পায়রা-মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমল ৯০ কিলোমিটার
jugantor
পায়রা-মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমল ৯০ কিলোমিটার

  বাগেরহাট ও মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি  

১০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩৮:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া এবং বাগেরহাটের শরণখোলা (রায়েন্দা) ফেরি উদ্বোধন করলেন দুই এমপি। পায়রা-মোংলা সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব কমল প্রায় ৯০ কিলোমিটার। তবে বড়মাছুয়া অংশের অবকাঠামো এখনো অসম্পন্ন রয়েছে।

বুধবার সকালে রায়েন্দা ফেরিঘাটে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী এবং বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন বলেশ্বর নদীতে চলাচলের এ ফেরি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। এতে দুইপাড়ের মানুষের দীর্ঘ ৫০ বছর পর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মঠবাড়িযা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত, মঠবাড়িয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সিফাতসহ দুই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. মোজাম্মেল হোসেন ২০১৮ সালের ১৭ জুন ফেরির দাবিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (চাহিদা পত্র) প্রদান করেন। এই দুই এমপির ডিও লেটারের আলোকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ উদ্যোগে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবরে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। তার তৎপরতায় ফেরি বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও দ্রুত ত্বরান্বিত হয়।

সর্বশেষ পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলনের প্রচেষ্টায় আলোর মুখ দেখে বলেশ্বরের দুইপাড়ের মানুষ।

তবে বড়মাছুয়া ঘাট থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। সংযোগ সড়কের ১০০ মিটার পর থেকে বাকি সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, অপ্রশস্ত ও ভাঙাচোরা। তিন-চারটি গার্ডার ব্রিজের অবস্থাও খুবই দুর্বল। এই সড়ক থেকে ভারী যানবাহন চলতে গিয়ে পড়তে হবে দুর্ভোগে। তাই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানায় দুই পারের মানুষ।

বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাগেরহাট এবং পিরোজপুর জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ফেরী ও ফেরিঘাটের কাজ বাস্তবায়ন করছে। বলেশ্বরের এই ফেরির কারণে পায়রা থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দরের দূরত্ব ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার কমে গেছে। ফেরির সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে পিরোজপুর সড়ক বিভাগ।

পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে যোগাযোগ উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এক রোল মডেল। তারই ধারাবাহিকতায় বলেশ্বর নদের ফেরি যুক্ত হওয়ায় যোগাযোগে আরও এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এ ফেরি চালু হওয়ায় খুলনার সঙ্গে বরিশাল বিভাগ এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের মধ্যে তৈরি হবে এক সেতুবন্ধন। এই ফেরি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পায়রা-মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমল ৯০ কিলোমিটার

 বাগেরহাট ও মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
১০ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া এবং বাগেরহাটের শরণখোলা (রায়েন্দা) ফেরি উদ্বোধন করলেন দুই এমপি। পায়রা-মোংলা সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব কমল প্রায় ৯০ কিলোমিটার। তবে বড়মাছুয়া অংশের অবকাঠামো এখনো অসম্পন্ন রয়েছে। 

বুধবার সকালে রায়েন্দা ফেরিঘাটে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী এবং বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন বলেশ্বর নদীতে চলাচলের এ ফেরি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। এতে দুইপাড়ের মানুষের দীর্ঘ ৫০ বছর পর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মঠবাড়িযা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত, মঠবাড়িয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সিফাতসহ দুই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. মোজাম্মেল হোসেন ২০১৮ সালের ১৭ জুন ফেরির দাবিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (চাহিদা পত্র) প্রদান করেন। এই দুই এমপির ডিও লেটারের আলোকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ উদ্যোগে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবরে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। তার তৎপরতায় ফেরি বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও দ্রুত ত্বরান্বিত হয়।

সর্বশেষ পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলনের প্রচেষ্টায় আলোর মুখ দেখে বলেশ্বরের দুইপাড়ের মানুষ।

তবে বড়মাছুয়া ঘাট থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। সংযোগ সড়কের ১০০ মিটার পর থেকে বাকি সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, অপ্রশস্ত ও ভাঙাচোরা। তিন-চারটি গার্ডার ব্রিজের অবস্থাও খুবই দুর্বল। এই সড়ক থেকে ভারী যানবাহন চলতে গিয়ে পড়তে হবে দুর্ভোগে। তাই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানায় দুই পারের মানুষ।

বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাগেরহাট এবং পিরোজপুর জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ফেরী ও ফেরিঘাটের কাজ বাস্তবায়ন করছে। বলেশ্বরের এই ফেরির কারণে পায়রা থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দরের দূরত্ব ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার কমে গেছে। ফেরির সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে পিরোজপুর সড়ক বিভাগ।

পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে যোগাযোগ উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এক রোল মডেল। তারই ধারাবাহিকতায় বলেশ্বর নদের ফেরি যুক্ত হওয়ায় যোগাযোগে আরও এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এ ফেরি চালু হওয়ায় খুলনার সঙ্গে বরিশাল বিভাগ এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের মধ্যে তৈরি হবে এক সেতুবন্ধন। এই ফেরি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন