আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল মা-ছেলের
jugantor
আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল মা-ছেলের

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

১০ নভেম্বর ২০২১, ২০:৪৮:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড রঙ্গিপাড়া এলাকার আবদুস শুক্কুরের বাড়ি প্রকাশ ফজল হক সওদাগরের বাড়িতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চমেক হাসপতালের বার্ন ইউনিটে বৃষ্টি বেগম (২০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টি বেগম নিহত ছয় মাসের বাচ্ছা রোহানের মা।

প্রতিদিনের মতো মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল ৫ মাস বয়সী শিশু রোহান। হঠাৎ বসতঘরে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে বৃষ্টি বেগম (২০) ও তার ৫ মাসের ছেলে রোহানে নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন আরও ৬ জন। এ সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।

বুধবার ভোরে হাটহাজারী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড রঙ্গিপাড়া এলাকার আবদুস শুক্কুরের বাড়ি প্রকাশ ফজল হক সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর সাড়ে এলাকায় আবু তাহেরের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে এর লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাত পরিবারের বসতঘর ও ঘরে থাকা যাবতীয় মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে দুইটি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- হাফেজ আবু তাহের, মো. শাহ আলম, মাবিয়া খাতুন, নুরুল আলম, ফোরক আহমদ, নুর নাহার বেগম ও শাহজাহান। এছাড়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আনোয়ারা বেগম (৪০), লাকি আকতার (৪৫), মো. কালা মিয়া মানিক (২০), ছেনোয়ারা বেগম (৬০) ও জানে আলম (২৪)।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাহামি সাবের চৌধুরী জানান, বুধবার ভোরে আগুন নেভাতে আসা স্থানীয় ব্যক্তিরা অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। পরে তাদের চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন বলে জানিয়েছে প্রতিবেশী মো. আলাউদ্দীন ও মো. আরজু জানান।

এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হওয়া যে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে বৃষ্টি বেগম ও তার পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি মারা গেছে। অগ্নিদগ্ধ বাকিদের সবার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদের মধ্যে আনোয়ারা বেগম (৪০) শরীরের ২২ শতাংশ, লাকি আকতার (৪৫) শরীরের ১০ শতাংশ, ছেনোয়ারার (৬০) শরীরের ১০ শতাংশ, কালা মিয়া মানিকের (১৫) শরীরের ২৫ শতাংশ, জানে আলমের (২৪) হাত-পা পুড়ে গেছে।

ঘটনা নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহজাহান। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাটহাজারী ইউএনও মো. শাহিদুল আলম ও পৌরসভার সহায়ক কমিটির সদস্য আলী আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও মো. শাহিদুল আলম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সাত পরিবারকে দুই বান্ডিল টিন, নগদ ৬ হাজার টাকা, ৫টি করে কম্বল ও খাদ্যসাসগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তাছাড়া নিহত শিশু রোহানের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৫০ কেজি ওজনের তিন বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে।

আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল মা-ছেলের

 হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
১০ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড রঙ্গিপাড়া এলাকার আবদুস শুক্কুরের বাড়ি প্রকাশ ফজল হক সওদাগরের বাড়িতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চমেক হাসপতালের বার্ন ইউনিটে বৃষ্টি বেগম (২০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টি বেগম নিহত ছয় মাসের বাচ্ছা রোহানের মা। 

প্রতিদিনের মতো মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল ৫ মাস বয়সী শিশু রোহান। হঠাৎ বসতঘরে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে বৃষ্টি বেগম (২০) ও তার ৫ মাসের ছেলে রোহানে নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন আরও ৬ জন। এ সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
 
বুধবার ভোরে হাটহাজারী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড রঙ্গিপাড়া এলাকার আবদুস শুক্কুরের বাড়ি প্রকাশ ফজল হক সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর সাড়ে এলাকায় আবু তাহেরের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে এর লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে  সাত পরিবারের বসতঘর ও ঘরে থাকা যাবতীয় মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে দুইটি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- হাফেজ আবু তাহের, মো. শাহ আলম, মাবিয়া খাতুন, নুরুল আলম, ফোরক আহমদ, নুর নাহার বেগম ও শাহজাহান। এছাড়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আনোয়ারা বেগম (৪০), লাকি আকতার (৪৫), মো. কালা মিয়া মানিক (২০), ছেনোয়ারা বেগম (৬০)  ও জানে আলম (২৪)। 

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাহামি সাবের চৌধুরী জানান, বুধবার ভোরে আগুন নেভাতে আসা স্থানীয় ব্যক্তিরা অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। পরে তাদের চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন বলে জানিয়েছে প্রতিবেশী মো. আলাউদ্দীন ও মো. আরজু জানান।

এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হওয়া যে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে বৃষ্টি বেগম ও তার পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি মারা গেছে। অগ্নিদগ্ধ বাকিদের সবার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদের মধ্যে আনোয়ারা বেগম (৪০) শরীরের ২২ শতাংশ, লাকি আকতার (৪৫) শরীরের ১০ শতাংশ, ছেনোয়ারার (৬০) শরীরের ১০ শতাংশ, কালা মিয়া মানিকের (১৫) শরীরের ২৫ শতাংশ, জানে আলমের (২৪) হাত-পা পুড়ে গেছে।

ঘটনা নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহজাহান। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাটহাজারী ইউএনও মো. শাহিদুল আলম ও পৌরসভার সহায়ক কমিটির সদস্য আলী আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও মো. শাহিদুল আলম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সাত পরিবারকে দুই বান্ডিল টিন, নগদ ৬ হাজার টাকা, ৫টি করে কম্বল ও খাদ্যসাসগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

তাছাড়া নিহত শিশু রোহানের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৫০ কেজি ওজনের তিন বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন