মরার ওপর খাঁড়ার ঘা!
jugantor
মরার ওপর খাঁড়ার ঘা!

  কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ১৮:০২:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নদ-নদীতে গিয়ে হতাশ জেলেরা। আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না। অনেকে ফিরছে নিরাশ হয়ে। তাই দিনদিন দাদন আর ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে জেলেরা।

এরই মাঝে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তাই ইঞ্জিনচালিত নৌকা-ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে গিয়ে আসা যাওয়ার খরচই উঠছে না উপকূলীয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেদের। জেলেরা বলছেন, এটি তাদের কাছে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’য়ের মতো।

জেলেরা জানায়, একদিকে নদ-নদীতে ইলিশ কম। অন্যদিকে করোনা মহামারির সংকটে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। তাই অসহায় জেলেরা জড়িয়ে পড়ছে মহাজনের দাদন ও ঋণের জালে। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উপকূলের জেলেরা পড়েছে মহাবিপাকে। মাছ শিকারে গিয়ে তাদের অনেকের আসা-যাওয়ার জ্বালানি খরচই উঠছে না। কারও আবার জ্বালানি খরচ উঠলেও পরিশ্রম হয় বৃথা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জ্বালানি খরচ বাড়ায় উপজেলার চরমোন্তাজ ও কোড়ালিয়া ঘাটে অনেক জেলে নৌকা-ট্রলার গুটিয়ে ঘাটে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। সামনে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন জেলেরা।

মৎস্য আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব জেলেরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে তাদের এমনেতেই দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পুরো মৌসুমে জালে আশানুরূপ ইলিশও ধরা পড়েনি। এখন আবার চলছে জাটকা শিকারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এসব কারণে জেলেদের জীবন এখন বিপর্যস্ত।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এবার মাছ না পাওয়ায় এমনেতেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন তারা। অন্য মাছ ধরে যে জীবিকা নির্বাহ করবে, কোনোমতে সংসারের খরচ মেটাবে তারও কোন উপায় নেই। জ্বালানি প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে। যার কারণে ইঞ্জিন চালিত নৌকা-ট্রলার নিয়ে মাছ শিকার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জেলেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও এখন আগুন।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, লাভ তো দূরের কথা মাছ ধরে যদি খরচই না ওঠে তাহলে জেলেরা নদীতে গিয়ে কি করবে? জেলেদের নদীতে পাঠিয়ে তো লাভ নেই। আর জেলেরাই বা কেন মাছ ধরতে যাবে।

উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের জেলে নিজাম শিকদার বলেন, তেলের দাম যা অবস্থা! এক কেজি তেল কেনা লাগে ৮৫ টাকায়। তিন-চার কেজি তেল পুড়ে যে মাছ পাই তাতে তো তেলের দাম দেওয়ার পর খোরাকের (সংসারের সামগ্রী) চাল কিনতে পারি না। তারপর বাজারে সদায় পাতির (নিত্যসামগ্রী পণ্য) যে দাম! চাল, ডাল সবকিছুর দাম বেশি। আমদের তো এখন না খেয়ে মরার পালা।

ছোটবাইশদিয়া গ্রামের জেলে জাফর মীর বলেন, এহন (এখন) যে আমরা তেল কিনে খেয় (মাছ শিকার) যামু সেই পয়সাও নাই। গাঙে গিয়া তেলের অভাবে মাছও ধরতে পারছি না।

নয়াভাংগুনি গ্রামের জেলে আনছার মিয়া বলেন, নদীতে তেমন মাছ নাই। আমাদের এমনেতেই খরচ পোষায় না। আর এখন তেলের যে দাম তাতো নদীতে আসা যাওয়ার খরচই উঠবে না।

কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, জেলেরা এবার লোকসানের মধ্যে আছে। নদীতে মাছ কম। সাগরে কিছু মাছ পাওয়া যায়। সব জেলেরা তো আর সাগরে যায়ও না। জাটকা শিকারে আবার চলছে ৮ মাসের অবরোধ। যা একটু পোমা-ফ্যাসা (ফাইসা) মাছ ধরবে তারও কোনো উপায় নাই। তেলের যা দাম বাড়ছে, অনেক জেলে ঘাটে বসে আছে। তাদেরকে মাছ ধরতে পাঠানোর কায়দা নাই। আমরা সমিতি থেকেও কোনো সহযোগিতা করতে পারছি না। তাই ধারদেনা ও ঋণ করে জীবন চালাতে হচ্ছে জেলেদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়রুল ইসলাম বাবুল বলেন, এবার মাছের অকাল। নদীতে অসংখ্য ডুবোচরের কারণে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে সাগরে মোটামুটি জেলেদের জালে ভাল মাছ ধরা পড়ছে।

মরার ওপর খাঁড়ার ঘা!

 কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নদ-নদীতে গিয়ে হতাশ জেলেরা। আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না। অনেকে ফিরছে নিরাশ হয়ে। তাই দিনদিন দাদন আর ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে জেলেরা।

এরই মাঝে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তাই ইঞ্জিনচালিত নৌকা-ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে গিয়ে আসা যাওয়ার খরচই উঠছে না উপকূলীয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেদের। জেলেরা বলছেন, এটি তাদের কাছে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’য়ের মতো।

জেলেরা জানায়, একদিকে নদ-নদীতে ইলিশ কম। অন্যদিকে করোনা মহামারির সংকটে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। তাই অসহায় জেলেরা জড়িয়ে পড়ছে মহাজনের দাদন ও ঋণের জালে।  সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উপকূলের জেলেরা পড়েছে মহাবিপাকে। মাছ শিকারে গিয়ে তাদের অনেকের আসা-যাওয়ার জ্বালানি খরচই উঠছে না। কারও আবার জ্বালানি খরচ উঠলেও পরিশ্রম হয় বৃথা।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, জ্বালানি খরচ বাড়ায় উপজেলার চরমোন্তাজ ও কোড়ালিয়া ঘাটে অনেক জেলে নৌকা-ট্রলার গুটিয়ে ঘাটে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। সামনে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন জেলেরা।

মৎস্য আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব জেলেরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে তাদের এমনেতেই দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পুরো মৌসুমে জালে আশানুরূপ ইলিশও ধরা পড়েনি। এখন আবার চলছে জাটকা শিকারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এসব কারণে জেলেদের জীবন এখন বিপর্যস্ত।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এবার মাছ না পাওয়ায় এমনেতেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন তারা। অন্য মাছ ধরে যে জীবিকা নির্বাহ করবে, কোনোমতে সংসারের খরচ মেটাবে তারও কোন উপায় নেই।  জ্বালানি প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে। যার কারণে ইঞ্জিন চালিত নৌকা-ট্রলার নিয়ে মাছ শিকার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জেলেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও এখন আগুন।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, লাভ তো দূরের কথা মাছ ধরে যদি খরচই না ওঠে তাহলে জেলেরা নদীতে গিয়ে কি করবে? জেলেদের নদীতে পাঠিয়ে তো লাভ নেই। আর জেলেরাই বা কেন মাছ ধরতে যাবে।

উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের জেলে নিজাম শিকদার বলেন, তেলের দাম যা অবস্থা! এক কেজি তেল কেনা লাগে ৮৫ টাকায়। তিন-চার কেজি তেল পুড়ে যে মাছ পাই তাতে তো তেলের দাম দেওয়ার পর খোরাকের (সংসারের সামগ্রী) চাল কিনতে পারি না। তারপর বাজারে সদায় পাতির (নিত্যসামগ্রী পণ্য) যে দাম! চাল, ডাল সবকিছুর দাম বেশি। আমদের তো এখন না খেয়ে মরার পালা।

ছোটবাইশদিয়া গ্রামের জেলে জাফর মীর বলেন, এহন (এখন) যে আমরা তেল কিনে খেয় (মাছ শিকার) যামু সেই পয়সাও নাই। গাঙে গিয়া তেলের অভাবে মাছও ধরতে পারছি না।

নয়াভাংগুনি গ্রামের জেলে আনছার মিয়া বলেন, নদীতে তেমন মাছ নাই। আমাদের এমনেতেই খরচ পোষায় না। আর এখন তেলের যে দাম তাতো নদীতে আসা যাওয়ার খরচই উঠবে না।

কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, জেলেরা এবার লোকসানের মধ্যে আছে। নদীতে মাছ কম। সাগরে কিছু মাছ পাওয়া যায়। সব জেলেরা তো আর সাগরে যায়ও না। জাটকা শিকারে আবার চলছে ৮ মাসের অবরোধ। যা একটু পোমা-ফ্যাসা (ফাইসা) মাছ ধরবে তারও কোনো উপায় নাই। তেলের যা দাম বাড়ছে, অনেক জেলে ঘাটে বসে আছে। তাদেরকে মাছ ধরতে পাঠানোর কায়দা নাই। আমরা সমিতি থেকেও কোনো সহযোগিতা করতে পারছি না। তাই ধারদেনা ও ঋণ করে জীবন চালাতে হচ্ছে জেলেদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়রুল ইসলাম বাবুল বলেন, এবার মাছের অকাল। নদীতে অসংখ্য ডুবোচরের কারণে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে সাগরে মোটামুটি জেলেদের জালে ভাল মাছ ধরা পড়ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন