি।

ছোটবেলায় আঘাতের কারণে তার ডান কানে কম শোনেন। আরজ আলী কোনো কাজেই মন বসাতে পারেননি। ওই এলাকার প্রখ্যাত নবী বাউলের শিষ্যত্ব বরণ করে হাতে তুলে নেন একতারা। শুরু হয় নতুন জীবন। সুরের মাঝে খুঁজে পেতে চান স্রষ্টার নির্দেশনা।

এক হাতে খঞ্জনী অন্য হাতে একতারা টেনে টেনে গান গেয়ে বেড়ান উপজেলার নানা প্রান্তে। অসাধারণ তার গায়কী। সোমবার দুপুরে উপজেলা চত্বরে গান পরিবেশন শেষে তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলাম। তার জীবনে নানা কথা তুলে ধরে যুগান্তরকে বলেন, আমি বেলহা (বোকা) দেইখ্যা, আমারে ছুডুত্যে হগলেই বলছে— আমারে দিয়া কুছতা অইতো না, আমার ভিক্কা হরা ছাড়া উহায় নাই, হের পরতে কষ্ট লাগছে, আমি ভিক্কা হরতাম না, হেরপর উস্তাদ নবী বাউলের টাইন গান ধরছি, অহন গান নিয়া চালাই আমার জীবন। আমি রাস্তার গায়ক, আমি ভালাই আছি।

ইতোমধ্যে সরকারি কাজে দুর্গাপুরে যান জেলা প্রশাসক কাজী মো. আব্দুর রহমান। বাউল আরজ আলীর কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান শুনে বিমোহিত হন। পাশাপাশি তার পুরনো একতারা ও বিবর্ণ পোশাক দেখে চিন্তা করেন বাউলকে নতুনভাবে সাজানোর।

এর পর রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাউলকে নতুন পোশাক পরিয়ে (বাউলের চাহিদামতো) হাতে তুলে দেন নতুন একটি বেহালা। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল আহসান।

গান করতে কেমন লাগে এমন প্রশ্ন করলে আরজ আলী বলেন, নবীর দীক্ষা-করিও না ভিক্ষা, নবীজি ভিক্ষা পছন্দ করতেন না। তাই ভিক্ষা না করে গান করার সিদ্ধান্ত নিই। মানুষ গান শুনে খুশিই হয়। কেউবা দুই-চার টাকা দেন, তাই দিয়েই জীবন চালাই।

সরকারের কাছে কোনো চাওয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা অসহায় বা বয়স্কভাতার কার্ড আর একটা সরকারি ঘর দিলে ভালা অইতো, আমার খুব ইচ্ছা ছিল টেলিহিসনে (টেলিভিশন) গান করতাম, জীবনে একবার সুযুগ পাইলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়া আমার লেহা একটা গান গাওনের ইচ্ছা আছিন।

ইউএনও রাজীব বলেন, আরজ আলীর মতো এমন অনেক বাউল আছেন, যারা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ভালোবেসে গান করতে চান, এদের মধ্যে আরজ আলী একজন।

উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ধরনের শিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে শিল্পীদের ভাতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যুগান্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরজ আলীর আবেদন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে টেলিভিশনে একটা গান করতে চান।

গানের সুরে সবাইকে মুগ্ধ করেন বাউল আরজ আলী

 তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) থেকে 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘সত্য বল সুপথে চল, ওরে আমার মন’— লালনের এই বিখ্যাত গান ছাড়াও নানা ধরনের ভক্তিমূলক ও দেহতত্ত্ব গান গেয়ে বেড়ান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের বালিচান্দা গ্রামের বাউল আরজ আলী (৫৭)।

নিজের অসহায় জীবনের কথাও মাঝে মাঝে তার গানে তুলে ধরেন। কখনও দরাজ গলায় গেয়ে ওঠেন— ‘তুমি মানুষ হইয়া জন্ম নিয়া কি করিলা’, ‘জীবন মানেই তো যন্ত্রণা’ অথবা ‘মানুষ ধর মানুষ ভজ-শোন বলিরে পাগল মন’। আবার কখনও হাসন রাজা, বাউল শাহ আব্দুল করিমের গান গেয়ে পথে চলাচল করা সাধারণ মানুষ, অফিসপাড়ার অফিসারসহ কর্মরত অন্য কর্মচারীদের মাতিয়ে রাখেন তিনি।

অভাবের তাড়নায় রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে বেড়ান আরজ আলী। জন্মের আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাকেও হারিয়েছেন। তাই জন্মের পর থেকেই কারও সহায়তা পাননি তিনি।

ছোটবেলায় আঘাতের কারণে তার ডান কানে কম শোনেন। আরজ আলী কোনো কাজেই মন বসাতে পারেননি। ওই এলাকার প্রখ্যাত নবী বাউলের শিষ্যত্ব বরণ করে হাতে তুলে নেন একতারা। শুরু হয় নতুন জীবন। সুরের মাঝে খুঁজে পেতে চান স্রষ্টার নির্দেশনা।

এক হাতে খঞ্জনী অন্য হাতে একতারা টেনে টেনে গান গেয়ে বেড়ান উপজেলার নানা প্রান্তে। অসাধারণ তার গায়কী। সোমবার দুপুরে উপজেলা চত্বরে গান পরিবেশন শেষে তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলাম। তার জীবনে নানা কথা তুলে ধরে যুগান্তরকে বলেন, আমি বেলহা (বোকা) দেইখ্যা, আমারে ছুডুত্যে হগলেই বলছে— আমারে দিয়া কুছতা অইতো না, আমার ভিক্কা হরা ছাড়া উহায় নাই, হের পরতে কষ্ট লাগছে, আমি ভিক্কা হরতাম না, হেরপর উস্তাদ নবী বাউলের টাইন গান ধরছি, অহন গান নিয়া চালাই আমার জীবন। আমি রাস্তার গায়ক, আমি ভালাই আছি।

ইতোমধ্যে সরকারি কাজে দুর্গাপুরে যান জেলা প্রশাসক কাজী মো. আব্দুর রহমান। বাউল আরজ আলীর কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান শুনে বিমোহিত হন। পাশাপাশি তার পুরনো একতারা ও বিবর্ণ পোশাক দেখে চিন্তা করেন বাউলকে নতুনভাবে সাজানোর।

এর পর রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাউলকে নতুন পোশাক পরিয়ে (বাউলের চাহিদামতো) হাতে তুলে দেন নতুন একটি বেহালা। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল আহসান।

গান করতে কেমন লাগে এমন প্রশ্ন করলে আরজ আলী বলেন, নবীর দীক্ষা-করিও না ভিক্ষা, নবীজি ভিক্ষা পছন্দ করতেন না। তাই ভিক্ষা না করে গান করার সিদ্ধান্ত নিই। মানুষ গান শুনে খুশিই হয়। কেউবা দুই-চার টাকা দেন, তাই দিয়েই জীবন চালাই।

সরকারের কাছে কোনো চাওয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা অসহায় বা বয়স্কভাতার কার্ড আর একটা সরকারি ঘর দিলে ভালা অইতো, আমার খুব ইচ্ছা ছিল টেলিহিসনে (টেলিভিশন) গান করতাম, জীবনে একবার সুযুগ পাইলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়া আমার লেহা একটা গান গাওনের ইচ্ছা আছিন।

ইউএনও রাজীব বলেন, আরজ আলীর মতো এমন অনেক বাউল আছেন, যারা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ভালোবেসে গান করতে চান, এদের মধ্যে আরজ আলী একজন।

উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ধরনের শিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে শিল্পীদের ভাতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যুগান্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরজ আলীর আবেদন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে টেলিভিশনে একটা গান করতে চান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন