মেয়র হয়েই নান্নু ঢাকায় গ্রেফতার
jugantor
মেয়র হয়েই নান্নু ঢাকায় গ্রেফতার

  বগুড়া ব্যুরো  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ২০:৫৫:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মামলায় সোনাতলা থানা ও ডিবি পুলিশ রোববার রাতে তাকে ঢাকার মহাখালী থেকে গ্রেফতার করে।

সোমবার দুপুরে সোনাতলা থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, মেয়রকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, এজাহার সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে তাকে নৌকার টিকিট দেওয়া হয়নি। সেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শান্তি বাহিনীর সভাপতি মৃত সামসুল হকের ছেলে শাহিদুল বারী রব্বানীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম নান্নু দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আড়াই হাজারের বেশি ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। বিদ্রোহী হওয়ায় তাকে নির্বাচনের আগের দিন ১ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এছাড়া নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান এবং তার ভাই সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে নির্বাচনের দিন সকালে কানুপুর কেন্দ্রে মেয়র নান্নুর ওপর হামলা চালানো হয়। এর জের ধরে পরদিন ৩ নভেম্বর দুপুরে সোনাতলার মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে মেয়র ও পরাজিত মেয়রের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সেখানে মেয়র নান্নুর কর্মীদের হামলায় সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটনসহ চারজন আহত হন। পাল্টা হামলায় নান্নুসহ তিনজন আহত হয়।

এ ঘটনায় পরাজিত মেয়র প্রার্থী শাহিদুল বারী রব্বানী পক্ষের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নবীন আনোয়ার কমরেড সোনাতলায় থানায় মেয়র নান্নুকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুজন ও তদন্তে পাওয়া তিনজনকে গ্রেফতার করে। মেয়র নান্নু নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তুলতে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় নির্বাচন কমিশনে যান।

সোনাতলা থানা ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হামলা মামলার প্রধান আসামি মেয়র নান্নুর অবস্থান নিশ্চিত হন। এরপর বগুড়া ডিবি ও সোনাতলা থানা পুলিশের একটি টিম রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার মহাখালী এলাকা থেকে মেয়রকে গ্রেফতার করে। তাকে বগুড়া আনার পর সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এ নিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে সেদিনের হামলার ঘটনায় মেয়র নান্নুর পক্ষে কোনো মামলা হয়নি।

গ্রেফতার প্রসঙ্গে মেয়র নান্নু পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যানকে খুশি করতেই ও তাদের চাপের মুখে প্রশাসন নব-নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়রকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠাল।

মেয়র হয়েই নান্নু ঢাকায় গ্রেফতার

 বগুড়া ব্যুরো 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মামলায় সোনাতলা থানা ও ডিবি পুলিশ রোববার রাতে তাকে ঢাকার মহাখালী থেকে গ্রেফতার করে।

সোমবার দুপুরে সোনাতলা থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, মেয়রকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, এজাহার সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে তাকে নৌকার টিকিট দেওয়া হয়নি। সেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শান্তি বাহিনীর সভাপতি মৃত সামসুল হকের ছেলে শাহিদুল বারী রব্বানীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম নান্নু দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আড়াই হাজারের বেশি ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। বিদ্রোহী হওয়ায় তাকে নির্বাচনের আগের দিন ১ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এছাড়া নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান এবং তার ভাই সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে নির্বাচনের দিন সকালে কানুপুর কেন্দ্রে মেয়র নান্নুর ওপর হামলা চালানো হয়। এর জের ধরে পরদিন ৩ নভেম্বর দুপুরে সোনাতলার মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে মেয়র ও পরাজিত মেয়রের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সেখানে মেয়র নান্নুর কর্মীদের হামলায় সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটনসহ চারজন আহত হন। পাল্টা হামলায় নান্নুসহ তিনজন আহত হয়।

এ ঘটনায় পরাজিত মেয়র প্রার্থী শাহিদুল বারী রব্বানী পক্ষের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নবীন আনোয়ার কমরেড সোনাতলায় থানায় মেয়র নান্নুকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুজন ও তদন্তে পাওয়া তিনজনকে গ্রেফতার করে। মেয়র নান্নু নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তুলতে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় নির্বাচন কমিশনে যান।

সোনাতলা থানা ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হামলা মামলার প্রধান আসামি মেয়র নান্নুর অবস্থান নিশ্চিত হন। এরপর বগুড়া ডিবি ও সোনাতলা থানা পুলিশের একটি টিম রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার মহাখালী এলাকা থেকে মেয়রকে গ্রেফতার করে। তাকে বগুড়া আনার পর সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এ নিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে সেদিনের হামলার ঘটনায় মেয়র নান্নুর পক্ষে কোনো মামলা হয়নি।

গ্রেফতার প্রসঙ্গে মেয়র নান্নু পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যানকে খুশি করতেই ও তাদের চাপের মুখে প্রশাসন নব-নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়রকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠাল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন